জাকসু নির্বাচন কমিশন কার্যালয় উচ্ছেদের প্রশাসনিক চক্রান্তের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এর তীব্র প্রতিবাদ
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
জবি প্রতিনিধি :
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) নির্বাচন কমিশন কার্যালয় সরিয়ে সেখানে শিক্ষক সমিতির কার্যালয় বসানোর হীন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতীক জাকসু নির্বাচন কমিশন অফিসকে অবকাঠামোগতভাবে বিলুপ্ত করার এই পাঁয়তারা স্পষ্টতই আগামী জাকসু নির্বাচনকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দেওয়ার একটি নগ্ন অপচেষ্টা।
জাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী নির্বাচনের কোনো তফসিল বা নির্বাচনী প্রস্তুতি গ্রহণ করেনি। বরং নতুন প্রশাসন আসার পর যেখানে নির্বাচনের একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া জারি রাখার উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল, সেখানে রাতের আঁধারে নির্বাচন কমিশনের আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়া এবং সেই কক্ষ শিক্ষক সমিতিকে উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত হতাশাজনক ও ধৃষ্টতাপূর্ণ।
নতুন প্রশাসন আসার পর যেখানে জাকসুর একটি নতুন রোডম্যাপ বা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল, সেখানে নির্বাচন কমিশনের আসবাবপত্র বা কার্যালয় সরিয়ে নেওয়া অত্যন্ত নেতিবাচক ও হতাশাজনক। এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং ইতিহাস ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে এর জবাবদিহিতা প্রশাসনকেই দিতে হবে।
জাকসুর প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা নতুন কিছু নয়। তিন দশকের অচলাবস্থা কাটিয়ে অনুষ্ঠিত বিগত ১০ম জাকসুও প্রশাসনের কাঠামোগত ব্যর্থতা, ও নজিরবিহীন সমন্বয়হীনতার কারণে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। সেই ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা নিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পরিবর্তে বর্তমান প্রশাসন পুরো জাকসু ব্যবস্থাটিকেই অকার্যকর করে দেওয়ার নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে। নির্বাচন কমিশন কার্যালয় বিলুপ্ত করার এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে প্রশাসন সাধারণ শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হতে ভয় পায় এবং ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা এড়াতে চায়।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন স্পষ্ট হুঁশিয়ারি জানাচ্ছে, জাকসু নির্বাচন কমিশন কার্যালয় স্থানান্তরের ষড়যন্ত্র অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং অবিলম্বে কার্যালয়ের পূর্ণ অবস্থান বহাল রাখতে হবে। জাকসু নিয়ে কোনো প্রকার টালবাহানা বা কালক্ষেপণ সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না। প্রশাসনকে অবিলম্বে ১১তম জাকসু নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও তফসিল ঘোষণা করতে হবে। অন্যথায় ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষা ও শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ছাত্র ইউনিয়ন শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে।