চট্টগ্রামকে বিনিয়োগবান্ধব নগরী হিসেবে গড়তে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে চাই: ডা. শাহাদাত
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম
চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ হাসান:
চট্টগ্রাম নগরের মশকনিধন কার্যক্রমে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট, ইউএস কমার্শিয়াল সার্ভিসের কমার্শিয়াল স্পেশালিস্ট মাশহুর আলম শেঠ এবং হোটেল আগ্রাবাদ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের গ্রুপ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইরাদ আলী।
বৈঠকে নগরের মশকনিধন কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে চসিকের চলমান বিটিআই (Bti) প্রযুক্তির পাশাপাশি বিটিআই ডাঙ্কস ও বিটিআই বিটস ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরেন মার্কিন প্রতিনিধিরা। তাঁরা জানান, এসব জৈব লার্ভিসাইড জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভা ধ্বংস করতে কার্যকর এবং নির্ধারিত নিয়মে ব্যবহার করলে মানুষ ও পরিবেশের জন্য তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ।
এ সময় ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ ও বিনিয়োগবান্ধব আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সিটি করপোরেশন। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় মশকনিধন কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী পরীক্ষিত আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই।
তিনি বলেন, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে শুধু মশা নিধন নয়, মশার প্রজননস্থল শনাক্ত, লার্ভা নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত নজরদারি ও নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিটিআই লার্ভা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হলেও পূর্ণবয়স্ক মশা নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা এবং প্রজননস্থল ধ্বংসের উদ্যোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠকে চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।
প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রাম দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরনগরী ও অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। বন্দর, শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ অবকাঠামোর সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে চাই। এ জন্য উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন প্রয়োজন।
বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদল নগর ব্যবস্থাপনা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তির সম্ভাব্য প্রয়োগ এবং চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।