পঞ্চগড়ের বোদা ভূমি অফিসে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে আলোচনা

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

সঞ্জু বণিক সৌরভ | পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি

পঞ্চগড় | ২৮ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি ফি দিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ভূমিসেবা—এমন অভিযোগ উঠেছে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে। জমির নামজারি থেকে শুরু করে শুনানির তারিখ নির্ধারণ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রার্থীরা। এরই মধ্যে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগসংবলিত কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন মাধ্যমে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভূমি অফিসের সেবার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, জমির নামজারি, কাগজপত্র যাচাই ও শুনানির তারিখ নির্ধারণের মতো বিভিন্ন কাজে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে এক থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের তিন কর্মচারীর নাম উঠে এসেছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী আল আমিন লাবু ও অফিস সহায়ক হারুন অর-রশীদের বিরুদ্ধে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার দৃশ্য থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সার্ভেয়ার আবু সোয়েবের বিরুদ্ধেও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তিনি বর্তমানে দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত।

অভিযোগ রয়েছে, জমির নামজারির ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ ও দলিলের ধরন বিবেচনায় পাঁচ হাজার টাকা বা তার বেশি দাবি করেন সার্ভেয়ার আবু সোয়েব। অভিযোগ অনুযায়ী, এই অর্থ সরাসরি না নিয়ে আল আমিন লাবুর মাধ্যমে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, নামজারির বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে তিন থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আল আমিন লাবুর বিরুদ্ধে। নামজারির শুনানির তারিখ নির্ধারণ ও সিরিয়াল দেওয়ার নামে অফিস সহায়ক হারুন অর-রশীদ এক হাজার টাকা করে নেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভূমিসেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের কাছে অতিরিক্ত এক থেকে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বাড়ছে ভোগান্তি। প্রয়োজনীয় সেবা পেতে অনেকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দেন বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

তবে নতুন করে হয়রানির আশঙ্কায় অভিযোগকারী কয়েকজন সেবাগ্রহীতা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আবু সোয়েব বলেন, তিনি সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন সেখানে যান। সহকারী কমিশনার (ভূমি) যেসব কাগজপত্র বাতিল করেন বা যে সিদ্ধান্ত দেন, সেগুলো যাচাই করে তিনি প্রতিবেদন দেন। এর বাইরে তিনি কিছু জানেন না। তাঁর নাম ব্যবহার করে কেউ কারও কাছ থেকে টাকা নিলে, সেটি তাঁর বিষয় নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক হারুন অর-রশীদ ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, অফিসে সিসি ক্যামেরা থাকায় ঘুষ নেওয়ার সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী আল আমিন লাবুকে অফিসে পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, উপজেলা ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর অনিয়মসংক্রান্ত কিছু ভিডিও ও ছবি তিনি দেখেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com