চট্টগ্রামে এক দিনে এক লাখ গাছ রোপণ, অংশ নেবেন ১৫ হাজার মানুষ

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫১ এএম

চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ হাসান:

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়ন কার্যক্রম জোরদার করতে চট্টগ্রাম জেলায় এক দিনে এক লাখ গাছ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জেলার ১৬টি উপজেলায় একযোগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ অংশ নেবেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ডিসি পার্কে কর্মসূচির প্রস্তুতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এসব তথ্য জানান।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলন করি। কিন্তু আগামীকাল আমাদের এই ১৫ হাজার মানুষের আন্দোলন হবে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন।’

তিনি জানান, কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রথম চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হবে। পরে ডিসি পার্কে তাঁর হাতেই এক লাখতম চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তুত প্রায় ৮৬ হাজার গর্ত

জেলা প্রশাসক জানান, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চারা রোপণের জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ৮৬ হাজার গর্ত প্রস্তুত করা হয়েছে। কর্মসূচি শুরুর আগেই বাকি গর্ত তৈরির কাজ শেষ করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, প্রতিষ্ঠান ও এতিমখানায় চারা বিতরণও শুরু হয়েছে।

কর্মসূচির প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চারা রোপণের পাশাপাশি পরিচর্যায় গুরুত্ব

শুধু গাছ লাগানো নয়, রোপণ করা চারাগুলো টিকিয়ে রাখাকে এ কর্মসূচির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘গাছ লাগালেই কাজ শেষ হয়ে যাবে না। গাছগুলোর সঠিক পরিচর্যাও করতে হবে।’

চারার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বেড়া দেওয়া এবং নিয়মিত তদারকির জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোপণের পর কোনো চারা মারা গেলে বা দুর্বল হয়ে পড়লে তার পরিবর্তে নতুন চারা লাগানোর জন্য অতিরিক্ত ১০ থেকে ২০ হাজার চারা মজুত রাখা হয়েছে।

পরিচর্যা ও তদারকির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ কার্যক্রমে বন বিভাগ কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

সরকারি অর্থ ব্যয় ছাড়াই কর্মসূচি

জেলা প্রশাসক জানান, সরকারের কোনো অর্থ ব্যয় ছাড়াই এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চারা সংগ্রহ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য তিনি সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশন, বন বিভাগ, বেসরকারি সংস্থা এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, নতুন গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণেও সবাইকে সচেতন হতে হবে। মানুষের প্রয়োজন মেটাতে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চলবে। তবে সেই উন্নয়ন যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি না করে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান

বৃক্ষরোপণকে কেবল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত পরিচর্যা ও পরিবেশ সংরক্ষণের সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

তিনি বলেন, ‘এই আন্দোলন আমাদের বেঁচে থাকার আন্দোলন। এই আন্দোলন আমাদের আগামী প্রজন্মের বেঁচে থাকার আন্দোলন।’

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সর্বস্তরের নাগরিকদের বৃক্ষরোপণ ও গাছের পরিচর্যায় সম্পৃক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com