লোকসানের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় নতুন করে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত কৃষকরা

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৪ পিএম

জয়পুরহাট প্রতিনিধি: আব্দুল কাদের

আলু আর ধান জয়পুরহাটের প্রাণ, গত বছরের লোকসানের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় নতুন করে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার কৃষকরা। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়েছে আগাম জাতের আলু রোপণ। আমন ধান ও অন্যান্য ফসল কাটার পর জমি ফেলে না রেখে বাড়তি আয়ের আশায় আলু চাষ করছেন তারা। তবে বীজ, সার, জ্বালানি ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় এবারও উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত বছরের এই সময়ে বাজারে আলুর সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় আগাম জাতের আলু ভালো দামে বিক্রির সম্ভাবনা থাকে। এ আশায় প্রতিবছর অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম আলু চাষ শুরু করেন কৃষকরা। কিন্তু গত বছর প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষককে লোকসান গুনতে হয়েছে। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবারও নতুন উদ্যমে মাঠে নেমেছেন তারা।

কৃষকরা জানান, আলু চাষে উৎপাদন খরচ প্রতিবছরই বাড়ছে। এবার বীজের দামও বেড়েছে। গত বছর যে বীজ ১ হাজার ২০০ টাকায় কিনেছিলেন, এবার তা কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। পাশাপাশি সার, জ্বালানি ও শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। সার সংগ্রহের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র ব্যবহারের বাধ্যবাধকতায় ভোগান্তির কথাও জানিয়েছেন তারা। ফলে ভালো ফলন হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না পেলে আবারও লোকসানে পড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

কৃষক রফিকুলসহ অনেকেই জানান, গত বছরের লোকসান এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি তারা। তবুও জমি ফেলে না রেখে আগাম আলু চাষ করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। তবে উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আলুর দাম না পেলে সেই আশা হতাশায় পরিণত হতে পারে।

এদিকে আগাম আলু রোপণকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ শ্রমবাজারেও কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে।

আমন ধান কাটার পর জমি প্রস্তুত, আলু রোপণ ও পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় শ্রমিকরা। এতে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমজীবী মানুষের সাময়িক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দীন বলেন, গত সপ্তাহ থেকে উপজেলায় আগাম জাতের আলু চাষ শুরু হয়েছে। 

এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হেক্টর জমিতে আলু রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। আগাম জাতের এ আলু ৫০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে উত্তোলন করা যায়। কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চাষাবাদ করলে কৃষকরা ভালো ফলন পাবেন বলে আশা করছেন তিনি।

তবে কৃষকদের প্রত্যাশা, ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারে আলুর ন্যায্য দাম নিশ্চিত হবে। এতে গত বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে তাদের সংসারে।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com