জয়পুরহাটে ঐতিহ্য ধরে রেখেছে মৃৎশিল্পীরা, সরকারি সহযোগিতার দাবি
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
জয়পুরহাট প্রতিনিধি: আব্দুল কাদের
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়-জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার দক্ষিণ হাটশহর গ্রামে এখনো টিকে আছে বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। বংশপরম্পরায় মাটির তৈরি বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র ও ব্যবহার্য সামগ্রী তৈরি করে আসছেন এখানকার মৃৎশিল্পীরা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষের জীবনযাত্রায় নানা পরিবর্তন এলেও মাটির তৈরি সামগ্রী নির্মাণের এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন তারা।
দক্ষিণ হাটশহর গ্রামের মৃৎশিল্পীরা নিজেদের দক্ষ হাতের কারুকাজে সাধারণ মাটিকে রূপ দিচ্ছেন নানা ধরনের নান্দনিক ও ব্যবহার উপযোগী সামগ্রীতে। তাদের এই শিল্পকর্মে ফুটে উঠেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বহু বছরের অভিজ্ঞতা। মাটির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রেখে তারা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছেন পূর্বপুরুষদের পেশা ও ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে।
তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই শিল্পের সামনে তৈরি হচ্ছে নানা চ্যালেঞ্জ। আধুনিক প্লাস্টিক, স্টিল ও অন্যান্য উপকরণে তৈরি পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় মাটির তৈরি সামগ্রীর বাজার ধরে রাখা অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি উৎপাদন খরচ, কাঁচামাল সংগ্রহ এবং পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার মতো বিষয়গুলোও মৃৎশিল্পীদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তারপরও থেমে নেই দক্ষিণ হাটশহরের মৃৎশিল্পীরা। নিজেদের শ্রম, মেধা ও ভালোবাসা দিয়ে তারা এখনো জয়পুরহাটের ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। তাদের এই কাজ শুধু জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম নয়, বরং গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সরকারি সহযোগিতা পেলে ঘুরে দাঁড়াতে পারে মৃৎশিল্প
দক্ষিণ হাটশহরের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মৃৎশিল্পীদের সহজ শর্তে ঋণ, আর্থিক অনুদান, আধুনিক প্রশিক্ষণ, উন্নত উৎপাদন সরঞ্জাম এবং পণ্য বাজারজাতকরণের সুযোগ দেওয়া হলে তারা আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন।
এ ছাড়া স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে মেলা, প্রদর্শনী এবং অনলাইন বিপণনের মাধ্যমে মাটির তৈরি পণ্যের পরিচিতি বাড়ানো গেলে নতুন ক্রেতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব ও ঐতিহ্যবাহী পণ্য হিসেবে মাটির সামগ্রীর প্রচার বাড়ানো গেলে এই শিল্পের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান, দক্ষিণ হাটশহরের মৃৎশিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং কার্যকর সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হোক। এতে একদিকে যেমন শিল্পীদের জীবন-জীবিকার উন্নতি হবে, অন্যদিকে তেমনি রক্ষা পাবে জয়পুরহাটের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প।
ঐতিহ্য বাঁচলে বাঁচবে সংস্কৃতি, আর শিল্পীরা বাঁচলে বেঁচে থাকবে বাংলার মাটির শিল্প। দক্ষিণ হাটশহরের মৃৎশিল্পীদের এই প্রচেষ্টা যেন হারিয়ে না যায়—এটাই এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।