ইবিকে ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ভাবনায় আইসিটি সেল প্রধানের পরিকল্পনা
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৩ পিএম
ইবি প্রতিনিধি :
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে (ইবি) একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে নিজের পরিকল্পনা ও রূপরেখা তুলে ধরেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের নবনিযুক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক বার্তায় বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সেবাবান্ধব করে গড়ার প্রত্যয় ও পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
ফেসবুক বার্তায় তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল সেবা নিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা রয়েছে। বিশেেষ করে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে ডিজিটালাইজড করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালনার ব্যবস্থা করা।
বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটালে রূপান্তর করতে ১২টি রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে— শিক্ষা, পরীক্ষা, প্রশাসন ও আর্থিক কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা; ভর্তি প্রক্রিয়া, রেজিস্ট্রেশন, পরীক্ষার ফল প্রকাশ,নম্বরপত্র ও সনদ, কোর্স ব্যবস্থাপনার যাবতীয় সেবা ডিজিটাল করা; এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন, ছুটি ও অন্যান্য প্রশাসনিক সেবা ডিজিটাল করা।
এছাড়া বিভিন্ন ফি পরিশোধ ও হিসাব ব্যবস্থাকে অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে সহজ ও স্বচ্ছ করা; ক্যাম্পাসে দ্রুতগতির ও নিরাপদ ইন্টারনেট এবং ওয়াই-ফাই নিশ্চিত করা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণ ও সার্ভার ব্যবস্থাপনার জন্য শক্তিশালী ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা; এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, দাপ্তরিক কাজ পর্যায়ক্রমে কাগজবিহীন বা ই-অফিসে রূপান্তর; অনলাইন শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বাড়ানো এবং সবার জন্য প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ ও সাহায্য ডেস্ক চালু করা।
তিনি জানান, এসব কাজের ক্ষেত্রে কোন দপ্তরের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব কতটুকু হবে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান বিধি ও সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। আইসিটি সেল সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা ও ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরি করতে কাজ করবে।
বর্তমান বাস্তবতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে এই ক্ষেত্রগুলোর মাত্র কয়েকটিতে খুবই সীমিত পরিসরে সেবা চালু রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা থেকে আমরা এখনো অনেকটাই দূরে। ফলে সবার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা রাতারাতি পূরণ করা অসম্ভব। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ ও স্বল্পমেয়াদে বিদ্যমান সেবাগুলোর মান বাড়ানো, জরুরি সমস্যার সমাধান করা এবং দৈনন্দিন ভোগান্তি কমানোর ওপর জোর দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, দীর্ঘমেয়াদে একটি সমন্বিত ডিজিটাল সিস্টেম, আধুনিক নেটওয়ার্ক এবং পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক অটোমেশন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল করতে প্রয়োজন প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা, পর্যাপ্ত বাজেট, দক্ষ জনবল এবং সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ। এটা সাময়িক কোনো চমক দেখানোর প্রতিশ্রুতি নয় বরং সততা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সবার গঠনমূলক পরামর্শ, সহযোগিতা এবং ধৈর্য প্রত্যাশা করছি।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান গত ১৮ অক্টোবর আইসিটি সেলের পরিচালক ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহজাহান আলীর স্থলে পরিচালক হিসেবে ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামকে নিয়োগ দেন। তবে এখনো তার নিকট দায়িত্ব হস্তান্তরিত হয়নি।
আরও পড়ুন
দুর্গোৎসবে সম্প্রীতির বার্তা, মহালছড়িতে দুই মন্দিরে উপজেলা বিএনপির আর্থিক উপহার
ঈশ্বরগঞ্জে মিছিল থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেফতার
ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে বাংলাদেশি পরিচয়, সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর