খাদ্যনিরাপত্তার সংকট: একদিকে অপচয়, অন্যদিকে ক্ষুধার হাহাকার

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪২ এএম

বাংলাদেশে বছরে বিপুল পরিমাণ খাদ্য নষ্ট হয়, অথচ লাখো মানুষ পর্যাপ্ত খাবার পায় না। এই বৈপরীত্য শুধু খাদ্যব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নয়; এটি দারিদ্র্য, বৈষম্য ও নীতিগত সীমাবদ্ধতারও প্রতিফলন। কৃষিতে উৎপাদন বেড়েছে, বাজারে খাদ্যপণ্যের সরবরাহও রয়েছে; কিন্তু সবার পাতে সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছাচ্ছে না। ফলে খাদ্যসংকটের প্রশ্নটি এখন আর কেবল উৎপাদনের নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতা এবং খাদ্যের ন্যায্য বণ্টন।

বিশ্বব্যাংক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) তথ্যের বরাতে প্রকাশিত হিসাবে, বাংলাদেশে খামার থেকে ভোক্তার টেবিল পর্যন্ত খাদ্য সরবরাহের বিভিন্ন পর্যায়ে বছরে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য নষ্ট ও অপচয় হয়। অন্যদিকে, ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে থেকে আগস্ট সময়ে দেশে প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ছিল। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ে এ সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৮১ লাখে পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে জরুরি পর্যায়ের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষের সংখ্যা ৪ লাখ ৮৩ হাজার থেকে বেড়ে ৭ লাখ ৮৭ হাজারে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিসংখ্যান আমাদের সামনে একটি কঠিন প্রশ্ন তুলে ধরে—একদিকে খাদ্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে মানুষের খাবার কেনার সামর্থ্য কমছে কেন? বাস্তবতা হলো, খাদ্যের মোট জোগান থাকলেই ক্ষুধার সমাধান হয় না। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, সুষ্ঠু বণ্টন এবং খাদ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করাই খাদ্যনিরাপত্তার প্রকৃত পরীক্ষা।

 

উৎপাদন বাড়লেই কি ক্ষুধা কমে?

প্রতি বছর ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত হয়। ১৯৪৫ সালের এই দিনে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রতিষ্ঠিত হয়। ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূর করা এবং সবার জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই দিবসটির তাৎপর্য। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ‘ইনোভেট টুডে, নারিশ টুমরো’—অর্থাৎ, ‘আজকের উদ্ভাবন, আগামীর পুষ্টি’। প্রতিপাদ্যটি মনে করিয়ে দেয়, খাদ্যসংকট মোকাবিলায় উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রযুক্তি, সংরক্ষণ, বণ্টন ও পুষ্টিবিষয়ক নীতিতে কার্যকর পরিবর্তন প্রয়োজন।

বাংলাদেশ কৃষি উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। কৃষকের শ্রম, উন্নত বীজ, সেচব্যবস্থা ও প্রযুক্তির ব্যবহার এ সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু উৎপাদনের সুফল সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছায়নি। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও সীমিত আয় নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর খাদ্যাভ্যাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও ফলমূলের মতো পুষ্টিকর খাবারের বদলে তারা তুলনামূলক সস্তা খাদ্যের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে পেট ভরলেও প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থেকে যায়।

অতএব, খাদ্যনিরাপত্তা পরিমাপের মানদণ্ড শুধু উৎপাদনের পরিমাণ হতে পারে না। দেখতে হবে, মানুষ নিয়মিত খাবার পাচ্ছে কি না, সেই খাবার পুষ্টিকর কি না এবং তা কেনার আর্থিক সামর্থ্য তার রয়েছে কি না।

এ সংকট মোকাবিলায় অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং দরিদ্র মানুষের জন্য কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করতে হবে। খাদ্য সহায়তা যেন প্রকৃত অভাবীদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

 

খাদ্য অপচয় রোধে চাই কার্যকর ব্যবস্থা

খাদ্যের অপচয় মানে শুধু খাবার ফেলে দেওয়া নয়; এর সঙ্গে নষ্ট হয় কৃষকের শ্রম, জমি, পানি, জ্বালানি ও উৎপাদনে বিনিয়োগ করা অর্থ। ফসল কাটার পর সংরক্ষণের অভাব, অপর্যাপ্ত হিমাগার, পরিবহনে বিলম্ব, দুর্বল বাজারব্যবস্থা এবং প্রক্রিয়াজাতকরণে সীমাবদ্ধতার কারণে কৃষিপণ্য নষ্ট হয়। ভোক্তা পর্যায়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার প্রস্তুত ও ফেলে দেওয়ার প্রবণতাও অপচয় বাড়ায়।

এ ক্ষতি কমাতে আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ, দ্রুত পরিবহনব্যবস্থা, কৃষকের সঙ্গে বাজারের সরাসরি সংযোগ এবং উৎপাদন-পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। হোটেল, রেস্তোরাঁ ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও অতিথির সংখ্যা অনুযায়ী খাবার প্রস্তুতের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য উদ্বৃত্ত খাবার সংগ্রহ করে অভাবী মানুষের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে সংরক্ষণ, পরিবহন ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। খাদ্য অপচয় রোধ একাই ক্ষুধা দূর করবে না, কিন্তু উৎপাদিত খাদ্যের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি: অধিকার, অনুগ্রহ নয়

পর্যাপ্ত খাবার পাওয়া গেলেও তা নিরাপদ না হলে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হয় না। খাদ্যে জীবাণু, ক্ষতিকর রাসায়নিক, অননুমোদিত রং ও দূষিত পানির উপস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি। উৎপাদন থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিক্রি—প্রতিটি ধাপে মান নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি খাদ্যকে অনিরাপদ করে তুলতে পারে।

এ জন্য নিয়মিত বাজার তদারকি, খাদ্য পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। সাময়িক অভিযাননির্ভর তৎপরতার বদলে নিয়মিত নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদেরও মুনাফার চেয়ে ভোক্তার স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

পুষ্টিকর খাবার সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়ার সুযোগও নিশ্চিত করা জরুরি। ডাল, ডিম, ছোট মাছ, শাকসবজি ও মৌসুমি ফল সুষম খাদ্যাভ্যাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু এসব খাবারও যখন নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়, তখন শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন কার্যকর বাজারব্যবস্থা ও সামাজিক সুরক্ষা।

বিশেষ করে শিশু, কিশোর-কিশোরী, গর্ভবতী নারী ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যালয়ে পুষ্টিশিক্ষা, মা ও শিশুর পুষ্টিসেবা এবং দরিদ্র পরিবারের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক খাদ্য সহায়তা জোরদার করা প্রয়োজন। শৈশবের পুষ্টিঘাটতি ব্যক্তির স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত করার পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নেও বাধা সৃষ্টি করে।

 

প্যাকেটজাত খাবারে সতর্কতামূলক লেবেল: সিদ্ধান্তের সময় এখনই

অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণের ঝুঁকিও বাড়ছে। এসব উপাদান অতিরিক্ত গ্রহণ স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই প্যাকেটজাত খাবারের পুষ্টিগত ঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাকে সহজ ও স্পষ্ট তথ্য দেওয়া জরুরি।

বিশ্ব খাদ্য দিবস সামনে রেখে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা, গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের সহযোগিতায় আয়োজিত এক ওয়েবিনারে প্যাকেটের সামনে বাধ্যতামূলক সতর্কতামূলক লেবেল চালুর দাবি জানিয়েছে। বক্তাদের মতে, ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং বা এফওপিএল ভোক্তাকে পণ্যের পুষ্টিগত ঝুঁকি বুঝতে এবং সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব জানিয়েছেন, ‘নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা ২০২৬’-এর খসড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

জনস্বাস্থ্যবিদ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, বাধ্যতামূলক এফওপিএল খাদ্যজনিত অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ ঘটে অসংক্রামক রোগের কারণে।

এখন প্রয়োজন খসড়া প্রবিধানমালার দ্রুত, স্বচ্ছ ও বিজ্ঞানভিত্তিক নিষ্পত্তি। খাদ্যশিল্পের মতামত বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু বাণিজ্যিক স্বার্থ যেন জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষাকে দুর্বল করতে না পারে। সতর্কতামূলক লেবেল হতে হবে দৃশ্যমান, সহজবোধ্য ও কার্যকর। একই সঙ্গে পুষ্টিশিক্ষার মাধ্যমে ভোক্তাদের সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

 

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে কৃষি ও খাদ্য সরবরাহ

বন্যা, খরা, লবণাক্ততা, অতিবৃষ্টি ও অনিয়মিত আবহাওয়া বাংলাদেশের কৃষির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। ফসলহানি হলে কৃষকের আয় কমে, উৎপাদন ব্যয় বাড়ে এবং বাজারে খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। শেষ পর্যন্ত এর চাপ পড়ে ভোক্তার ওপরও।

এই ঝুঁকি মোকাবিলায় জলবায়ুসহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবন, পানি সাশ্রয়ী সেচ, আবহাওয়ার আগাম পূর্বাভাস এবং কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের জন্য প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন ও বাজারসংযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।

কৃষক ন্যায্য মূল্য না পেলে উৎপাদন টেকসই হবে না; আবার উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা কার্যকর না হলে ভোক্তাও সাশ্রয়ী দামে খাদ্য পাবে না। তাই কৃষক ও ভোক্তার স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা খাদ্যনীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

 

সমন্বিত উদ্যোগ ও জবাবদিহিই সমাধানের পথ

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কোনো একক মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের নয়। কৃষি, বাণিজ্য, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষাবিষয়ক নীতির মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। খাদ্য উৎপাদন, মজুত, সরবরাহ, বাজারদর ও অপচয়ের নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জরুরি খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।

সরকারকে কার্যকর নীতিমালা ও নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে; ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীলভাবে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণন করতে হবে; কৃষককে দিতে হবে ন্যায্য মূল্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা। গণমাধ্যমের কাজ খাদ্যসংকট, ভেজাল ও পুষ্টি বিষয়ে তথ্যভিত্তিক জনমত গড়ে তোলা। নাগরিকদেরও প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার কেনা, অপচয় এড়ানো এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস চর্চা করা প্রয়োজন।

তবে সব দায় ব্যক্তিগত সচেতনতার ওপর চাপিয়ে দিলে চলবে না। বাজারে অনিয়ম প্রতিরোধ, নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

 

উপসংহার

খাদ্য উৎপাদনে অগ্রগতি তখনই সার্থক, যখন কোনো মানুষ অর্থের অভাবে ক্ষুধার্ত থাকে না এবং কেউ অনিরাপদ খাবার খেতে বাধ্য হয় না। বিপুল খাদ্য অপচয় আর লাখো মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা—এই বৈপরীত্য দূর করতে উৎপাদন থেকে ভোগ পর্যন্ত পুরো খাদ্যব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, ন্যায্য ও জনবান্ধব করতে হবে।

বিশ্ব খাদ্য দিবসে অঙ্গীকার হোক—খাদ্যের অপচয় রোধ, কৃষকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, পুষ্টিকর খাবার সাশ্রয়ী করা এবং জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন। ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শুধু খাদ্যের জোগান বাড়ালেই চলবে না; তা মানুষের নাগালে পৌঁছাতে হবে, থাকতে হবে কেনার সামর্থ্য এবং নিশ্চিত করতে হবে পুষ্টিমান।

খাদ্য বিলাসিতা নয়, বেঁচে থাকার অধিকার। সেই অধিকার নিশ্চিত করাই হোক বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রকৃত অঙ্গীকার।

লেখক: মোহাম্মদ হাসান, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com