বাড়েনি প্রতিমার দাম, প্রতিমা বিক্রি করে কাঙ্ক্ষিত লাভ মিলছেনা কারিগরদের

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম

হাসানুজ্জামান হাসান, লালমনিরহাট:

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার মন্দিরগুলোতে বসানো হচ্ছে প্রতিমা। চলছে শেষ মহুর্তের প্রস্তুতি। দিন-রাত কাজ করে দেবী দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক ও গণেশকে রূপ দিচ্ছেন শিল্পীরা। তবে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়লেও প্রতিমার কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় লোকসানে পড়েছে বলে দাবী প্রতিমা তৈরির কারিগরদের। 

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ‎দুর্গাপূজার পরেই অনুষ্ঠিত হবে লক্ষ্মী ও কালীপূজা। ফলে এবার কাজের চাপ বেশি থাকায় পালপাড়ায় পুরুষদের পাশাপাশি হাত লাগিয়েছেন পরিবারের নারী ও শিশুরাও। তবে মাটি, কাঠ, খড়, বাঁশ ও রংসহ সব পণ্যের দাম বাড়লেও প্রতিমার উপযুক্ত দাম পাচ্ছেন না বলে দাবি প্রতিমা কারিগরদের।

এসময় প্রতিমা কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‎প্রতিটি প্রতিমা বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায়। তবে মাটি, কাঠ, খড়, বাঁশ ও রংসহ প্রতিমা তৈরির সব উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে খরচও। ফলে এই দামে প্রতিমা বিক্রি করে কাঙ্ক্ষিত লাভ থাকছে না বলে জানান কারিগররা।

তাদের দাবি, প্রতিমা তৈরিতে খরচ বাড়লেও মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ সেই অনুযায়ী বাজেট দিচ্ছেন না। তবুও ধর্মীয় আবেগ ও পূর্বপুরুষদের পেশার টানে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন তারা। লোকসানের মুখে পড়েও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা এসব প্রতিমা শিল্পীদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতে সরকারের প্রতি দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রাও।

কালীগঞ্জে উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়নের কামাড় পাড়া এলাকার প্রতিমা কারিগর সুবল মোহন্ত, কাকিনা পাল পাড়া এলাকার কারিগর ফনিমল পাল ও ছবিতা পাল জানায়, প্রতিমা তৈরির সব উপকরণের দাম বেড়েছে, বেড়েছে শ্রমিক খরচও। ফলে পুর্বের দামে প্রতিমা বিক্রি করে কাঙ্ক্ষিত লাভ থাকছে না বলে জানান কারিগররা। 

তাদের দাবি, প্রতিমা তৈরিতে খরচ বাড়লেও মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ সেই অনুযায়ী বাজেট নেই। তবুও ধর্মীয় আবেগ ও পূর্বপুরুষদের পেশার টানে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন তারা। লোকসানের মুখে পড়েও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা এসব প্রতিমা শিল্পীরা সরকারি সহায়তা কামনা করেছেন।

তবে লালমনিরহাট সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু শিবেন্দ্র নাথ রায় শিবু জানান, কারিগরদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে এবং পূজা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। জেলায় এবার মোট ৪৮৯টি পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা পালিত হবে। 

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, জেলায় মোট ৪৮৯টি পূজা মণ্ডপের প্রতিটিতে ভ্রাম্যমান টহল টীমসহ সতর্ক অবস্থানে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রয়োজনীয় সকল ধরনের আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। 

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান জানান, জেলায় প্রতি পূজা মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল, মোট ২৮৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর প্রতিমা শিল্পীরা উপকরণগুলো যদি সরকারের মাধ্যমে তারা পেতে চান, তবে প্রতিমা শিল্পীরা একটি সংগঠন তৈরি করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com