জাবির হলে রুমমেটের বিরুদ্ধে উগ্র আচরণের অভিযোগ, দুই মাসেও জমা হয়নি তদন্ত প্রতিবেদন

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের একটি কক্ষে সিনিয়র রুমমেটের উগ্র ও মারমুখী আচরণের অভিযোগ তুলে বিচার চেয়েছিলেন তিন শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় অভিযোগের প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি। ফলে বিষয়টির চূড়ান্ত সুরাহা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী তিন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, হলের ৩০৯ নম্বর কক্ষে তাদের সঙ্গে থাকা বাংলা বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. রাসেলের আচরণে স্বাভাবিক জীবনযাপন, পড়াশোনার পরিবেশ ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তাকে অন্য কক্ষে স্থানান্তরের দাবিতে হল প্রভোস্টের কাছে যৌথ আবেদন করেন লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের মোশারফ হোসেন ও বিশ্বজিৎ ধর এবং চারুকলা বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের অংটাইমং মার্মা।

আবেদনে তারা অভিযোগ করেন, কক্ষ খোলা রাখা নিয়ে বিরোধের জেরে রাসেল তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং সর্বকনিষ্ঠ রুমমেট অংটাইমং মার্মাকে মারতে উদ্যত হন। এ ছাড়া মোশারফের সঙ্গে আগেও দুই দফা হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা। কক্ষে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা ও একাডেমিক আলোচনা নিয়েও আপত্তি জানানোয় পড়াশোনার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

তবে অভিযোগের বিষয়ে মো: রাসেল বলেন, কক্ষ খোলা রেখে বাইরে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি রুমমেটদের নিষেধ করেছিলেন। সেদিন তার এক হাজার টাকা হারিয়ে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। অন্য বিষয়গুলো নিয়েও রুমমেটদের সঙ্গে মতবিরোধ রয়েছে বলে জানান তিনি। 

এদিকে, হল প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু সুরাহা করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে এর আগে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. খো. লুৎফল এলাহী জানিয়েছিলেন, দুই পক্ষকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধানের জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল। প্রয়োজনে তাদের কক্ষ পরিবর্তন করা হবে। তবে কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার চাইলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এদিকে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর দুই মাস পেরিয়ে গেলেও ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান হয়নি। সুষ্ঠু সমাধানে ব্যর্থ হওয়ার হল প্রশাসনের গাফিলতিকে দুষছেন অভিযোগকারীরা।

তবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন জানতে চাইলে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. খো. লুৎফল এলাহী বলেন, ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্ত কমিটির শুনানিতে অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের কয়েকজন উপস্থিত না থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। উভয় পক্ষ উপস্থিত হলে এক দিনেই শুনানি শেষ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হবে। 

এদিকে ঘটনার তদন্তে হলের ওয়ার্ডেন ড. মোহাম্মদ আলমগীর কবিরকে আহবায়ক ও হাবিবুর রহমানকে সদস্য সচিব করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির প্রধান ড. মোহাম্মদ আলমগীর কবির জানান, অভিযুক্তদের কাছ থেকে জবাব না পাওয়ায় প্রতিবেদন তৈরিতে বিলম্ব হচ্ছে। সম্প্রতি তাদের আগামী ১৫ তারিখ পর্যন্ত সময় দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, পূজার ছুটির পর তদন্ত কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

অভিযোগকারীদের আবেদনের পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও প্রায় দুই মাসেও প্রতিবেদন জমা না পড়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি। অভিযুক্তদের জবাব ও উভয় পক্ষের উপস্থিতির অপেক্ষায় তদন্ত কার্যক্রম আটকে থাকায় কবে নাগাদ এ ঘটনার চূড়ান্ত সমাধান হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

 

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com