অপমানকে শক্তি বানিয়ে সেলুনেই পাঠাগার গড়লেন রাজু

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

আব্দুর রশিদ মোল্লা, মাগুরা প্রতিনিধি:

"তুমি নাপিত, তুমি অশিক্ষিত, তোমার সাথে কী কথা বলবো" — এক ব্যক্তির এমন কটূক্তি কখনো ভোলেননি মোহাম্মদ রাজু আহমেদ। সেই অপমানকে শক্তিতে পরিণত করে নিজের সেলুনের নামই রেখেছেন ‘অশিক্ষিত রাজু সেলুন জোন’।

আর সেই সেলুনেই গড়ে তুলেছেন ছোট্ট এক পাঠাগার। শুরুটা মাত্র তিনটি বই দিয়ে হলেও এখন তার সংগ্রহে শতাধিক বই। চুল কাটার অপেক্ষায় থাকা গ্রাহকরা সেখানে বসেই পড়ছেন গল্প, কবিতা, উপন্যাসসহ নানা বই।

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের শিকদারের মোড়ে অবস্থিত রাজুর এই সেলুন বাইরে থেকে সাধারণ মনে হলেও ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে ব্যতিক্রমী দৃশ্য। কাঁচি-চিরুনির পাশাপাশি তাকে সাজানো বই, দেয়ালজুড়ে কবিতার পঙ্‌ক্তি ও অনুপ্রেরণামূলক লেখা।

অল্প বয়সে বাবা-মাকে হারানো রাজুর পড়াশোনা থেমে যায় নবম শ্রেণিতেই। দারিদ্র্যের কারণে প্রায় ১০ বছর ধরে সেলুন পেশায় জড়িত তিনি। স্থানীয় কলমধারী বাজারে কাজ শিখে ঢাকায় অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজ এলাকায় ফিরে গড়ে তোলেন এই সেলুন।

নিজে এতিম হওয়ায় এতিম শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চুল কাটার ব্যবস্থা রেখেছেন তিনি। মসজিদের ইমাম-খতিবদের জন্য অর্ধেক বিল, বয়স্ক এবং শরিয়তসম্মতভাবে চুল-দাড়ি কাটার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ ছাড়।

রাজু আহমেদ বলেন, ‘কেউ অশিক্ষিত হতে চায় না, বেঁচে থাকার তাগিদে কাজে নামতে হয়। আমি চাই মানুষ সেলুনে অপেক্ষার সময়টা ফোন না দেখে বই পড়ুক।’

নিয়মিত গ্রাহক মো. রিয়াজ আহম্মেদ বলেন, ‘সিরিয়ালের অপেক্ষায় আগে ফোন দেখতাম, এখন বই পড়ি। এ কারণেই রাজু ভাইয়ের সেলুনে আসতে ভালো লাগে।’

বালিদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান মিনা বলেন, ‘রাজু যুবকদের বই পড়তে উৎসাহিত করছে। তার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।’

ডিজিটাল যুগে যখন সবাই মোবাইলে ব্যস্ত, তখন মহম্মদপুরের এই ছোট্ট সেলুনে বই পড়ার এমন আয়োজন স্থানীয়ভাবে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com