বাংলাদেশ বার্তা টুডে
সাদুল্যাপুর উপজেলা হাসপাতালে জুনিয়র মেকানিক কতৃক প্রধন সহকারী কে মারধরের অভিযোগ
সাদুল্যাপুর উপজেলা হাসপাতালে জুনিয়র মেকানিক কতৃক প্রধন সহকারী কে মারধরের অভিযোগ গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর উপজেলা হাসপাতালে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শামসুজ্জোহা আলম সোহাগ জুনিয়র মেকানিক কতৃক হাসপাতালের প্রধান সহকারী (নার্স) মোছাঃ শাহানা পারভিন সুমি কে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ভিকটিম এবং অন্যান্য হাসপাতালে কর্মরত প্রত্যক্ষ সুত্রে জানাযায়, গাতকাল শনিবার সন্ধ্যার পর হাসপাতালের অফিসিয়াল কাজের বিষয় নিয়ে দুজনের কথা কাটা কাটির এক পর্যায়ে জুনিয়র মেকানিক শামসুজ্জোহা সোহাগ প্রধান সহকারী নার্স মোছাঃ শাহানা পারভিন সুমি কে স্টাফলার/ স্টিল স্কেল দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এ-সময় তিনি মেঝেতে পড়ে যায়। তারপর মেঝেতে ফেলে ঘাড় এবং গলা টিপে ধরে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে চিতকার চেচামেচি শুনে আমিনুল ইসলাম মানিক (এমটি ল্যাব) আব্দুল মতিন (অফিস সহকারী) তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা ক6রেন। ভুক্তভোগীর মাথায় তিনটি সেলাই গলায় হাতে ঘাড়ে ফুলা জখমে ড্রেসিং এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এ সময় অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারী জানান জুনিয়র মেকানিক শামসুজ্জোহা সোহাগ হাসপাতালের পাশে বাড়ি হওয়ার প্রায় সকলের সাথে ইচ্ছেমত খারাপ ও অনৈতিক আচরণ করেন। সকলে শাহানা পারভিন সুমি হত্যার চেষ্টা সহ সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর সাথে এমন আচরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং শাস্তি মুলক ব্যাবস্থার জোড়ালো দাবি জানান।
দিনাজপুরে ৩০০ পিস ট্যাপেন্টাডল জব্দ, আসামি পলাতক
দিনাজপুরে ৩০০ পিস ট্যাপেন্টাডল জব্দ, আসামি পলাতক রফিকুল ইসলাম সাবুল :রংপুর প্রতিনিধি দিনাজপুরে ৩০০ পিস ট্যাপেন্টাডল জব্দ, আসামি পলাতক দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের কোতয়ালী থানার দক্ষিণ বালুবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৩। এ ঘটনায় আনজু আরা (৪৫) নামে এক নারী পলাতক রয়েছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে সদর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বালুবাড়ী সিপাহীপাড়া লাইনপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। র্যাব-১৩ জানায়, চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সিপিসি-১, র্যাব-১৩, দিনাজপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পলাতক আসামি আনজু আরার শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে ৩০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। র্যাব আরও জানায়, এ ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। জব্দকৃত ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
গোবিপ্রবির কৃষি অনুষদের নতুন ডিন ড. এস. এম. আহসান
গোবিপ্রবির কৃষি অনুষদের নতুন ডিন ড. এস. এম. আহসান গোবিপ্রবি প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) কৃষি অনুষদের নতুন ডিন হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কৃষি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এস. এম. আহসান। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোঃ এনামউজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। অফিস আদেশে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের পূর্ববর্তী ডিনের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০১-এর ২৩(৫) ধারা অনুযায়ী কৃষি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এস. এম. আহসানকে কৃষি অনুষদের ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অফিস আদেশ অনুযায়ী, ডিন হিসেবে তাঁর মেয়াদকাল হবে দুই বছর। নিয়োগটি দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে কার্যকর হবে এবং তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এদিকে একই অফিস আদেশে কৃষি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জিলহাস আহমেদ জুয়েলের পূর্ববর্তী ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। তিনি ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কৃষি অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নবনিযুক্ত ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. এস. এম. আহসান বলেন, “আজকে কৃষি অনুষদের ডিন হিসেবে আমি যোগদান করেছি। আমার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, আগের ডিন মহোদয়রা যেভাবে সফলভাবে অনুষদটাকে পরিচালনা করেছেন, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।” তিনি আরও বলেন," কৃষি ও মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অপার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে গবেষণার ক্ষেত্রে। তাই আমার প্রধান কাজ হচ্ছে কৃষি বিভাগ ও মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের জন্য একটি সুস্থ ও উপযুক্ত গবেষণার পরিবেশ তৈরি করা। যেন এখান থেকে আমরা ভালো গবেষণা করতে পারি এবং ভালো পাবলিকেশন হয়।
শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মানবিক রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী
শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মানবিক রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী সোহেল রানা খন্দকার, মানিকগঞ্জ | ১৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি সামাজিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা । আজ রোববার সকালে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুলড্রেস, ব্যাগ ও জুতা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন । খাদ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় আগ্রহী করে তুলতে এবং তাদের শিক্ষা জীবন সহজ করতে সরকার বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে । কোনো শিক্ষার্থী যেন অর্থের অভাবে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে । তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মান উন্নত হলে দেশ এগিয়ে যাবে । শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে । এ জন্য পরিবার, শিক্ষক ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি । অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করার আহ্বান জানানো হয় । একই সঙ্গে শিক্ষকদের আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয় । জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী নাসরিন, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোকুল চন্দ্র দেবনাথ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোতালেব হোসেন ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ফরিদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন ।
সাংবাদিক পুলকের লাশের পাশে পাঁচটি চিঠি
সাংবাদিক পুলকের লাশের পাশে পাঁচটি চিঠি নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক সমকালের বরিশাল ব্যুরোর সাবেক প্রধান ও বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পুলক চ্যাটার্জীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের সময় পাঁচটি চিঠি বা সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ । স্ত্রী ও মেয়ে, ছোট ভাই, বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সহকর্মী এবং প্রশাসনের উদ্দেশে পৃথক চিঠিগুলো লেখা হয় । শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর প্যারারা রোডে সমকালের বরিশাল ব্যুরো কার্যালয় থেকে পুলকের লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা কার্যালয়ের ভেতরে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে । রাত ৯টার দিকে লাশটি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় । প্রশাসনের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে পুলক তাঁর মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করার কথা উল্লেখ করেছেন । দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং সুস্থ হওয়ার জন্য দেশ-বিদেশে চিকিৎসা নিয়েও সুস্থ হতে পারেননি বলেও চিঠিতে লিখেছেন তিনি । তাঁর লাশ যেন পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়, সে অনুরোধও করেন । স্ত্রী প্রিয়াংকা ও মেয়ে প্রকৃতির উদ্দেশে লেখা চিঠিতে ক্ষমা চেয়ে মেয়েকে পড়াশোনা ও গান শেখা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন পুলক । ছোট ভাই দীপক ও তাঁর স্ত্রী ইতিকে লেখা চিঠিতে স্ত্রী ও মেয়েকে দেখভালের অনুরোধ করেন তিনি । বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে পুলক তাঁদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও স্মৃতির কথা উল্লেখ করেন । তাঁর পরিবারকে খোঁজ রাখার অনুরোধও করেন তিনি । দীর্ঘদিনের সহকর্মী দৈনিক সমকালের বরিশাল ব্যুরোর দায়িত্বে থাকা সুমন চৌধুরীর উদ্দেশে লেখা চিঠিতে পুলক তাঁদের প্রায় দেড় যুগের কর্মসম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন । কোনো কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়ে তিনি সমকালের কাছে তাঁর পাওনা অর্থ আদায় করে তা তাঁর স্ত্রীর হাতে দেওয়ার অনুরোধ করেন । বরিশাল মহানগর পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ বলেন, ‘সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে । বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।’ পুলক চ্যাটার্জী দৈনিক সমকালের বরিশাল ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । ২০২৩ সালের মে মাসে তাঁর চাকরি চলে যায় । এরপর থেকে তিনি হতাশায় ছিলেন বলে তাঁর সহকর্মীরা জানান । মাঝেমধ্যে তিনি সমকাল কার্যালয়ে এসে বসতেন । পুলক বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ছিলেন ।
মানিকগঞ্জে সাবিসের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ
মানিকগঞ্জে সাবিসের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সোহেল রানা খন্দকার, মানিকগঞ্জ : ‘শেকড় থাকুক সংস্কৃতিতে, ডানা মেলুক শিক্ষায়’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জে সাংস্কৃতিক বিপ্লবী সংঘ (সাবিস) আয়োজিত বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে । একই অনুষ্ঠানে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া তিন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা দেওয়া হয় । শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাবিস মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম । তিনি বিজয়ীদের হাতে সনদ, ক্রেস্ট, বই ও নগদ অর্থ তুলে দেন । অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, সাবিসের সভাপতি মাহবুব জামাল চঞ্চল ও সাধারণ সম্পাদক শাহ আব্দুর রাজ্জাক টিপুসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, প্রতিযোগী, অভিভাবক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা । বক্তারা বলেন, শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ, সাংস্কৃতিক চর্চায় আগ্রহ তৈরি এবং শিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটানোই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তাঁদের মতে, সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে ভূমিকা রাখে । বক্তারা পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আরও সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান। পরে গান ও আবৃত্তি পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান । অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী জুইরিয়া ইসলাম নুপুর ।
একই মঞ্চে মোদি–শি–পুতিন: BRICS কি নতুন কূটনৈতিক শক্তিকেন্দ্রের জন্ম দিচ্ছে?
একই মঞ্চে মোদি–শি–পুতিন: BRICS কি নতুন কূটনৈতিক শক্তিকেন্দ্রের জন্ম দিচ্ছে? সাবহেডলাইন: নয়াদিল্লি সম্মেলনে ভারত–চীন সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত, রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ—বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক শক্তির সমীকরণ বিশেষ প্রতিনিধি: সঞ্জয় মজুমদার নয়াদিল্লিতে ১২–১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠিত ১৮তম BRICS সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একই কূটনৈতিক মঞ্চে অবস্থান করছেন। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক বাণিজ্য-ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারের দাবির মধ্যে এই সম্মেলন BRICS-এর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ তৈরি করেছে। সম্মেলনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো ভারত ও চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি যোগাযোগ। ১২ সেপ্টেম্বর মোদি ও শি জিনপিং দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন। ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দুই নেতা সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও সীমান্ত পরিস্থিতিসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। সাত বছর পর শির ভারত সফর হওয়ায় বৈঠকটি বিশেষ কূটনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এই rapprochement বা সম্পর্কোন্নয়নের সম্ভাবনাকে অতিরিক্ত আশাবাদীভাবে দেখার সুযোগ নেই। ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর ভারত ও চীনের মধ্যে সামরিক ও কৌশলগত অবিশ্বাস পুরোপুরি দূর হয়নি। একই সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক গভীর হলেও ভারতের বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১৫৫.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ। ১১ সেপ্টেম্বর মোদি ও পুতিন বৈঠকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন। ভারতের সরকারি বিবৃতিতে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং BRICS-এর বহুপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। অন্যদিকে BRICS-এর সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের মধ্যেও অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত একই জোটে থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে তাদের অবস্থান সব বিষয়ে অভিন্ন নয়। তারপরও ১২ সেপ্টেম্বর BRICS একটি যৌথ ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সংযমের আহ্বান জানায় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে। BRICS-এর ঘোষণায় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারের প্রশ্নও সামনে এসেছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় Global South-এর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া পশ্চিমা-নির্ভর আন্তর্জাতিক কাঠামোর বিকল্প ও অধিক বহুমেরু ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান জোরদার করছে। তবে ভারত একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছে যে BRICS কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে জোট নয়। এখানেই BRICS-এর প্রকৃত কৌশলগত প্রশ্নটি সামনে আসে। এটি কি পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার বিকল্প শক্তিকেন্দ্র হয়ে উঠবে, নাকি বিভিন্ন জাতীয় স্বার্থের সমন্বয়কারী একটি কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই থাকবে? কারণ সদস্যদেশগুলোর অর্থনৈতিক স্বার্থ, নিরাপত্তা অগ্রাধিকার ও পররাষ্ট্রনীতি এক নয়। ফলে অভিন্ন ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদি যৌথ নীতি বাস্তবায়ন করা অনেক বেশি কঠিন। বর্তমান বাস্তবতায় BRICS-এর প্রভাব কেবল অর্থনীতি বা বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, ইউক্রেন সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার—প্রতিটি ক্ষেত্রেই জোটটি নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে ভারতকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্যও এর গুরুত্ব রয়েছে। BRICS যদি বাণিজ্য, উন্নয়ন অর্থায়ন, স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন, জ্বালানি সহযোগিতা ও Global South-এর কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য নতুন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে একই সঙ্গে বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে ভূরাজনৈতিক বিভাজন বাড়লে আমদানি ব্যয়, পরিবহন ব্যয় ও বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে। সব মিলিয়ে নয়াদিল্লির BRICS সম্মেলনকে শুধু তিন নেতার বৈঠক হিসেবে দেখলে এর গভীরতা বোঝা যাবে না। মোদি–শি–পুতিনের একই মঞ্চে উপস্থিতি একটি পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থার প্রতীক হলেও, BRICS সত্যিই নতুন বৈশ্বিক শক্তিকেন্দ্র হয়ে উঠবে কি না—তার উত্তর নির্ভর করবে সদস্যদেশগুলো তাদের পারস্পরিক মতপার্থক্য কতটা সামলে বাস্তব অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতায় রূপ দিতে পারে তার ওপর। ১২–১৩ সেপ্টেম্বরের নয়াদিল্লি সম্মেলন সেই পরীক্ষারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
মতলব দক্ষিণে বিকেএ’র বৃত্তি ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠান
মতলব দক্ষিণে বিকেএ’র বৃত্তি ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠান মোঃ ফয়সাল খন্দকার, মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি : বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএ) মতলব দক্ষিণ উপজেলা শাখার কেন্দ্র-২-এর উদ্যোগে বৃত্তি ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় মতলব দক্ষিণ উপজেলার লাক শিবপুরে মর্নিংসান কিন্ডারগার্টেন প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা শাখার সভাপতি ফারুক আহমেদ বাদলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও নায়েরগাঁও এলাকার মোঃ মাহবুবুর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি তাদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে ফারুক আহমেদ বাদল বলেন, কিন্ডারগার্টেনগুলো প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিকেএ মতলব দক্ষিণ উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি আব্দুর রব পাটোয়ারী এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাছির উদ্দিন মৃধা। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিকেএ মতলব দক্ষিণ উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রভাষক মোঃ আশরাফুল জাহান শাওলিন। প্রধান বক্তার বক্তব্যে মোঃ আশরাফুল জাহান শাওলিন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করাই শিক্ষার উদ্দেশ্য নয়; নিয়মিত পড়াশোনা, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলি অর্জন করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনের অপব্যবহার থেকে দূরে থেকে বই পড়া, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের পরামর্শ দেন। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সন্তানের ওপর অতিরিক্ত ফলাফলনির্ভর চাপ না দিয়ে তার প্রতিভা, আগ্রহ ও মানসিক বিকাশের দিকে নজর দিতে হবে। সন্তানকে অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে উৎসাহ, ভালোবাসা ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা একটি শিশুর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ভিত্তি। এ পর্যায়ে শিক্ষার্থীর ভাষা, গণিত, আচরণ, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধের যে ভিত্তি তৈরি হয়, তা পরবর্তী শিক্ষাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেনগুলোও দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার ও মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তাই শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান পরিচালক ও অভিভাবকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। এ সময় সংগঠনের প্রচার সম্পাদক তানভীর আহমেদ, ক্রীড়া সম্পাদক শান্ত দাস, হারুনুর রশিদসহ বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক ও প্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, নৈতিক শিক্ষা ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ২৫৫ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তির অর্থ ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাংলাদেশী যাত্রীদের বিএসএফের কাছ থেকে উদ্ধার ও ফেরত আনয়ন ৫৩ বিজিবি'র সফল তৎপরতা
পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাংলাদেশী যাত্রীদের বিএসএফের কাছ থেকে উদ্ধার ও ফেরত আনয়ন ৫৩ বিজিবি'র সফল তৎপরতা মো: ছাব্বির হাসান,বিশেষ প্রতিনিধি,নওগাঁ আজ বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের পদ্মা নদীতে একটি মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনার পর, নিখোঁজ বাংলাদেশী যাত্রীদের দ্রুত উদ্ধারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)-এর মধ্যে এক তাৎক্ষণিক ও সফল সমন্বয় পরিলক্ষিত হলো। বিএসএফ কর্তৃক ১০ জন বাংলাদেশী যাত্রীকে জীবিত উদ্ধারের পর, বিজিবি'র ৫৩ ব্যাটালিয়ন তাদের দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। আজ ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখ আনুমানিক বিকাল ৫টার দিকে বাখেরআলী এলাকার আলীমনগর ঘাট হতে ১২ জন যাত্রী নিয়ে জহুরপুরটেক গ্রামের উদ্দেশ্যে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ছেড়ে যায়। পথিমধ্যে, প্রবল স্রোতের কারণে নৌকাটি পদ্মা নদীতে ডুবে যায়।এ সময় নৌকায় থাকা মোঃ ওয়াসিম (২৩), পিতা- মোঃ শামছুল আলম সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও, বাকি ১১ জন যাত্রী পানিতে নিখোঁজ হন।নৌকা ডুবির খবর পাওয়ার পরপরই, তৎপর হয়ে ওঠে বিজিবি। আনুমানিক ৫:৫০ মিনিটে (১৭৫০ ঘটিকায়), ৭১ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ-এর খান্দুয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার, বাখেরআলি বিওপি ও ফরিদপুর বিওপি কমান্ডারদের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কথা জানান। বিএসএফ সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং সফলভাবে ১০ জন বাংলাদেশী যাত্রীকে (০৪ জন পুরুষ, ০৩ জন মহিলা ও ০৩ জন শিশু) জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন।উদ্ধারকৃত যাত্রীদের দ্রুততম সময়ে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে, ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। আজ রাত ৯টা ৫৫ মিনিটের সময় ফরিদপুর বিওপি কমান্ডার ও খান্দুয়া বিএসএফ ক্যাম্প কমান্ডারের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকের মাধ্যমে উদ্ধারকৃত ১০ জন বাংলাদেশী নাগরিককে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়।উদ্ধারকৃত যাত্রীদের সকল প্রক্রিয়া শেষে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাদের নিকট আত্মীয় মোঃ ইসমাইল হোসেনের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।উদ্ধারকৃত ব্যক্তিরা হলেনঃ মোঃ রাসেল (২৬), পিতা- মোস্তফা। মোঃ ইব্রাহিম (৫০), পিতা- মৃত আব্দুর রউফ। সওদাগর (৪০), পিতা- আব্দুর রউফ।মোঃ ইব্রাহিম (৬০), পিতা- মৃত আবুল হোসেন। সখিনা (৪৫), স্বামী- মোঃ মোস্তফা। নিলুফা (৩৫), স্বামী- মতিউর। তানিয়া (২২), স্বামী- মোঃ সোহেল এবং তার ২০দিন বয়সী শিশু সন্তান। সানাউল্লাহ (৯), পিতা- মতিউর। আল আমিন (৯), পিতা- ইসলাম উদ্দিন।সকলের গ্রাম- জহুরপুর (বকরী পাড়া), পোস্ট- নারায়নপুর, থানা ও জেলা- চাঁপাইনবাবগঞ্জ। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জানা গেছে, উদ্ধারকৃত সকলেই সুস্থ্য রয়েছেন।উক্ত নৌকাডুবির ঘটনায়, একই গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মোস্তফা (৬০), পিতা- মৃতঃ আলতাব হোসেন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। তার সন্ধানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় বিএসএফ এবং বিজিবি-এর মধ্যে দ্রুত ও কার্যকর যোগাযোগ এবং মানবিক তৎপরতা প্রশংসার দাবিদার। উদ্ধারকৃত যাত্রীদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনতে ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দ্রুত পদক্ষেপ স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। নিখোঁজ ব্যক্তির উদ্ধারেও যথাযথ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের একনেক অনুমোদন চলতি সপ্তাহে
বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের একনেক অনুমোদন চলতি সপ্তাহে ম.ম.রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চলতি সপ্তাহে একনেক অনুমোদনের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে, যার আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বাগেরহাটের রামপালে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যমান কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে ৯১৮ দশমিক ৫ একর অব্যবহৃত জমিতে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন লাভ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে এবং এ সংক্রান্ত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভাও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বিপিডিবির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিমের ভাষ্যমতে, ২০২৮ সাল থেকে ধাপে ধাপে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে। প্রকল্পটির জন্য নির্ধারিত জমিতে ইতিপূর্বে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণকৃত অব্যবহৃত জমি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থায়নে এটি বাস্তবায়িত হবে। দুই হাজার ৫০২ কোটি ৪০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দেশের সামগ্রিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। প্রকল্প এলাকায় ইতিমধ্যে জমি ভরাট এবং সীমানা সুরক্ষাসহ প্রাথমিক সাইট উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় নতুন করে জমি অধিগ্রহণ বা গ্রিনফিল্ড প্রকল্পের জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানির (আইআইএফসি) সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় স্পষ্ট হয়েছে যে, বিদ্যমান অবকাঠামো এবং অব্যবহৃত জমি ব্যবহারের ফলে সামগ্রিক নির্মাণ ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। তাছাড়া, এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুতের সম্ভাব্য ট্যারিফ ৬ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ফেনীর সোনাগাজীর ৮ টাকা ৮৭ পয়সা ট্যারিফের তুলনায় প্রায় তেতাল্লিশ শতাংশ কম। বিআইএফপিসিএলের সাবস্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত নতুন ২৩০ কিলোভোল্ট সঞ্চালন ব্যবস্থার মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম একে বাংলাদেশের পরিবর্তিত জ্বালানি অগ্রাধিকারের সঠিক প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন যে, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাসে এটি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারক ও পরিবেশবিদদের মতে, এই উদ্যোগ কেবল অর্থনৈতিক দিক থেকেই সাশ্রয়ী নয়, বরং এটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিবেশগত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত বিশ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। বর্তমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি সেই লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি প্যারিস চুক্তির শর্ত প্রতিপালন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং ইন্টিগ্রেটেড এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার মাস্টার প্ল্যান (আইইপিএমপি)-২০২৩ বাস্তবায়নে সরাসরি সহায়তা করবে। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাসের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে, যা বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের ওপর সম্ভাব্য পরিবেশগত চাপ অনেকাংশে লাঘব করবে। দেশের জ্বালানি খাতের আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে পরিচ্ছন্ন, টেকসই ও অভিঘাত সহনশীল একটি রূপরেখা তৈরি করতে এই প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
রাতের আঁধারে তিস্তার ভাঙন, ঘুম হারাম
রাতের আঁধারে তিস্তার ভাঙন, ঘুম হারাম তিস্তাপাড়ের মানুষের বসতভিটা-ফসলি জমি রক্ষায় দ্রুত জিওব্যাগ ও স্থায়ী বাঁধের দাবি, রাতেই ছুটলেন বিএনপি নেতারা রফিকুল ইসলাম সাবুল : (রংপুর) প্রতিনিধি রাতের আঁধারে হঠাৎ তিস্তা নদীর পাড়ে ভাঙন। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চিলাখাল স্কুল পর্যন্ত তিস্তার তীরে শনিবার রাতে আকস্মিক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা নেতাদের কাছে তাঁদের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা দ্রুত ভাঙন বন্ধে জিওব্যাগ ফেলা, নদীর তীর সংরক্ষণ ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানান। শনিবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী বেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক গোলাম রব্বানী রঞ্জু, জেলা যুবদল সদস্য ও উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি শামীম মিয়া এবং কোলকোন্দ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান বেঞ্জুসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। ‘ভাঙন শুরু হলেই ঘুম হারাম হয়ে যায়’ স্থানীয় বাসিন্দা আজাদ মিয়া বলেন, তিস্তার ভাঙন তাঁদের নিত্যদিনের আতঙ্ক। ভাঙন শুরু হলেই বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হয়। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে নদীভাঙন বন্ধে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। আরেক বাসিন্দা জলিল হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রতি বছর নদীভাঙনের শিকার হচ্ছি। এবারও হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়েছে। আমাদের কথাগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরবেন—এটাই আমাদের আবদার। আগে ভাঙনটা বন্ধ করা দরকার।’ স্থানীয় বাসিন্দা খোকা মিয়ার কণ্ঠেও ছিল ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা। তিনি বলেন, ‘বাড়িঘর ও জমি হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি। শুধু ভাঙনের সময় কিছু জিওব্যাগ ফেললে হবে না। স্থায়ীভাবে নদীর তীর রক্ষা করতে হবে। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা দরকার।’ স্থায়ী সমাধানের দাবি বিএনপি নেতাদের পরিদর্শনের সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদসহ নেতাকর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী বলেন, তিস্তাপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের। তাঁরা ভাঙনরোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। শুধু সাময়িক ব্যবস্থা নয়, নদীর তীর সংরক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এই এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার বলেন, ‘তিস্তাপাড়ের মানুষের কথা আমরা সরাসরি শুনেছি। তাঁদের প্রধান দাবি এখন ভাঙন বন্ধ করা এবং বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করা। স্থানীয় মানুষের দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি ভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হবে।’ নদীপাড়ে আতঙ্ক, বাড়ছে ক্ষতির শঙ্কা রাতের বেলায় হঠাৎ ভাঙন শুরু হওয়ায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। তিস্তাপাড়ের মানুষের দাবি, প্রতিবছর ভাঙনের পর সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে এবার নদীর তীর রক্ষায় স্থায়ী ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তাঁদের ভাষায়, আজ ভাঙন ঠেকানো না গেলে কাল হয়তো রক্ষা করার মতো বসতভিটাই থাকবে না।
পাকুড়িয়া শরীফ কছিমিয়া মাদ্রাসায় বিদায় সংবর্ধনা
পাকুড়িয়া শরীফ কছিমিয়া মাদ্রাসায় বিদায় সংবর্ধনা রফিকুল ইসলাম সাবুল : (রংপুর) প্রতিনিধি রংপুরের গংগাচড়ায় পাকুড়িয়া শরীফ কছিমিয়া (রহ.) ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায় বিদায়ী শিক্ষক ও কর্মচারীদের সম্মানে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পাকুড়িয়া দরবার শরীফের গদ্দিনিশিন ও মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জনাব সাইয়্যেদ আলহাজ্ব শাহ মো. রহুল মাহমুদ ওজায়ের পীর সাহেব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাকুড়িয়া শরীফ কছিমিয়া (রহ.) ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার সভাপতি পীরজাদা মাওলানা শাহ মো. ফজলে রাব্বী। অনুষ্ঠানে বিদায়ী অধ্যক্ষ মাওলানা এ কে এম আব্দুল ওহাব, সহকারী শিক্ষক হানিফুর রহমান, সহকারী মৌলভি মো. ইদ্রিস আলী এবং কর্মচারী (মালি) আব্দুল গনীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহসভাপতি শাহ মো. এরশাদুল হক, পাকুড়িয়া শরীফ (ডিগ্রি) কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও মাদ্রাসার বিদ্যুৎসাহী সদস্য মো. শফিকুল আলম, পাকুড়িয়া শরীফ (ডিগ্রি) কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল গনী, পাকুড়িয়া শরীফ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান এবং মাদ্রাসার গভর্নিং বডির অভিভাবক সদস্য শাহ মো. ফজলুল আজীম (নজীব)। বক্তারা বিদায়ী শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দায়িত্ব পালন ও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রমে তাঁদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাঁরা বিদায়ীদের ভবিষ্যৎ জীবন ও কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেন। অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী, গভর্নিং বডির সদস্য, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পঞ্চগড়ে বেকার তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানে কমিউনিটি আউটরিচ সভা
পঞ্চগড়ে বেকার তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানে কমিউনিটি আউটরিচ সভা পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ পঞ্চগড় | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পঞ্চগড়ে স্বল্প শিক্ষিত ও বেকার তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষানবিশ নির্বাচনে কমিউনিটি আউটরিচ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে পঞ্চগড় জেলা শহরের হাজী ছফির উদ্দিন আহমদ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ সভার আয়োজন করা হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (রেইজ) প্রকল্পের আওতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটিতে বিশ্বব্যাংক ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) অর্থায়ন করছে। সভায় জেলার বিভিন্ন এলাকার বেকার তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণীদের শিক্ষানবিশ হিসেবে নির্বাচন এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মমুখী করে গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। আয়োজকরা জানান, বর্তমান সময়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি কর্মমুখী দক্ষতা অর্জন তরুণদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে স্বল্প শিক্ষিত ও কর্মহীন তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণের আওতায় এনে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার মাধ্যমে তাদের আত্মকর্মসংস্থান ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। সভায় রেইজ প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর সামসুৎ তাবরীজ, ট্রেনিং অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট সাপোর্ট কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান, হিসাবরক্ষক ও এমআইএস কর্মকর্তা নূরজাহান আক্তার, ইএসডিওর পঞ্চগড় জোনের এরিয়া ম্যানেজার আল মামুনুর রশিদসহ বিভিন্ন শাখার ব্যবস্থাপক ও উন্নয়নকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরিতে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠীকে শ্রমবাজারের উপযোগী করে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সভায় পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন এলাকার ১০০ জন বেকার তরুণ-তরুণী অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষানবিশ কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা উন্নয়ন করে কর্মজীবনে প্রবেশের প্রত্যাশা দেখা যায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে বেকার তরুণ-তরুণীদের চিহ্নিত করে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে পঞ্চগড়ে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
সাতক্ষীরায় কুষ্ঠরোগ ও সামাজিক বৈষম্য দূর করতে গণমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার আহ্বান
সাতক্ষীরায় কুষ্ঠরোগ ও সামাজিক বৈষম্য দূর করতে গণমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার আহ্বান সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় বর্তমানে ৪১ জন কুষ্ঠরোগী রয়েছেন। কুষ্ঠরোগ নিয়ে সমাজে প্রচলিত ভয়, কুসংস্কার ও সামাজিক বৈষম্য দূর করতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে সাতক্ষীরা শহরের পানসির কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত ‘কুষ্ঠরোগ ও এর পরিণতি বিষয়ে ওরিয়েন্টেশন’ অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানানো হয়। দেশ টিভির সাতক্ষীরা স্টাফ রিপোর্টার শরীফুল্লাহ কায়সার স্মরণের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খ্রিস্টিয়ান সার্ভিস সোসাইটির (সিএসএস) পরিচালক (স্বাস্থ্য) সাজ্জাদুর রহিম পান্থ। এ সময় অনুষ্ঠানে চ্যানেল ২৪-এর জেলা প্রতিনিধি আমিনা বিলকিস ময়না, প্রথম আলোর ইমতিয়াজ উদ্দিন, নাগরিক টিভির কৃষ্ণ মোহন ব্যানার্জি, মানবজমিনের এস এম বিপ্লব হোসেন, বাংলা ট্রিবিউনের আসাদুজ্জামান সরদার, সমকালের কিশোর কুমার, চ্যানেল ওয়ানের নাজমুস শাহাদাত জাকির, স্বদেশ প্রতিদিনের হাবিবুর রহমান সোহাগ, টাইমস টুডের মিলন বিশ্বাস, গ্লোবাল টিভির রাহাত রাজা, খোলা কাগজের ইব্রাহিম খলিল, বার্তা ২৪-এর মৃত্যুঞ্জয় রায়, সাতক্ষীরা সকালের আলতাব বাবু, ঢাকা পোস্টের ইব্রাহিম খলিল এবং সিএসএসের শরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। ওরিয়েন্টেশনে জানানো হয়, কুষ্ঠরোগ সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য এবং সরকারিভাবে এর চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়া হয়। তবে সচেতনতার অভাব, কুসংস্কার ও সামাজিক বৈষম্যের কারণে অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসার আওতায় আসেন না। বক্তারা বলেন, কুষ্ঠরোগের প্রাথমিক লক্ষণ, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। একই সাথে কুষ্ঠরোগীদের প্রতি ভয়, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে মানবিক ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাজ্জাদুর রহিম পান্থ বলেন, কুষ্ঠ একটি প্রাচীন রোগ। প্রাচীনকাল থেকেই এ রোগ নিয়ে সমাজে নানা ধরনের ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকে কুষ্ঠকে অভিশাপ বা পাপের ফল বলে মনে করেন। আবার কেউ কেউ রোগটিকে গুরুত্বহীন মনে করে চিকিৎসা নিতে অবহেলা করেন। তিনি বলেন, এসব ভুল ধারণা ও অসচেতনতার কারণে অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসা নেন না। অথচ কুষ্ঠরোগ নিরাময়যোগ্য এবং সরকারিভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা পর্যায়ে এর সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পঞ্চগড়ে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপের ফাইনালে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ
পঞ্চগড়ে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপের ফাইনালে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ পঞ্চগড় | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পঞ্চগড়ে জমজমাট আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনাল ও সমাপনী অনুষ্ঠান। ফুটবলের উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল ঘিরে পঞ্চগড় জেলা স্টেডিয়ামে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। খেলা উপভোগ করতে মাঠে ভিড় করেন বিপুলসংখ্যক দর্শক ও ক্রীড়াপ্রেমী। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পঞ্চগড় জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোসাঃ শুকরিয়া পারভীন। ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে দুপুর থেকেই জেলা স্টেডিয়াম এলাকায় ছিল উৎসবের আমেজ। নির্ধারিত সময়ের আগে থেকেই দর্শকরা মাঠে আসতে শুরু করেন। দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, গোলের সুযোগ এবং দারুণ সব মুহূর্তে গ্যালারিতে দেখা যায় উচ্ছ্বাস। পুরো ম্যাচজুড়েই দর্শকদের করতালি ও সমর্থনে মুখর ছিল স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য ছিল স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবলের বিকাশ, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সুযোগ তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা। একই সঙ্গে মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে তরুণদের দূরে রাখতে নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নতুন প্রতিভা বেরিয়ে আসবে এবং পঞ্চগড়ের ক্রীড়াঙ্গন আরও এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি তরুণ সমাজকে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। পরে টুর্নামেন্টের বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি, মেডেল ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতেও খেলোয়াড়দের পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক, খেলোয়াড়, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের এবারের আয়োজন পঞ্চগড়ের ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের মাধ্যমে জেলার ফুটবল প্রতিভাদের জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে ভূমিকা রাখবে।