পঞ্চগড়ে চলাচলের পথে সুপারি গাছ, চাচা-ভাতিজার বিরোধে ভোগান্তিতে পরিবার
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ
পঞ্চগড় | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের দেবনগড় গ্রামে জমি কেনাকে কেন্দ্র করে চাচা-ভাতিজার বিরোধের জেরে বাড়ির সামনে চলাচলের পথে সুপারি গাছ লাগিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টরও বাড়ি থেকে বের করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগী নওশাদ হোসেন বিপুল ওই গ্রামের মৃত জমশেদ আলীর ছেলে। অভিযুক্ত তাঁর চাচা মো. বেলাল (প্রায় ৫৫)।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেবনগড় গ্রামের একটি চলাচলের পথ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নওশাদ হোসেন বিপুল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা যাতায়াত করে আসছেন। একই পথ দিয়ে ব্যবসায়িক কাজেও ট্রাক্টর চলাচল করত। কয়েকটি পরিবারের চলাচলের জন্যও পথটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বলে স্থানীয়রা জানান।
সম্প্রতি ব্যবসায়িক প্রয়োজনে অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় বিপুলের চাচাতো ভাই আলমান তাঁর মালিকানাধীন প্রায় সাড়ে সাত শতক জমি বিক্রির উদ্যোগ নেন। ওই জমি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন চাচা বেলাল। কয়েক দিন ধরে জমিটি কেনার জন্য যোগাযোগ করলেও প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করতে পারেননি তিনি। পরে আলমান জমিটি অন্য একজনের কাছে বিক্রি করে দেন বলে জানা গেছে।
এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। ভুক্তভোগীদের দাবি, গত ১ সেপ্টেম্বর বেলাল বাড়ির সামনের চলাচলের জায়গায় কয়েকটি সুপারি গাছ রোপণ করেন। এতে পথটি সংকুচিত হয়ে মানুষের পাশাপাশি যানবাহন চলাচলেও সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
নওশাদ হোসেন বিপুল বলেন, চলাচলের পথে গাছ লাগানোর কারণে তাঁদের ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর বাড়ি থেকে বের করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে আশপাশের কয়েকটি পরিবারের মানুষও ওই পথ ব্যবহার করায় তারাও সমস্যায় পড়ছেন।
সমস্যার সমাধান চেয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড় সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বিপুল। এর আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলে তাঁর পরিবারের দাবি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. বেলাল বলেন, যে জায়গায় সুপারি গাছ লাগানো হয়েছে, সেটি তাঁর পৈতৃক সম্পত্তির অংশ। নিজের জায়গাতেই তিনি গাছ লাগিয়েছেন। ভাতিজার কাছ থেকে জমিটি কেনার জন্য অর্থের ব্যবস্থা করেও শেষ পর্যন্ত জমিটি কিনতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান জানান, চলাচলের রাস্তায় সুপারি গাছ লাগানোর বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তির মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা হবে। একই সঙ্গে কোনো বিরোধের কারণে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই দাবি তাঁদের।