তিস্তাপাড়ের মানুষের বসতভিটা-ফসলি জমি রক্ষায় দ্রুত জিওব্যাগ ও স্থায়ী বাঁধের দাবি, রাতেই ছুটলেন বিএনপি নেতারা

রাতের আঁধারে তিস্তার ভাঙন, ঘুম হারাম

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৩ এএম

রফিকুল ইসলাম সাবুল : (রংপুর) প্রতিনিধি

রাতের আঁধারে হঠাৎ তিস্তা নদীর পাড়ে ভাঙন। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চিলাখাল স্কুল পর্যন্ত তিস্তার তীরে শনিবার রাতে আকস্মিক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা নেতাদের কাছে তাঁদের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা দ্রুত ভাঙন বন্ধে জিওব্যাগ ফেলা, নদীর তীর সংরক্ষণ ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানান।

শনিবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী বেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক গোলাম রব্বানী রঞ্জু, জেলা যুবদল সদস্য ও উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি শামীম মিয়া এবং কোলকোন্দ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান বেঞ্জুসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

‘ভাঙন শুরু হলেই ঘুম হারাম হয়ে যায়’

স্থানীয় বাসিন্দা আজাদ মিয়া বলেন, তিস্তার ভাঙন তাঁদের নিত্যদিনের আতঙ্ক। ভাঙন শুরু হলেই বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হয়। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে নদীভাঙন বন্ধে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

আরেক বাসিন্দা জলিল হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রতি বছর নদীভাঙনের শিকার হচ্ছি। এবারও হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়েছে। আমাদের কথাগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরবেন—এটাই আমাদের আবদার। আগে ভাঙনটা বন্ধ করা দরকার।’

স্থানীয় বাসিন্দা খোকা মিয়ার কণ্ঠেও ছিল ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা। তিনি বলেন, ‘বাড়িঘর ও জমি হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি। শুধু ভাঙনের সময় কিছু জিওব্যাগ ফেললে হবে না। স্থায়ীভাবে নদীর তীর রক্ষা করতে হবে। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা দরকার।’

স্থায়ী সমাধানের দাবি বিএনপি নেতাদের

পরিদর্শনের সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদসহ নেতাকর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী বলেন, তিস্তাপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের। তাঁরা ভাঙনরোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। শুধু সাময়িক ব্যবস্থা নয়, নদীর তীর সংরক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এই এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার বলেন, ‘তিস্তাপাড়ের মানুষের কথা আমরা সরাসরি শুনেছি। তাঁদের প্রধান দাবি এখন ভাঙন বন্ধ করা এবং বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করা। স্থানীয় মানুষের দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি ভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হবে।’

নদীপাড়ে আতঙ্ক, বাড়ছে ক্ষতির শঙ্কা

রাতের বেলায় হঠাৎ ভাঙন শুরু হওয়ায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

তিস্তাপাড়ের মানুষের দাবি, প্রতিবছর ভাঙনের পর সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে এবার নদীর তীর রক্ষায় স্থায়ী ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তাঁদের ভাষায়, আজ ভাঙন ঠেকানো না গেলে কাল হয়তো রক্ষা করার মতো বসতভিটাই থাকবে না।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com