সবুজের উৎসবে মাতবে উপকুল: শুরু হচ্ছে কয়রার কাঁছারীবাড়ী বৃক্ষমেলা
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
দীর্ঘ দুই বছর বিরতির পর আবারও প্রাণের স্পন্দনে মুখরিত হতে যাচ্ছে উপকূল। খুলনার কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশীতে শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কাঁছারীবাড়ী বৃক্ষমেলা। কাঁছারীবাড়ী বাজার সংলগ্ন সুবিশাল মাঠে ১০ দিনব্যাপী চলবে এই বৃক্ষ উৎসব।
মেলা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে গত ২ আগস্ট প্রস্তুতিমূলক প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সরদার মতিয়ার রহমানকে সভাপতি এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শেখ সিরাজুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে মেলা পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়।
আয়োজকরা জানান, উপকূলে সবুজের বিপ্লব ঘটানো এবং মানুষের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টিই এই মেলার মূল উদ্দেশ্য। মেলায় দেশি-বিদেশি দুর্লভ প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি চার সমাহার থাকবে। দুই বছর পর প্রিয় এই মেলা ফিরে পাওয়ার খবরে এরই মধ্যে উৎসবে মেতে উঠেছে পুরো জনপদ। কয়রার
কাঁছারীবাড়ী বৃক্ষমেলার ইতিহাস প্রায় দুই দশকের পুরনো। ২০০১ সালে উত্তর বেদকাশীর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স. ম. নজরুল ইসলামের দূরদর্শী ভাবনায় এই মেলার গোড়াপত্তন ঘটে। তার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ছোট পরিসরে শুরু হওয়া এই আয়োজন সময়ের পরিক্রমায় দক্ষিণ খুলনার সর্ববৃহৎ সবুজ মিলনমেলায় পরিণত হয়।
প্রতি বছর মেলায় লাখ লাখ টাকার চারা কেনাবেচার পাশাপাশি জমে উঠত লোকজ উৎসব। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসত এখানে। নাগরদোলা, সার্কাস, হরেক পসরা আর সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক আয়োজনে মেলাটি ছিল উপকূলীয় মানুষের প্রাণের মেলা।
কাঁছারীবাড়ী মেলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি বিশাল বটবৃক্ষের স্মৃতি। মেলার মূল আড্ডা ও ঐতিহ্যের প্রতীক সেই বটগাছটি ২০১৯ সালের ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর তাণ্ডবে উপড়ে যায়। এর আগেও ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলা’র কারণে ২০০৯ ও ২০১০ সালে মেলা বন্ধ ছিল। তবে থেমে থাকেনি এই জনপদ। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর আবারও স্বমহিমায় ফিরে আসে এই উৎসব।
আয়োজক ও স্থানীয়দের বিশ্বাস, হারানো স্মৃতি ও ঐতিহ্যের আমেজ ফিরিয়ে এনে এবারও উপকূলবাসীর মনে নতুন প্রাণের বার্তা দেবে কাঁছারীবাড়ী বৃক্ষমেলা। মেলা প্রাঙ্গণ পূর্ণতা পাবে হাজারো মানুষের কলরবে।