বাংলাদেশ বার্তা টুডে
সাতক্ষীরাকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে ৩ মাসের পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু
সাতক্ষীরাকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে ৩ মাসের পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু শেখ জোবায়ের আল জামান, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে সাতক্ষীরা শহরে শুরু হয়েছে তিন মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি। জেলা প্রশাসন ও সাতক্ষীরা পৌরসভার আয়োজনে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬’ শীর্ষক এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ। উদ্বোধনী আলোচনা সভা শেষে শহরে একটি সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা প্রশাসক নিজে উপস্থিত থেকে রেড ক্রিসেন্ট, বিএনসিসি ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে নিয়ে শহরের বিভিন্ন ড্রেন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কারের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় পথচারী, সাধারণ নাগরিক ও যানবাহনের চালকদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়সংবলিত সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বলেন, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে নাগরিকদের আরও সচেতন হতে হবে। বাড়ির আশপাশ ও শহরের বিভিন্ন স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে আগামী তিন মাস এই পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।
দুমকিতে পায়রা নদীর তীব্র ভাঙন: নিঃস্ব হয়ে গ্রাম ছাড়ছেন বাসিন্দারা
দুমকিতে পায়রা নদীর তীব্র ভাঙন: নিঃস্ব হয়ে গ্রাম ছাড়ছেন বাসিন্দারা সাকিব হোসেন পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি :- পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামটি। গত কয়েকদিনের ভাঙনে নতুন করে বিশটি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে রাস্তার উপরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ইতোমধ্যে দেড়শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন অন্যত্র। যাদের সম্বল নেই তাঁরা বারবার ঘর বাঁধেন নদীর পাশেই। কোন কোন পরিবার ৮- ১০ বার নতুন করে ঘর বাঁধেন। সব ভিটেমাটি শেষ হওয়ায় অনেকেই শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন সরকারি রাস্তার উপর। ঝুকির মধ্যে রয়েছে ৩২ নম্বর আংগারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার, সিকদার বাড়ি জামে মসজিদ ও মোল্লা বাড়ি।ভাঙন অব্যাহত থাকলে অচিরেই বিলীন হবে দুটি বাড়ি সহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।সরেজমিন পরিদর্শনকালে কথা হয় নিটুলী রানীর সাথে। নিটুলী রানীর ভাষ্য,এ পর্যন্ত তিনি সাতবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন। শেষ আশ্রয়টুকু নদীগর্ভে চলে গেলে তিনি সরকারি রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছেন। তার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। আক্ষেপ করে জাকির খান(৫০) বলেন, ‘ কত মানুষ আইলো কত কতা কইলাম, কামের কিছুই হইলো না। আমনেগো লগে কতা কইয়া হইবো কি? কেউতো আমাগো দিকে চাইলো না।’ রিপন মাল (৩৭) জানান, বাপদাদাদের আমল থেকে এ গ্রামটি ভাঙছে। এ বয়সে তিনি পাঁচ ছয়বার বসত ঘর পাল্টিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বাজারে গিয়ে বাসা ভাড়া করে থাকছেন। আংগারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন সিকদার বলেন, এ পর্যন্ত আমাদের সাড়ে তিনশ একর জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ১৯৭৭-৭৮ সালে নদীর অপরপ্রান্তে বাকেরগঞ্জের সাথে নতুন চরে ৬০ টি পরিবারের জন্য ৯০ একর জমি বরাদ্দ দেয়া হলেও বাকেরগঞ্জের লোক জবরদখল করে রাখায় আমাদের কোন পরিবার জমি পায়নি। ভুক্তভোগী বাদল চৌকিদার জানান, বারবার নদী ভাঙনে তাদের সহায়সম্বল কিছুই নেই।বাধ্য হয়ে রাস্তার উপর বসবাস করতে হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে তাদের পূনর্বাসনের দাবি জানান। আংগারিয়া ৩ নম্বর ইউপি সদস্য শাহীন গাজী বলেন, পায়রার অব্যাহত ভাঙনে তাঁর ওয়ার্ডটি বিলুপ্তির পথে। তিনি ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আংগারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বাহেরচর গ্রামটি অস্তিত্ব রক্ষা এবং ভুক্তভোগীদের সাহায্যের জন্য প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান। দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপজেলা পরিষদ থেকে ত্রানসহায়তা প্রদান করা হবে। ভাঙনরোধে পানিউন্নয়ন বোর্ডের সাথে আলোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
হবিগঞ্জ জেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাসান চৌধুরী হিমসিম গ্রেফতার
হবিগঞ্জ জেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাসান চৌধুরী হিমসিম গ্রেফতার হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ জেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাসান চৌধুরী হিমসিমকে গ্রেফতার করেছে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। গত ১২ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ধ্রুবেশের নেতৃত্বে একদল পুলিশ শহরের কালিবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তাকে সুনির্দিষ্ট কোন মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
সবুজের উৎসবে মাতবে উপকুল: শুরু হচ্ছে কয়রার কাঁছারীবাড়ী বৃক্ষমেলা
সবুজের উৎসবে মাতবে উপকুল: শুরু হচ্ছে কয়রার কাঁছারীবাড়ী বৃক্ষমেলা কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি দীর্ঘ দুই বছর বিরতির পর আবারও প্রাণের স্পন্দনে মুখরিত হতে যাচ্ছে উপকূল। খুলনার কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশীতে শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কাঁছারীবাড়ী বৃক্ষমেলা। কাঁছারীবাড়ী বাজার সংলগ্ন সুবিশাল মাঠে ১০ দিনব্যাপী চলবে এই বৃক্ষ উৎসব। মেলা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে গত ২ আগস্ট প্রস্তুতিমূলক প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সরদার মতিয়ার রহমানকে সভাপতি এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শেখ সিরাজুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে মেলা পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। আয়োজকরা জানান, উপকূলে সবুজের বিপ্লব ঘটানো এবং মানুষের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টিই এই মেলার মূল উদ্দেশ্য। মেলায় দেশি-বিদেশি দুর্লভ প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি চার সমাহার থাকবে। দুই বছর পর প্রিয় এই মেলা ফিরে পাওয়ার খবরে এরই মধ্যে উৎসবে মেতে উঠেছে পুরো জনপদ। কয়রার কাঁছারীবাড়ী বৃক্ষমেলার ইতিহাস প্রায় দুই দশকের পুরনো। ২০০১ সালে উত্তর বেদকাশীর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স. ম. নজরুল ইসলামের দূরদর্শী ভাবনায় এই মেলার গোড়াপত্তন ঘটে। তার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ছোট পরিসরে শুরু হওয়া এই আয়োজন সময়ের পরিক্রমায় দক্ষিণ খুলনার সর্ববৃহৎ সবুজ মিলনমেলায় পরিণত হয়। প্রতি বছর মেলায় লাখ লাখ টাকার চারা কেনাবেচার পাশাপাশি জমে উঠত লোকজ উৎসব। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসত এখানে। নাগরদোলা, সার্কাস, হরেক পসরা আর সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক আয়োজনে মেলাটি ছিল উপকূলীয় মানুষের প্রাণের মেলা। কাঁছারীবাড়ী মেলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি বিশাল বটবৃক্ষের স্মৃতি। মেলার মূল আড্ডা ও ঐতিহ্যের প্রতীক সেই বটগাছটি ২০১৯ সালের ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর তাণ্ডবে উপড়ে যায়। এর আগেও ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলা’র কারণে ২০০৯ ও ২০১০ সালে মেলা বন্ধ ছিল। তবে থেমে থাকেনি এই জনপদ। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর আবারও স্বমহিমায় ফিরে আসে এই উৎসব। আয়োজক ও স্থানীয়দের বিশ্বাস, হারানো স্মৃতি ও ঐতিহ্যের আমেজ ফিরিয়ে এনে এবারও উপকূলবাসীর মনে নতুন প্রাণের বার্তা দেবে কাঁছারীবাড়ী বৃক্ষমেলা। মেলা প্রাঙ্গণ পূর্ণতা পাবে হাজারো মানুষের কলরবে। মোক্তার হোসেন। কয়রা খুলনা।
পঞ্চগড় সুগার মিল পরিদর্শনে চায়না, দুবাই ও সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারী দলের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ
পঞ্চগড় সুগার মিল পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ চায়না, দুবাই ও সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারী দলের সঙ্গে পরিদর্শন পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ পঞ্চগড় | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ চায়না, দুবাই ও সিঙ্গাপুর থেকে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসা বিনিয়োগকারী দলের সঙ্গে পঞ্চগড় সুগার মিল পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি বিনিয়োগকারী দলের সদস্যদের নিয়ে পঞ্চগড় সুগার মিল পরিদর্শনে যান। এ সময় প্রতিমন্ত্রী ও বিদেশি বিনিয়োগকারী দলের সদস্যদের মিল প্রাঙ্গণে স্বাগত জানানো হয়। পরে তারা পঞ্চগড় সুগার মিলের বিভিন্ন স্থাপনা ও কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে মিলের বর্তমান অবস্থা, অবকাঠামো, উৎপাদন সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা নেন বিনিয়োগকারীরা। এ সময় পঞ্চগড় সুগার মিলের আধুনিকায়ন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মিলকে ঘিরে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি মিলের বিদ্যমান অবকাঠামো ও সম্ভাব্য বিনিয়োগ ক্ষেত্রগুলোও পর্যবেক্ষণ করেন বিদেশি বিনিয়োগকারী দলের সদস্যরা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চায়না, দুবাই ও সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারীদের এই পরিদর্শন পঞ্চগড়ের শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে সুগার মিলের কার্যক্রমে নতুন গতি আসার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পঞ্চগড় সুগার মিলকে আধুনিকায়ন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে আরও কার্যকর করে তোলা গেলে জেলার শিল্পখাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। পরিদর্শন শেষে বিনিয়োগকারী দলের সদস্যরা মিলের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করে সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। পঞ্চগড় সুগার মিলকে ঘিরে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও এগিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
বাগেরহাটে তিন মাসব্যাপী বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন
বাগেরহাটে তিন মাসব্যাপী বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাগেরহাটে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বাগেরহাটে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ রোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিন মাসব্যাপী একটি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। গত শনিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে কর্মসূচিটির শুভ সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মূলত মশাবাহিত এই রোগটির বিস্তার আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে যাওয়ার আগেই স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ থেকে দেশব্যাপী এই অভিযানের অংশ হিসেবে বাগেরহাটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আগামী ৯০ দিন ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। উদ্বোধনী এই কর্মসূচির আওতায় আগামী তিন মাস জেলার প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে নিবিড় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। বিশেষ করে এডিস মশার প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত স্থানগুলো ধ্বংস করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বর্ষা মৌসুমের আগেই ডেঙ্গুর আক্রমণ যেভাবে জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে, তার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যেই এই মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সাজানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা সম্ভব, যার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। কার্যক্রমটির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বাড়িঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত এবং নির্মাণাধীন ভবনের আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কোনো অবস্থাতেই যেন বাসাবাড়ি বা টবের আশপাশে কিংবা পরিত্যক্ত পাত্রে তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে না পারে, সে বিষয়ে স্থানীয় নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের ভাষ্যমতে, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ কেবল একটি মৌসুমী কাজ নয়, বরং এটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করা জরুরি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, স্কাউট এবং সামাজিক সংগঠনের কর্মীদের এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে প্রতিটি বাড়িতে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও উঠান বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সচেতনতার বার্তাটি তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এই তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বাগেরহাট জেলায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে কেবল উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা কিংবা সাময়িক অভিযানের মধ্যে এই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং নিয়মিত মনিটরিং করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যদি প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করেন, তবেই এই উদ্যোগের সুফল মিলবে এবং ডেঙ্গুর মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সাধারণ মানুষ সুরক্ষা পাবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
তাড়াইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা, মশকনিধন অভিযান ও সচেতনতামূলক র্যালি
তাড়াইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা, মশকনিধন অভিযান ও সচেতনতামূলক র্যালি মো. দিদারুল ইসলাম, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশকনিধন অভিযান ও সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ এর অংশ হিসেবে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) তাড়াইল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায় তাড়াইল উপজেলা প্রশাসনিক ভবন প্রাঙ্গণ থেকে স্থানীয় কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতেই উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, সড়ক ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে মশকনিধন অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং বাড়িঘর, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু শুধু একটি পরিবারের সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি বিষয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসন কিংবা পৌরসভার একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। মশার বংশবিস্তার রোধে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তারা আরও বলেন, এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, পুরোনো টায়ারসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। বক্তারা বলেন, শুধু মশকনিধন অভিযান পরিচালনা করলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা ও সামাজিক অংশগ্রহণ। নিজের বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি প্রতিবেশী ও আশপাশের পরিবেশও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। সরকারের ঘোষিত কর্মসূচিটি ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাস চলবে এবং প্রতি শনিবার দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তাড়াইলের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশকনিধন অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে উপজেবাসীকে নিজ নিজ বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা আখতার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জিসান আলী, তাড়াইল থানা ওসি তদন্ত মাসুদুর রহমান, তাড়াইল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান মিয়া, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ রায়, উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আল আমীন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার এনামুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রিয়া রায়, ডা তানভীরসহ উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী তাড়াইল উপজেলা শাখার আমির হাবিবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাড়াইল উপজেলা শাখার সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ গন অধিকার পরিষদ তাড়াইল উপজেলা শাখার সভাপতি জাকিরুল ইসলাম বাকি, তাড়াইল সহিলাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম মিয়া, সহিলাটী আবদুল হালিম হোসাইনিয়া দাখিল মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা আনোয়ার হোসেন সহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তাড়াইল উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজন করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা আরও বাড়বে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশকনিধন অভিযান অব্যাহত রাখলে পৌর এলাকায় ডেঙ্গুসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
রাষ্ট্র সংস্কারের শুরু হোক পরিবার থেকে
রাষ্ট্র সংস্কারের শুরু হোক পরিবার থেকে মোহাম্মদ হাসান সাংবাদিক ও কলামিস্ট পরিবার মানুষের জীবনের প্রথম প্রতিষ্ঠান, প্রথম আশ্রয় এবং প্রথম শিক্ষালয়। একটি শিশু পৃথিবীতে এসে প্রথম যে মানুষগুলোর কাছ থেকে ভাষা, আচরণ, ভালোবাসা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ শেখে, তারা তার পরিবারের সদস্য। সে শুধু কথা বলা কিংবা সামাজিক আচরণ শেখে না; পরিবার থেকেই তার মধ্যে তৈরি হয় ন্যায়-অন্যায়ের বোধ, দায়িত্বশীলতা, সহমর্মিতা, পরমতসহিষ্ণুতা এবং অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মানসিকতা। অর্থাৎ একজন মানুষের চরিত্র গঠনের ভিত্তি নির্মিত হয় পরিবারেই। সেই অর্থে পরিবারকে কেবল সমাজের ক্ষুদ্রতম একক হিসেবে দেখলে এর গুরুত্বকে খাটো করা হয়। পরিবার আসলে একটি জাতির নৈতিক ও মানবিক ভিত্তি নির্মাণের প্রথম কারখানা। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের রাষ্ট্রচিন্তায় পরিবার থেকে বৃহত্তর সামাজিক সংগঠন এবং সেখান থেকে রাষ্ট্রের বিকাশের ধারণা পাওয়া যায়। ফলে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণের প্রশ্নে পরিবারের ভূমিকা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। আমরা রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে কথা বলি। রাজনৈতিক সংস্কার, প্রশাসনিক সংস্কার, বিচারব্যবস্থার সংস্কার কিংবা নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে বিস্তর আলোচনা করি। কিন্তু এসব সংস্কারের পেছনে যে মানুষগুলো কাজ করবেন, তাদের নৈতিক ভিত্তি কোথায় তৈরি হবে—এই মৌলিক প্রশ্নটি অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়। বাস্তবতা হলো, রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন মানুষ। সেই মানুষের মূল্যবোধ, বিবেক, দায়িত্ববোধ ও ন্যায়বোধের প্রথম পাঠ শুরু হয় পরিবারে। একটি পরিবারে যদি ন্যায়, সমতা, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার চর্চা থাকে, তার প্রভাব সন্তানের ব্যক্তিত্বে দীর্ঘস্থায়ীভাবে পড়ে। বিপরীতে পরিবারে যদি বৈষম্য, পক্ষপাত, সহিংসতা, অসততা ও কর্তৃত্বপরায়ণতার চর্চা থাকে, শিশুর মনোজগতে তারও গভীর ছাপ পড়ে। পরবর্তী জীবনে সেই ব্যক্তি যখন সমাজ, প্রশাসন কিংবা রাষ্ট্রের কোনো দায়িত্বে আসেন, তখন তার আচরণে শৈশবে অর্জিত মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটতে পারে। এ কারণেই রাষ্ট্রের বড় বড় সংকটের শিকড় কখনো কখনো সমাজের আরও গভীরে, ব্যক্তিমানুষের চরিত্র ও পারিবারিক শিক্ষার মধ্যে খুঁজে দেখা প্রয়োজন। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অসহিষ্ণুতা কিংবা অন্যায়ের প্রতি নীরব সমর্থন—এসব কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফল নয়; এগুলোর পেছনে ব্যক্তির নৈতিক গঠনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি শিশু যদি ছোটবেলা থেকেই দেখে যে পরিবারের মধ্যে যোগ্যতার চেয়ে পক্ষপাতের মূল্য বেশি, সত্যের চেয়ে সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ, কিংবা শক্তিশালী সদস্যের অন্যায়কে প্রশ্ন করা যাবে না—তাহলে তার মধ্যে ন্যায়বোধ কীভাবে শক্তিশালী হবে? আবার যে পরিবারে শিশু তার মতামত প্রকাশের সুযোগ পায়, ভুল করলে সংশোধনের সুযোগ পায় এবং অন্যের মতকে সম্মান করতে শেখে, সেখানে গণতান্ত্রিক মানসিকতার বিকাশের সম্ভাবনাও বেশি। তাই গণতন্ত্রের শিক্ষা শুধু সংসদ, নির্বাচন কিংবা রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গণতন্ত্রের প্রথম অনুশীলন হতে পারে একটি পরিবারে। সন্তানকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া, তার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করা, ভাই-বোনের মধ্যে ন্যায়সংগত আচরণ করা—এসবই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রাথমিক অনুশীলন। পরিবারের ভেতরে যদি ন্যায়বিচারের চর্চা না থাকে, বৃহত্তর সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার দাবি অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে। কারণ রাষ্ট্র কোনো বিচ্ছিন্ন যন্ত্র নয়; রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে ওঠে মানুষের আচরণ, মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে। ব্যক্তি থেকে পরিবার, পরিবার থেকে সমাজ এবং সমাজ থেকে রাষ্ট্র—এই ধারাবাহিক সম্পর্ককে উপেক্ষা করে টেকসই রাষ্ট্র সংস্কার সম্ভব নয়। এখানে উরি ব্রনফেনব্রেনারের পরিবেশগত সিস্টেম তত্ত্বও গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর বিকাশে পরিবারের মতো ঘনিষ্ঠ পরিবেশের প্রভাব অত্যন্ত গভীর। পরিবার শিশুর মানসিক, সামাজিক ও নৈতিক বিকাশের প্রধান ক্ষেত্রগুলোর একটি। ফলে পারিবারিক পরিবেশ যেমন শিশুকে প্রভাবিত করে, তেমনি পরবর্তী সময়ে সেই শিশুর আচরণ সমাজ ও রাষ্ট্রের বৃহত্তর কাঠামোকেও প্রভাবিত করতে পারে। অর্থাৎ পরিবার ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক একমুখী নয়। রাষ্ট্রের নীতি পরিবারের ওপর প্রভাব ফেলে, আবার পরিবারের ভেতরে গড়ে ওঠা নাগরিকরাই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তাই রাষ্ট্রের সুস্থতার জন্য পরিবারকে সুস্থ রাখা এবং পরিবারের সুস্থতার জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করা—দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের বর্তমান আর্থসামাজিক বাস্তবতায় বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বেকারত্ব, অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক বৈষম্য, প্রযুক্তিনির্ভর জীবন, পারিবারিক সময়ের সংকট এবং নানা ধরনের সামাজিক অস্থিরতা পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। অনেক ক্ষেত্রে সন্তান ও অভিভাবকের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে; কোথাও আবার শাসনের নামে কঠোরতা, ভালোবাসার পরিবর্তে অবহেলা কিংবা মূল্যবোধের জায়গায় ভোগবাদ প্রাধান্য পাচ্ছে। এ অবস্থায় পরিবারকে শুধু ব্যক্তিগত পরিসরের বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। পরিবারের সুস্থতা একটি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বিষয়ও বটে। কারণ আজকের শিশু আগামী দিনের নাগরিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রশাসক, উদ্যোক্তা, আইনপ্রণেতা কিংবা রাষ্ট্রনায়ক। তার চরিত্র ও মূল্যবোধের ভিত্তি দুর্বল হলে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের ওপরও তার প্রভাব পড়বে। সুতরাং রাষ্ট্র সংস্কারের দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচিতে পারিবারিক শিক্ষা ও অভিভাবকত্বকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে অভিভাবকদের জন্য ‘পারিবারিক মূল্যবোধ ও ইতিবাচক অভিভাবকত্ব’ বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা চালু করা যেতে পারে। সন্তানকে কীভাবে শাসন করতে হবে, কীভাবে তার মানসিক বিকাশে সহায়তা করতে হবে, কীভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে হবে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদেরও নিয়মিত শিক্ষা প্রয়োজন। তবে এর অর্থ এই নয় যে রাষ্ট্র পরিবারের অভ্যন্তরীণ জীবনে অযাচিত হস্তক্ষেপ করবে। বরং রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে পরিবারকে প্রয়োজনীয় জ্ঞান, সহায়তা, নিরাপত্তা ও সামাজিক পরিবেশ দেওয়া, যাতে পরিবার তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারে। একটি শিশুর নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করা যেমন পরিবারের দায়িত্ব, তেমনি সেই পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ে তোলাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমাদের মনে রাখতে হবে, ভালো পরিবার মানেই নিখুঁত পরিবার নয়। ভুল, মতভেদ ও সংকট সব পরিবারেই থাকতে পারে। কিন্তু একটি সুস্থ পরিবার হলো সেই পরিবার, যেখানে ভুল স্বীকারের সুযোগ আছে, আলোচনার সুযোগ আছে, ভালোবাসা আছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়সংগত অবস্থান নেওয়ার সাহস আছে। রাষ্ট্র সংস্কারের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। কেবল আইন পরিবর্তন করে মানুষের আচরণ পরিবর্তন করা যায় না। নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি করলেই নৈতিকতা তৈরি হয় না। টেকসই পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন মানুষের মানসিকতা ও মূল্যবোধের পরিবর্তন। আর সেই পরিবর্তনের প্রথম ক্ষেত্র হলো পরিবার। তাই রাষ্ট্র সংস্কারের আলোচনা শুধু ক্ষমতার কাঠামো, প্রশাসনিক ব্যবস্থা কিংবা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। আমাদের প্রশ্ন করতে হবে—আমরা কেমন নাগরিক তৈরি করছি? আমাদের পরিবারে সন্তান কী শিখছে? সে কি অন্যের অধিকারকে সম্মান করতে শিখছে? ভিন্নমতকে সহ্য করতে শিখছে? অন্যায় সুবিধা প্রত্যাখ্যান করতে শিখছে? দায়িত্ব পালনের মূল্য বুঝছে? নাকি কেবল নিজের স্বার্থ অর্জনের কৌশল শিখছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের চরিত্র নির্ধারণ করবে। রাষ্ট্রের বড় পরিবর্তন অনেক সময় ছোট ছোট জায়গা থেকেই শুরু হয়। একটি পরিবারে ন্যায় প্রতিষ্ঠা, একটি শিশুকে সত্য কথা বলার সাহস দেওয়া, ভাই-বোনের মধ্যে সমান আচরণ করা, ভিন্নমতকে সম্মান করা কিংবা অন্যের কষ্ট অনুভব করতে শেখানো—এসব হয়তো খুব ছোট কাজ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু হাজার হাজার পরিবারে একই চর্চা তৈরি হলে তার সম্মিলিত প্রভাব সমাজ ও রাষ্ট্রে পড়বেই। আমাদের প্রয়োজন তাই পরিবার ও রাষ্ট্রের মধ্যে একটি নতুন মানবিক সম্পর্কের ধারণা। পরিবার হবে মূল্যবোধ, মানবিকতা, ন্যায় ও দায়িত্ববোধের প্রথম পাঠশালা; আর রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে সেই পরিবারের নিরাপত্তা, মর্যাদা, শিক্ষা ও বিকাশের অনুকূল পরিবেশ। রাষ্ট্র সংস্কার কোনো একদিনের প্রকল্প নয়। এটি একটি দীর্ঘ সামাজিক প্রক্রিয়া। এর সাফল্য নির্ভর করবে শুধু নতুন আইন বা নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরির ওপর নয়, বরং সেই প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনাকারী মানুষের নৈতিক মানের ওপর। আর সেই নৈতিক মানুষ তৈরির কাজ শুরু হয় জন্মের পর থেকেই—নিজের ঘরে, নিজের পরিবারে। তাই একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্ন যদি সত্যিই আমাদের থাকে, তবে রাষ্ট্রের দিকে আঙুল তোলার পাশাপাশি নিজেদের ঘরের দিকেও তাকাতে হবে। পরিবর্তনের দাবি তোলার আগে নিজেদের আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে। সন্তানকে যে মূল্যবোধ শেখাতে চাই, তা আগে নিজেদের জীবনাচরণে ধারণ করতে হবে। রাষ্ট্রের সংস্কারের বীজ কোনো মন্ত্রণালয়ের ফাইলে নয়, কোনো রাজনৈতিক স্লোগানেও নয়—তার প্রথম বীজ বোনা হয় পরিবারের মাটিতে। সেই পরিবার যদি হয় ন্যায়, মানবিকতা, শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চার ক্ষেত্র, তবে সেখান থেকেই তৈরি হবে দায়িত্বশীল নাগরিক, সৎ নেতৃত্ব এবং মানবিক রাষ্ট্রের ভিত্তি। অতএব, রাষ্ট্র বদলানোর দীর্ঘ যাত্রার প্রথম পদক্ষেপ হোক নিজের ঘর থেকে। পরিবারকে বদলাতে পারলেই বদলাবে মানুষ; মানুষ বদলালেই বদলাবে সমাজ; আর সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতাতেই গড়ে উঠবে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র। লেখক: মোহাম্মদ হাসান, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের বিশেষ সভা, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্নে দীর্ঘমেয়াদি কমিটির অনুমোদন
রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের বিশেষ সভা দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্নে দীর্ঘমেয়াদি কমিটির অনুমোদন মিলন বৈদ্য শুভ,রাউজান (চট্টগ্রাম) : আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের একটি দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক কমিটির বিশেষ অনুমোদন দেওয়া হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সমর্থন এবং চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সার্বিক আন্তরিকতা ও দিকনির্দেশনায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। অনুমোদিত কমিটিতে শ্রীযুত অরুণ পালিত (বাসু) সভাপতি এবং শ্রীযুত সুমন দাশগুপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সভায় প্রধান অতিথি ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রীযুত অরুণ পালিত (বাসু), সাধারণ সম্পাদক শ্রীযুত সুমন দাশগুপ্ত, রাউজান উপজেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রীযুত দীপক তালুকদার, দাশপাড়া অখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শ্রীযুত অলক দাশগুপ্ত, রাউজান ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজের সভাপতি শ্রীযুত নরেশ দাশগুপ্ত, পৌর সভাপতি ডা. লিটন শর্মা, রাউজান রামকৃষ্ণ মিশনের সাধারণ সম্পাদক শ্রীযুত মানু কর্মকার, রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের দপ্তর সম্পাদক শ্রীযুত রূপস দাশগুপ্ত এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রীযুত পাবেল চৌধুরী। সভায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও রাউজান পৌরসভা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সাঈদ আমান রানা, রাউজান উপজেলা যুবদলের সভাপতি এম. শাহজাহান সাহিল, রাউজান পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা শাহাদাত মির্জা, রাউজান পৌরসভা যুবদলের সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা আরিফুল ইসলাম আরিফ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সুমন, যুবদল নেতা মো. হাসান বাহাদুর, রাউজান পৌরসভা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রিদওয়ানুল হক, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, রাউজান পৌরসভা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দীন চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বাপ্পা কুমার দাশ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস. এম. নেওয়াজ এবং রাউজান পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মুন্না তালুকদার। এ ছাড়া সভায় মানস সরকার, হিমাদ্রি পাল ইমন, ডা. জনি দাশ, ডা. উজ্জ্বল দে, শ্রীযুত সুজন দেসহ সনাতনী সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় যুবনেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সমন্বিত করার বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মহাদেবপুরে ভুয়া প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেওয়ার অভিযোগে নারী আটক, মুছলেকা দিয়ে মুক্তি
মহাদেবপুরে ভুয়া প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেওয়ার অভিযোগে নারী আটক, মুছলেকা দিয়ে মুক্তি মোঃ রমজান হোসেন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁর মহাদেবপুরে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়া এবং ভুয়া কার্ড দেওয়ার অভিযোগে আটক জনি আক্তার জুঁই (৩৫) লিখিত আপোষনামা দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তাকে আটক করে পুলিশ। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। জনি আক্তার উপজেলার ১০ নং ভীমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর উত্তরপাড়া গ্রামের হামিদুল ইসলামের স্ত্রী। লিখিত আপোষনামা সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৮০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে জনি আক্তারের বিরুদ্ধে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ওই টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আপোষনামায় স্বাক্ষর করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দিলে ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন বলে আপোষনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ভীমপুর গ্রামের ১৩ জনকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে জনি আক্তার বিভিন্ন সময়ে মোট ৭৮ হাজার ৮০০ টাকা নেন। গত ১৬ আগস্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার কথা বলে তাদের ডেকে নেওয়া হলেও পরে নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি। এরপর গত ২০ আগস্ট দুপুরে ভুক্তভোগীরা তার বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরত চান। এ সময় তাদের মধ্যে তিনজনকে ভুয়া প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিলে জনি আক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে টাকা ফেরত দেবেন না বলে জানান এবং ভুক্তভোগীদের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। পরে এ ঘটনায় তহমিনা ও রেনুকা বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং মহাদেবপুর থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে জনি আক্তার জুঁইকে আটক করে পুলিশ। অন্যদিকে, অভিযুক্ত জনি অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার বলেন, তার দেবরের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি কারও কাছ থেকে টাকা নেননি বলেও দাবি করেন। এদিকে, বক্তব্য নেওয়ার পর সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে প্রতিবেদককে ফোন করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে জনি আক্তারের বিরুদ্ধে। তিনি নিজেও একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন। মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, “আটকের পর ভুক্তভোগীদের সঙ্গে বসে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন জনি আক্তার। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে লিখিত আপোষনামায় স্বাক্ষর করায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
দুটি সমুদ্রপথ বন্ধ হলে কী হবে? হরমুজ থেকে বাব আল-মান্দাব: বিশ্ববাণিজ্যের ‘চোকপয়েন্ট’ সংকট
দুটি সমুদ্রপথ বন্ধ হলে কী হবে? হরমুজ থেকে বাব আল-মান্দাব—বিশ্ববাণিজ্যের ‘চোকপয়েন্ট’ সংকট হরমুজে জাহাজ চলাচল সংকুচিত, বাব আল-মান্দাবে হুথিদের অগ্রযাত্রা—জ্বালানি ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার সামনে নতুন ঝুঁকি বিশেষ প্রতিনিধি: সঞ্জয় মজুমদার দুবাই/আদেন, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবার বিশ্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ—হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দাব—কে একই সংকটের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। হরমুজে বাণিজ্যিক ট্যাংকার চলাচল হামলা ও নিরাপত্তা-ঝুঁকির কারণে ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা বাব আল-মান্দাবের কৌশলগত পেরিম (মায়ুন) দ্বীপে পৌঁছে যাওয়ায় লোহিত সাগরের প্রবেশপথ নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরের তেল ও গ্যাস বিশ্ববাজারে পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান পথ। সাম্প্রতিক হামলার পর সেখানে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির পর্যায়ে নেমে এসেছে। রয়টার্সের উদ্ধৃত Kpler-এর তথ্য অনুযায়ী, এক পর্যায়ে সপ্তাহান্তে মাত্র পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছিল, যেখানে আগের সপ্তাহান্তে সংখ্যা ছিল ৩১। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক ট্যাংকারকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে হরমুজ অতিক্রমের পরামর্শ দিয়েছে, যাতে তাদের জন্য সামরিক আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়। এই সংকটের দ্বিতীয় প্রান্ত এখন বাব আল-মান্দাব। ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রার ফলে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোকা এবং কৌশলগত পেরিম দ্বীপ তাদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পেরিম দ্বীপটি বাব আল-মান্দাবের মাঝামাঝি অবস্থান করায় এর কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি। এই জলপথ লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং এর মাধ্যমে জাহাজগুলো সুয়েজ খাল হয়ে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যাতায়াত করে। দুটি জলপথের সংকটের গুরুত্ব এখানেই যে, এগুলো শুধু আঞ্চলিক সামুদ্রিক রুট নয়; এগুলো বিশ্বের জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ‘চোকপয়েন্ট’। হরমুজে বাধা সৃষ্টি হলে পারস্য উপসাগরীয় তেল রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর বাব আল-মান্দাবের নিরাপত্তা সংকট হলে এশিয়া-ইউরোপের সমুদ্রবাণিজ্যকে দীর্ঘ বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দিতে হতে পারে। ইতোমধ্যে লোহিত সাগরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বহু জাহাজকে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে চলতে হয়েছে, ফলে যাত্রার সময় ও জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে সৌদি আরবের East-West oil pipeline সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া। ১২ সেপ্টেম্বর সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, ইরাক থেকে উৎক্ষেপিত ড্রোন হামলার পর নিরাপত্তার কারণে প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনটি বন্ধ করা হয়েছে। এই পাইপলাইনটি হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌদি তেলকে লোহিত সাগরের দিকে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। রয়টার্সের হিসাবে পাইপলাইনটির সক্ষমতা প্রতিদিন প্রায় ৪–৫ মিলিয়ন ব্যারেল। অর্থাৎ, সংকটটি এখন কেবল একটি সমুদ্রপথের নয়। হরমুজে সামুদ্রিক চলাচল সংকুচিত, বাব আল-মান্দাবে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে এবং সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থলভিত্তিক বিকল্প তেলপথও সাময়িকভাবে বন্ধ। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহের অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে। এই চাপের প্রতিফলন ইতোমধ্যে তেলের বাজারেও দেখা যাচ্ছে; ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে এবং ১১ সেপ্টেম্বর এক পর্যায়ে প্রায় ১০৮ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। বিশ্লেষকদের বড় উদ্বেগ এখন একটি সম্ভাব্য chain reaction নিয়ে। যদি হরমুজে চলাচল দীর্ঘ সময় সীমিত থাকে এবং একই সময়ে বাব আল-মান্দাবও ব্যাপকভাবে অনিরাপদ হয়ে পড়ে, তাহলে জ্বালানি পরিবহন থেকে শুরু করে কনটেইনার শিপিং, বিমা ব্যয়, খাদ্য ও শিল্পপণ্যের পরিবহন খরচ—সবকিছুর ওপর চাপ বাড়তে পারে। এশিয়ার তেল আমদানিকারকদের জন্য বিকল্প সমুদ্রপথ দীর্ঘ হওয়ায় অতিরিক্ত সময় ও জ্বালানি ব্যয় যুক্ত হতে পারে। এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে আরও বিস্তৃত হতে পারে। তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে, যার প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে পড়ার আশঙ্কা থাকে। জাহাজের রুট পরিবর্তিত হলে এশিয়া-ইউরোপ বাণিজ্যের সরবরাহ সময়ও বাড়তে পারে। ফলে একটি আঞ্চলিক সামরিক সংঘাত ধীরে ধীরে বিশ্ব অর্থনীতির সরবরাহ-নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিতে পারে। তবে পরিস্থিতিকে এখনই “দুটি সমুদ্রপথ সম্পূর্ণ বন্ধ” হিসেবে বর্ণনা করা ঠিক হবে না। হরমুজে জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকলেও তা ব্যাপকভাবে কমেছে, আর বাব আল-মান্দাবের ক্ষেত্রেও মূল উদ্বেগ হলো নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য বাধা। হুথিরা নৌ চলাচল নিরাপদ থাকার দাবি করলেও সৌদি জাহাজকে তারা ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেছে—যা বাণিজ্যিক জাহাজ পরিচালনাকারীদের জন্য অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এখন মূল প্রশ্ন হলো—বিশ্বের কাছে কি তৃতীয় কোনো কার্যকর বিকল্প আছে? কেপ অব গুড হোপ হয়ে জাহাজ ঘুরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও তা দীর্ঘ, ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। আর স্থলভিত্তিক বিকল্প পাইপলাইনও যদি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থার দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে হরমুজ ও বাব আল-মান্দাবের পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের গতিপথ নয়, বিশ্ববাজারের স্থিতিশীলতাও নির্ধারণ করতে পারে। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি তাই শুধু দুটি প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে নয়—প্রশ্ন হলো, বিশ্বের অর্থনীতি কতটা নির্ভরশীল কয়েকটি সংকীর্ণ সমুদ্রপথের ওপর। হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব একই সময়ে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার মধ্যে পড়লে একটি আঞ্চলিক সংঘাত কীভাবে তেল, জাহাজ, খাদ্য, শিল্প ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে ছড়িয়ে পড়ে—তার বড় পরীক্ষা এখন শুরু হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে গণ/ধ/র্ষ/ণ: প্রধান আসামি গাজীপুরে গ্রেফতার
রফিকুল ইসলাম সাবুল : রংপুর প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ এবং ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে মামলার প্রধান আসামি মো. আল আমিনকে (৩০) গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ৫ মিনিটে গাজীপুর মহানগরের সদর থানাধীন ভাওরাইদ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আল আমিন রাণীশংকৈল উপজেলার হাটগাঁও গ্রামের মো. হানিফের ছেলে। র্যাব জানায়, মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ওই নারী তার বাবার বাড়িতে গোসল করার সময় আসামি জনি বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ওই নারী বাথরুম থেকে বের হলে বাইরে অবস্থান করা আল আমিন তার গলা ধরে তাকে ফের বাথরুমে নিয়ে যায়। এ সময় জনি মোবাইল ফোনে ওই নারীর ভিডিও ধারণ করে তাকে ধর্ষণ করে। পরে আল আমিনও তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। র্যাবের ভাষ্য, ঘটনার পর ধারণ করা ভিডিও অন্যত্র স্থানান্তর করে আসামিরা ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দেয়। সর্বশেষ গত ২ আগস্ট অপর আসামি মাহবুব আলম তার মোবাইল ফোনে থাকা ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গত ২০ আগস্ট ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে রাণীশংকৈল থানায় গণধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ২৮। মামলা দায়েরের পর আসামিরা গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারে র্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ রংপুরের সদর কোম্পানি ও র্যাব-১-এর সিপিএসসি, গাজীপুরের যৌথ দল অভিযান চালিয়ে আল আমিনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার আল আমিনকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
৫০ পয়সার রসিদে ৪৭ বছরের রাজনৈতিক পথচলা
৫০ পয়সার রসিদে ৪৭ বছরের রাজনৈতিক পথচলা বিবর্ণ কাগজে আজও জীবন্ত ১৯৭৯- পাঁচবিবির আবুল হোসেন খায়ের স্বপনের রাজনৈতিক স্মৃতি মোস্তাকিন হোসেন, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: এক টুকরো বিবর্ণ কাগজ। বয়স প্রায় ৪৭ বছর। কাগজটির আর্থিক মূল্য ছিল মাত্র ৫০ পয়সা। অথচ সময়ের স্রোত পেরিয়ে সেই কাগজই আজ হয়ে উঠেছে একজন মানুষের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অমূল্য স্মারক। ১৯৭৯ সালে ছাত্রজীবনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সদস্য হওয়ার সেই রসিদটি এখনও পরম যত্নে সংরক্ষণ করে রেখেছেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌরসভার দমদমা মহল্লার আবুল হোসেন খায়ের স্বপন। কাগজটি এখন জীর্ণ। বিবর্ণ হয়ে গেছে তার রং। কোথাও কোথাও সময়ের ক্ষত স্পষ্ট। তবুও মুছে যায়নি তার ইতিহাস। এখনও পড়া যায়—‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল’ এবং ‘সদস্যভুক্ত হওয়ার রসিদ’। সেখানে রয়েছে সদস্যভুক্তর ক্রমিক নম্বর, নাম, পিতার নাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম, থানা ও জেলার তথ্যসহ প্রয়োজনীয় বিবরণ। নিচে রয়েছে সদস্য ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষর। আজকের দিনে ৫০ পয়সা হয়তো নগণ্য। কিন্তু ৪৭ বছর আগে দেওয়া সেই ৫০ পয়সাই যেন স্বপনের রাজনৈতিক জীবনের প্রথম স্বাক্ষর। একটি ছোট্ট রসিদ থেকে শুরু হয়েছিল যে পথচলা, তা সময়ের সঙ্গে বিস্তৃত হয়েছে স্থানীয় রাজনীতি থেকে জেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। যে রসিদে শুরু হয়েছিল পথচলা আবুল হোসেন খায়ের স্বপনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালে জয়পুরহাট সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর দাবি, তিনি জয়পুরহাট সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের একজন। তাঁর কাছে সংরক্ষিত রসিদটি সেই সময়েরই স্মারক। সদস্যভুক্তর প্রক্রিয়া, সদস্যের পরিচয় এবং সংগঠনের প্রতি অঙ্গীকার—সবকিছুরই ছাপ রয়েছে ওই কাগজে। একটি রসিদ কখনও কখনও কেবল অর্থ লেনদেনের প্রমাণ থাকে না। সময়ের ব্যবধানে সেটিই হয়ে উঠতে পারে জীবনের একটি অধ্যায়ের দলিল। স্বপনের কাছে ১৯৭৯ সালের এই রসিদ ঠিক তেমনই একটি দলিল। ছাত্রদল থেকে বিএনপির রাজনীতিতে ছাত্রজীবনে রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন স্বপন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি পাঁচবিবি থানা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং পাঁচবিবি মহীপুর হাজী মহসীন সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি যুবদল ও বিএনপির রাজনীতিতেও বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন বলে জানান। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি পাঁচবিবি থানা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি, পাঁচবিবি থানা বিএনপির সদস্য, পাঁচবিবি পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সদস্য ও প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অর্থাৎ ১৯৭৯ সালে কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের একজন তরুণ শিক্ষার্থী হিসেবে যে রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে তা পরিণত হয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায়। কেন এখনও আগলে রেখেছেন ৫০ পয়সার রসিদ? প্রশ্নটি খুব সাধারণ—প্রায় পাঁচ দশক ধরে একটি পুরোনো কাগজ কেন এত যত্নে রেখে দিয়েছেন? স্বপনের কাছে এর উত্তরও আবেগের। তিনি বলেন, এই রসিদ শুধু তাঁর ছাত্রদলের সদস্য হওয়ার কাগজ নয়; এটি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিনের স্মৃতি। জীবনের নানা উত্থান-পতন, রাজনৈতিক পরিবর্তন, আন্দোলন-সংগ্রাম ও সময়ের পরিবর্তনের মধ্যেও তিনি রসিদটি ফেলে দেননি। তাঁর ভাষায়, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা করেন। তখন আমি জয়পুরহাট সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সেই সময় সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত হই। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছি। সদস্য হওয়ার সময় পাওয়া এই রসিদটি আমার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। তাই প্রায় ৪৭ বছর ধরে এটি যত্ন করে সংরক্ষণ করে রেখেছি। রাজনীতির দীর্ঘ পথের আরেক অধ্যায় মামলা দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মামলা-মোকদ্দমার অভিজ্ঞতার কথাও জানান আবুল হোসেন খায়ের স্বপন। তাঁর দাবি, আওয়ামীলীগ সরকারের সময় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিস্ফোরক ও ককটেল বোমা-সংক্রান্ত দুটি মামলা হয়। পরে পাঁচবিবি থানা পুলিশ ওই মামলাগুলোতে ফাইনাল চার্জশিট দেয় বলেও তিনি দাবি করেন। তৎকালীন পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, তাঁকে আটক করা হবে কি না—এ নিয়ে তৎকালীন ডিএসবি কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ ছিল। কেউ তাঁকে আটক করার পক্ষে ছিলেন, আবার কেউ বলেছিলেন, তিনি কোনো অন্যায় করেননি—তাহলে তাঁকে কেন আটক করা হবে? ৫০ পয়সার কাগজ, ৪৭ বছরের স্মৃতি সময় অনেক কিছু বদলে দেয়। বদলে যায় মানুষ, বদলে যায় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, বদলে যায় সংগঠনের কাঠামো ও নেতৃত্বের ধরন। কিন্তু কিছু স্মৃতি থেকে যায়—নীরবে, নিভৃতে। আবুল হোসেন খায়ের স্বপনের কাছে সেই স্মৃতির নাম একটি ৫০ পয়সার রসিদ। ১৯৭৯ সালের সেই ছোট্ট কাগজটি আজ আর বাজারে কোনো মূল্য বহন করে না। কিন্তু একজন মানুষের জীবনের কাছে এর মূল্য অনেক বেশি। কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর তারুণ্য, ছাত্রজীবন, রাজনীতিতে প্রবেশ, দায়িত্ব পালন, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং দীর্ঘ পথচলার স্মৃতি। একটি রসিদ দিয়ে কোনো মানুষের পুরো রাজনৈতিক জীবনকে মাপা যায় না। কিন্তু একটি মানুষের রাজনৈতিক যাত্রার শুরুর মুহূর্তটিকে ধরে রাখতে পারে একটি রসিদ—যেমনটি ধরে রেখেছে স্বপনের ৫০ পয়সার সেই কাগজটি। প্রায় পাঁচ দশক ধরে যত্নে রাখা ওই বিবর্ণ রসিদ তাই কেবল একটি পুরোনো কাগজ নয়। এটি একজন মানুষের জীবনের একটি সময়ের দৃশ্যমান স্মারক; একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি ক্ষুদ্র কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ দলিল। আজ কাগজটির বয়স ৪৭ বছর। এর অক্ষরগুলো হয়তো সময়ের ভারে ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছে। কিন্তু স্মৃতির কাছে এর লেখা এখনও স্পষ্ট। ৫০ পয়সার সেই রসিদ যেন বলে যায়—সময় চলে যায়, প্রজন্ম বদলায়, রাজনীতির দৃশ্যপট বদলায়; কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু স্মৃতি থাকে, যেগুলোর মূল্য টাকা দিয়ে কখনও পরিমাপ করা যায় না।
নোবিপ্রবিতে ছাত্রী সংস্থার উদ্যোগে হতে যাচ্ছে ‘নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠান
নোবিপ্রবিতে ছাত্রী সংস্থার উদ্যোগে হতে যাচ্ছে ‘নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠান মোঃ জাহিদ হাসান নোবিপ্রবি প্রতিনিধি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন নারী শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে ‘নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থা, নোবিপ্রবি শাখা। গত ১১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) রাতে সংগঠনটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। আয়োজক সূত্রে জানা যায়, নোবিপ্রবির ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া শুধুমাত্র নারী শিক্ষার্থীরাই এই নবীন বরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১২:০০ টা পর্যন্ত নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে। অনুষ্ঠানটির ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ‘নাইস গেস্ট হাউস’। গত ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ছাত্রী সংস্থা ফেসবুকের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে। তবে তাদের কমিটি প্রকাশ করা হয় নাই উল্লেখ্য, এর আগের বছর ২৪ অক্টোবর ২০২৫ (শুক্রবার) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে হোয়াইট হল কমপ্লেক্সের ৩য় তলায় সফলভাবে ‘নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ মূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থা, নোবিপ্রবি শাখা।
গোপালগঞ্জ ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু
গোপালগঞ্জ ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু :- সাইফুল ইসলাম গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: ১২-০৯-২৬ ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে গোপালগঞ্জ টুঙ্গিপাড়ায় শুরু হয়েছে তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’। কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে, উপজেলা পরিষদে ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় পরিষদ চত্বর ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও চালানো হয়। শনিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলা পরিষদের বজ্রকণ্ঠ হলরুমে এ প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়। আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। রাজধানী থেকে জাতীয় কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে টুঙ্গিপাড়ার অংশগ্রহণকারীরা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ দিদারুল আলম, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দেবাশীষ বাছাড়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর আহমেদ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ বিশ্বাস, পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম সৈকত বড়ুয়া, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাউদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহমুদুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির শেখ, পৌর বিএনপির সভাপতি মোল্লা ইমদাদ, সাধারণ সম্পাদক জিহাদুল ইসলাম বাবু এবং পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ডা. আবু জাফর উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া টুঙ্গিপাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি ডা. একরাম হোসেন, সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রকাশ চক্রবর্তী, উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জীবনকৃষ্ণ চোকিদার, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শ্রীময়ী বাগচী ও পৌর সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয় সমাজসেবকরাও এতে উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু মশক নিধন বা ওষুধ প্রয়োগ যথেষ্ট নয়। এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ বন্ধ করতে হলে বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি যেখানে পানি জমে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সরকারের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে এডিস মশার লার্ভা জন্মানোর সম্ভাব্য স্থান খুঁজে বের করে দ্রুত তা পরিষ্কার ও ধ্বংস করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভিডিও কনফারেন্স শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন। একই সঙ্গে পানি জমে থাকা এবং এডিস মশার প্রজননের সম্ভাবনা রয়েছে—এমন স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। এ জন্য নিজেদের বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।