কাজী নজরুল হল এলাকার দোকান পুনরুদ্ধারে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের হামলা, সংঘর্ষ : আহত ১০
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২০ পিএম
জাবি প্রতিনিধি:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীরা নিজেদের এলাকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের দখলে থাকা ৬টি দোকান পুনরুদ্ধার করতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের বাঁধা ও হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে অন্তত ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক জব্বার চত্বরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যাক্ষদর্শী ও একাধিক শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়,
দুপুর ৩ টার দিকে রফিক জব্বার চত্বর এলাকায় কাজী নজরুল হলের জায়গায় থাকা ৬টি দোকানের সামনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীরা ইট পাটকেল লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থান নেয় এবং উস্কানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা কাজী নজরুল হলের শিক্ষার্থীদের মুরগী বলে কটাক্ষ করে৷ পরে কাজী নজরুল হলের কিছু শিক্ষার্থী তাদের সাথে কথা বলতে গেলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীরা তাদের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও পাবলিক হেল্থ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ৫৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আলী আরাফাত খান ও একই হলের ৫৩ ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী আবির।
একপর্যায়ে আলী আরাফাত তার চেয়ে দুই ব্যাচ সিনিয়র ৫১ ব্যাচের কাজী নজরুল হলের এক শিক্ষার্থীর কলার টেনে ধরলে কাজী নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং উভয় হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়। তাদের জাবি মেডিকেলে নেওয়া হলে গুরুতর আহত দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং বাকিদের জাবি মেডিকেলেই চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রের উপপ্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা রিজওয়ানুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত ১০ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সাভারের অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট দোকানগুলো ২০১৭ সালে নির্মানকৃত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের অধীনে পরিচালিত হতো। নজরুল হল নির্মাণের পর থেকে হলটির শিক্ষার্থীরা তাদের হলের সামনে থাকা দোকানগুলোর বরাদ্দ ও মালিকানা দাবি করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে দুই হলের মধ্যে প্রায় নয় মাস ধরে বিরোধ চলছিল।
নজরুল হল সংসদের ভিপি রাকিবুল ইসলাম বলেন, এটি প্রায় নয় মাসের পুরোনো ইস্যু। আমরা দুই দফায় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। গত ১ সেপ্টেম্বর ৩৫০ শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসহ স্মারকলিপি দিয়ে সাত দিনের মধ্যে দুই হলকে নিয়ে বসার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু ১৪ দিন পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, পরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্তে দাবি আদায়ে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দোকানগুলোর সামনে অবস্থান নিতে চাই। কিন্তু তার আগেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীরা ইট পাটকেল লাটিশোটা নিয়ে দোকানের সামনে অবস্থান নেয় এবং উস্কানিমূলক আচরণ করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। আজকের ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করছি।
অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল সংসদের জিএস মাহমুদুর রহমান ইমন বলেন,নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা প্রায় এক বছর ধরে দোকানগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছে। আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং তাঁদের প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে বলেছি। এসব দোকানের আয় আমাদের হলের বিভিন্ন কাজে ব্যয় হয়।
তিনি আরও বলেন, আজ আমরা হলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলাম। একপর্যায়ে নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে এলে আমরা আত্মরক্ষার চেষ্টা করি। এতে আমাদের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তবে আমরা দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে কোনো শিক্ষার্থীর গায়ে হাত দিইনি।
এ বিষয়ে নজরুল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেন, প্রশাসনের আমন্ত্রণে দুই হলের ওয়ার্ডেন, হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি ও ছাত্র প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করার চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা তাঁদের হলের দোকানগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে বসার কথা থাকলেও সংঘর্ষের কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড জাকির হোসেন বলেন, “আজকে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ঘটনাটি ঘটেছে এটা কারোরি কাম্য নয়। এজন্য দূঃখ প্রকাশ করছি। আমরা দুই হলের প্রতিনিধিদের সাথে বসে খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান করবো।”