বাংলাদেশ বার্তা টুডে
৯/১১-এর ২৫ বছর: আফগানিস্তান–ইরাক যুদ্ধ থেকে বহুমেরু বিশ্ব
প্রধান শিরোনাম: “৯/১১-এর ২৫ বছর: আফগানিস্তান–ইরাক যুদ্ধ থেকে বহুমেরু বিশ্ব” সাবহেডলাইন: “সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের দীর্ঘ উত্তরাধিকার, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরিবর্তন এবং চীন–রাশিয়ার উত্থানে বদলে যাওয়া বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য” বিশেষ প্রতিনিধি: সঞ্জয় মজুমদার ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে আল-কায়েদার ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তিতে আজ নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ও পেনসিলভানিয়ায় নিহতদের স্মরণ করা হচ্ছে। প্রায় ৩ হাজার মানুষের প্রাণহানির সেই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র যে ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ শুরু করেছিল, তা শুধু আফগানিস্তান ও ইরাকের রাজনীতিই বদলায়নি; বরং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, সামরিক হস্তক্ষেপ, গোয়েন্দা কাঠামো এবং বিশ্বশক্তির ভারসাম্যেও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন এনেছে। ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বড় সামরিক অভিযান শুরু হয় আফগানিস্তানে। তালেবান সরকার ও আল-কায়েদাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত সেই অভিযানে প্রাথমিকভাবে ওয়াশিংটন দ্রুত সামরিক সাফল্য পেলেও পরবর্তী দুই দশকের যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত একটি জটিল রাষ্ট্র পুনর্গঠন প্রকল্পে পরিণত হয়। ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবান আবার কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের দীর্ঘ সংঘাতের ফলে দেশটির জনগণ এখনো গভীর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির ভার বহন করছে। ২০০৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে জাতিসংঘের নথিভুক্ত হিসাবেই ৪০ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ৭৭ হাজারের বেশি আহত হয়েছে। এরপর ২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান শুরু হয়। ইরাকের তৎকালীন শাসক সাদ্দাম হোসেনের সরকারের পতন ঘটলেও যুদ্ধ-পরবর্তী দখলদারিত্ব ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। পরবর্তী বছরগুলোতে সাম্প্রদায়িক সংঘাত ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণকে পাল্টে দেয়। Council on Foreign Relations-এর মূল্যায়নে, ইরাক অভিযানে কথিত গণবিধ্বংসী অস্ত্রের মজুত পাওয়া যায়নি এবং পরবর্তী দখলদারিত্ব মার্কিন শক্তির সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে। তবে ৯/১১-পরবর্তী যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাধিকার শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভেতরেও। যুক্তরাষ্ট্রে Department of Homeland Security গঠিত হয়, গোয়েন্দা ও সন্ত্রাসবিরোধী ক্ষমতা সম্প্রসারিত হয় এবং সন্ত্রাসী অর্থায়ন ঠেকাতে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই সময়ে বিমানবন্দর নিরাপত্তা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ও সীমান্ত নজরদারি পর্যন্ত নিরাপত্তা নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—সামরিক শক্তি দিয়ে সন্ত্রাসবাদকে কতটা নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে? ২৫ বছর পর আল-কায়েদা আগের তুলনায় দুর্বল হলেও পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সংগঠনটি একটি কেন্দ্রীভূত কাঠামোর বদলে বিভিন্ন আঞ্চলিক সহযোগী গোষ্ঠীর মাধ্যমে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অঞ্চলে প্রভাব ধরে রেখেছে। অর্থাৎ একটি সংগঠনকে সামরিকভাবে দুর্বল করা গেলেও তার আদর্শিক ও সাংগঠনিক উত্তরাধিকার পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। এই জায়গাতেই ৯/১১-পরবর্তী নীতির সবচেয়ে বড় বিতর্ক—সন্ত্রাসবাদ কি শুধু সামরিক সমস্যা, নাকি এর পেছনে থাকা রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণও সমান গুরুত্বপূর্ণ? সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, শুধু সশস্ত্র গোষ্ঠীকে পরাজিত করার পরিবর্তে যে পরিবেশে চরমপন্থী মতাদর্শ জনপ্রিয়তা পায়, সেটিও মোকাবিলা করা প্রয়োজন। অন্যথায় সামরিক অভিযান একটি গোষ্ঠীকে দুর্বল করলেও নতুন গোষ্ঠী বা নতুন ধরনের হুমকি তৈরি হতে পারে। আজকের বিশ্বে সেই হুমকির চরিত্রও বদলে গেছে। সন্ত্রাসবাদ এখন শুধু পাহাড়ি ঘাঁটি বা সীমান্তবর্তী যুদ্ধক্ষেত্রের সমস্যা নয়; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্রচারণা, ড্রোন এবং নতুন প্রযুক্তি চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতার ধরন বদলে দিয়েছে। Council on Foreign Relations-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বিশেষভাবে ড্রোন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নতুন ধরনের সন্ত্রাসী হুমকির কথা তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, ৯/১১-পরবর্তী দীর্ঘ যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অগ্রাধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। আফগানিস্তান ও ইরাকের দীর্ঘ সামরিক ব্যস্ততার সময় চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তিগুলো নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে—যদিও বর্তমান বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার জন্য ৯/১১-পরবর্তী যুদ্ধগুলোই একমাত্র কারণ নয়। অর্থনৈতিক শক্তির পরিবর্তন, চীনের উত্থান, রাশিয়ার পুনঃসক্রিয়তা, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর বিকাশ এবং পশ্চিমা জোটব্যবস্থার পরিবর্তনও এই রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২৫ বছর পর তাই ৯/১১-এর উত্তরাধিকারকে শুধু ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের সাফল্য বা ব্যর্থতা’ দিয়ে বিচার করলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোকে আমূল পরিবর্তন করেছে, দুটি দীর্ঘ যুদ্ধ পরিচালনা করেছে, বিপুল মানবিক ও আর্থিক মূল্য দিয়েছে এবং একই সঙ্গে এমন একটি বিশ্বে প্রবেশ করেছে যেখানে আগের মতো একক পরাশক্তির আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করছে একাধিক শক্তি। সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই—একটি সন্ত্রাসী হামলার সামরিক প্রতিক্রিয়া কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতিপথ বদলে দিতে পারে, কিন্তু সামরিক বিজয় আর দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা একই বিষয় নয়। আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা, ইরাকের অস্থিতিশীলতা এবং আজকের বহুমাত্রিক নিরাপত্তা হুমকি সেই বাস্তবতাই সামনে এনেছে। [ ২০২৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তাই শুধু অতীতের প্রায় ৩ হাজার নিহত মানুষের স্মরণদিবস নয়; এটি একটি প্রশ্নেরও দিন—২০০১-এর পর যে বিশ্ব তৈরি হয়েছিল, ২৫ বছর পর সেই বিশ্ব কি আবার বদলে যাচ্ছে? আর যদি বদলে যায়, আগামী দশকের বিশ্বব্যবস্থা কি একক নেতৃত্বের পরিবর্তে আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, বহুমেরু এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে এগোবে? ৯/১১-এর ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাধিকার সম্ভবত এই প্রশ্নের মধ্যেই লুকিয়ে আছে।
ঘিওরে যুবককে হাতুড়িপেটার অভিযোগ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতর বিরুদ্ধে, বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা, থানায়-৩
ঘিওরে যুবককে হাতুড়িপেটার অভিযোগ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতর বিরুদ্ধে, বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা, থানায়-৩ সোহেল রানা খন্দকার, মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের ঘিওরে মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় মাসুম নামের এক যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বড়টিয়া ইউনিয়নের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের শ্রীবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত মাসুমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়টিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীবাড়ী মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রনি আহম্মেদ (২৫) ওই ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, রনি ও তাঁর দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে মাদক বিক্রি করে আসছেন। মাদক বিক্রিতে মাসুমসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বাধা দেওয়ায় তাঁদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। এর জের ধরে শুক্রবার সকালে রনির বাড়ির সামনে মাসুমের ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ভাষ্য, হামলায় মাসুমের মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। তাঁর কোমরেও আঘাত পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা রনির বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রনির মা পারুল বেগম (৪২), স্ত্রী ফাতেমা বেগম (১৯) ও বাবা আবুল হোসেন (৫০)–কে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রনি আহম্মেদ (২৫) ও তাঁর ভাই সোহেল রানা (২৭)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। আরেক অভিযুক্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হলো না। তবে অভিযোগের বিষয়ে রনি আহম্মেদ বা তাঁর পরিবারের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রনির বাবা, মা ও বোনসহ কয়েকজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।’ পুলিশ জানিয়েছে, হামলার প্রকৃত কারণ, মাদক বিক্রির অভিযোগ এবং ঘটনায় কারা জড়িত—এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে।
গোপালগঞ্জ অজ্ঞাত নারীর ম/র/দেহ উদ্ধার
গোপালগঞ্জ অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার সাইফুল ইসলাম গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে অজ্ঞাত নারীর (৩০) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের জয়নগর বাজার এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সহকারী পুলিশ সুপার নাফিছুর রহমান (মুকসুদপুর সার্কেল) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাতে জয়নগর বাজার সংলগ্ন কাটাখালি খালে একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ-২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের পরিচয় সনাক্তের কাজ চলছে। এছাড়া ময়নাতদন্তের পরেই মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
নওগাঁয় মহিলা ইউ,পি সদস্যের ঝু/ল/ন্ত ম/র/দে/হ উদ্ধার
মোঃ রমজান হোসেন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁর মোছাঃ আলতা বেগম (৫২) নামে এক নারী ইউ,পি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের খোদ্দ কালনা উত্তরপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তার ম/রদেহ উদ্ধার করা হয়। আলতা বেগম খোদ্দ কালনা গ্রামের মৃত. সবিজের মেয়ে। তিনি খাজুর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ইউ,পি নির্বাচনে সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন আলতা বেগম। ২০১৬ সালের নির্বাচনেও মাত্র পাঁচ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। এরপর থেকেই তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে স্বজনরা জানান। পরে ২০২১ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। প্রায় দুই বছর আগে তার স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর পর আবারও তার মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি শাশুড়ির সঙ্গে একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। শুক্রবার সকালে শাশুড়ি ডাক দিলে শরীর খারাপ লাগছে বলে জানান আলতা বেগম। পরে আবার শুয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘরের মধ্যে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চার্জার ভ্যানে তোলেন। তবে ভ্যানেই তার মৃত্যু হয়। খাজুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বেলাল উদ্দিন বলেন, মানসিক সমস্যার কারণে আলতা বেগম অধিকাংশ সময় বিষণ্ন থাকতেন। মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় থানায় অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে এবং মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
রংপুরে র্যাবের অভিযানে ৬৩৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার
রংপুরে র্যাবের অভিযানে ৬৩৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার রফিকুল ইসলাম সাবুল : রংপুর প্রতিনিধি: রংপুর মহানগরীতে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৬ হাজার ৩৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে র্যাব-১৩। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নগরীর কোতয়ালী থানাধীন পীরজাবাদ দরগাপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। র্যাব-১৩ সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিএসসি, র্যাব-১৩, রংপুরের একটি আভিযানিক দল নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের পীরজাবাদ দরগাপাড়া গ্রামের শিবরাম স্মৃতি প্রি-ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রায় ১০০ মিটার সামনে উত্তর পাশে অভিযান চালায়। এ সময় সেখানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৬ হাজার ৩৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় ইয়াবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। র্যাব জানায়, উদ্ধার করা ইয়াবা ট্যাবলেট পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে র্যাব-১৩ এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন র্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
মতলবে কিশোরীকে ধ/র্ষ/ণের পর ভিডিও ভাইরাল, গন/পি/টু/নি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ
মতলবে কিশোরীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ভাইরাল, গনপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ মতলব (চাঁদপুর), প্রতিনিধিঃ চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় এক কিশোরীকে (১৩) ধর্ষণের পর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে চায়ের দোকানিকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন। আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মোবারক সরদার (৪৮)। এলাকায় তাঁর চায়ের দোকান আছে। মোবারকের পাঁচ ছেলে–মেয়ে। ভুক্তভোগী কিশোরী তাঁর স্বজনের মেয়ে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় তিন মাস আগে মোবারক কৌশলে ওই কিশোরীকে ডেকে তাঁর বসতঘরে নিয়ে যান। এ সময় ঘরে তাঁর পরিবারের কেউ ছিলেন না। তিনি কিশোরীকে ধর্ষণ করেন এবং ওই ঘটনা নিজের মুঠোফোনে ভিডিও করেন। ঘটনাটি কাউকে না জানাতে ওই কিশোরীকে হুমকি দেন। তিন–চার দিন আগে মোবারক ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেন। এতে ঘটনাটি জানাজানি হয়। বিষয়টি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে কিশোরীর বাড়িতে সালিস বসে। সেখানে মোবারক উপস্থিত না হলেও তাঁর পক্ষের কয়েকজন হাজির হন। কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সালিস শেষ হয়। আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় মোবারক ওই কিশোরী ও তার পরিবারকে হুমকি দেন। দেখে নেওয়ার কথা বলেও শাসান। এ সময় আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে মোবারককে পিটিয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ের জীবন ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি। মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, এ ঘটনায় থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ওই কিশোরী অথবা তার বাবা মামলাটি করবেন। মামলা করার পর আটক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হবে।
মাধবপুরে বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩
মাধবপুরে বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩ হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার রতনপুর এলাকায় এনা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩ জন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে রতনপুর ম্যাটাডোর কোম্পানির দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিলেটমুখী এনা পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-২৩৬২) এবং ঢাকামুখী একটি পিকআপ ভ্যানের (ঢাকা মেট্রো-ন-২২-১৫৫৭) মধ্যে ওই স্থানে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপ ভ্যানে থাকা আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী অজ্ঞাতপরিচয় এক পুরুষ ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়েছে।
গাজীপুরে ৯ কেন্দ্রে স্বস্তিতে ৯ হাজার ৫৮০ পরীক্ষার্থী সুশৃঙ্খল পরিবেশে চলছে বাউবির বিএ/বিএসএস পরীক্ষা
গাজীপুরে ৯ কেন্দ্রে স্বস্তিতে ৯ হাজার ৫৮০ পরীক্ষার্থী সুশৃঙ্খল পরিবেশে চলছে বাউবির বিএ/বিএসএস পরীক্ষা আব্দুল মতিন খান কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) পরিচালিত বিএ/বিএসএস পরীক্ষা গাজীপুরের ৯টি কেন্দ্রে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্ধারিত নিয়মনীতি ও সময়সূচি অনুসরণ করে এসব কেন্দ্রে মোট ৯ হাজার ৫৮০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। বাউবি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২১ আগস্ট শুক্রবার থেকে দেশব্যাপী একযোগে শুরু হয়েছে বাউবির বিএ/বিএসএস পরীক্ষা-২০২৫। দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কলেজে মোট ২৮৮টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ছয়টি সেমিস্টারে অনুষ্ঠিতব্য এ পরীক্ষায় সারাদেশে মোট ২ লাখ ৪৭ হাজার ১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে পুরুষ পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৭৭ জন এবং নারী পরীক্ষার্থী ১ লাখ ১ হাজার ৪৩৬ জন। বাউবির গাজীপুর উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রের অধীনে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো হলো ধলাদিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাজী আজিম উদ্দিন কলেজ, টঙ্গী সরকারি কলেজ, কালিয়াকৈর ডিগ্রি কলেজ, পিয়ার আলী ডিগ্রি কলেজ, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, শ্রীপুর সরকারি কলেজ, সরকারি কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজ ও কালিয়াকৈর সরকারি কলেজ। পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। কেন্দ্র সচিব, কক্ষ পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরীক্ষা কার্যক্রম তদারকি করছেন। একই সঙ্গে নকলমুক্ত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। বাউবির গাজীপুর উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ বদরুল ইসলাম বলেন, “পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। গাজীপুরের ৯টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের বিড়ম্বনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন, সে বিষয়ে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।” তিনি আরও বলেন,“বাউবি শুধু শিক্ষার্থীদের সনদ প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম লক্ষ্য। সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।” পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নির্ধারিত নিয়মনীতি মেনে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেন অনেক পরীক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রতি শুক্র ও শনিবার সকাল ও বিকেলে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী ৬ নভেম্বর ২০২৬, শুক্রবার পর্যন্ত এ পরীক্ষা চলবে। গাজীপুর উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক মো. ওয়াজেদ আলী এবং উপ-আঞ্চলিক পরিচালক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বদরুল ইসলাম পরীক্ষার সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করছেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পরীক্ষার শেষ দিন পর্যন্ত গাজীপুরের সবকটি কেন্দ্রে একইভাবে সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।
কালীগঞ্জ মসলিন কটন মিল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ নিয়ে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ
কালীগঞ্জ মসলিন কটন মিল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ নিয়ে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ আব্দুল মতিন খান কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃশরিফুল আলমের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী মসলিন কটন মিলের শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের বিষয়ে সাক্ষাৎ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। গণফোরাম ঢাকা মহানগর উত্তর সিটি করপোরেশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি কালীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মসলিন কটন মিলের শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের বিষয়ে মাননীয় বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মোঃ শরিফুল আলমের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সাক্ষাৎকালে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধের উদ্যোগ গ্রহণ এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য মন্ত্রীর কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এ সময় অন্যান্যের মাঝে ভৈরব উপজেলা বিএনপির নেতা মোঃ দেলোয়ার হোসেন, গণফোরাম ঢাকা মহানগর উত্তর সিটি করপোরেশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম, গণফোরাম ঢাকার খিলক্ষেত থানার সভাপতি মোঃ সোহেল মিয়া, গণফোরাম গাজীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক ও মসলিন কটন মিল শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মোঃরোমান সরকার সহ মসলিন কটন মিল শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ। আলোচনায় নেতৃবৃন্দ বলেন, মসলিন কটন মিলের শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধের মাধ্যমে তাদের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। মন্ত্রী শরিফুল আলম শ্রমিকদের পাওনা-সংক্রান্ত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
প্রতি বছরের মতো এবারও ঘিওরে আজিজুর রহমান কালু মিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের শুরু
প্রতি বছরের মতো এবারও ঘিওরে আজিজুর রহমান কালু মিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের শুরু সোহেল রানা খন্দকার, মানিকগঞ্জ : প্রতি বছরের মতো এবারও মানিকগঞ্জের ঘিওরে শুরু হয়েছে আজিজুর রহমান কালু মিয়া স্মৃতি ফুটবল নকআউট টুর্নামেন্ট । শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয় । বৈকুণ্ঠপুর ইয়ুথ ক্লাব আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে জেলার বিভিন্ন এলাকার ১৬টি দল অংশ নিচ্ছে । চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে নকআউট পদ্ধতিতে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলা চলবে । পরে দুই রানার্সআপ দলের মধ্যে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে । সিংজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মো. আসাদুর রহমান মিঠুর সভাপতিত্বে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন জেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ । উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাসুদুর রহমান বলেন, আজিজুর রহমান কালু মিয়ার স্মরণে গত চার বছর ধরে এ টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হচ্ছে। তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা, মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখা এবং এলাকায় সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য । তিনি আরও বলেন, নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও জোরদার হবে । উদ্বোধনী ম্যাচে গড়পাড় মর্নিং স্টার ক্লাবের মুখোমুখি হয় ঘিওর বাঘুটিয়া আজাদ মুসলিম ক্লাব । নির্ধারিত সময়ে ১–১ গোলে ম্যাচটি ড্র হয়। পরে টাইব্রেকারে গড়পাড় মর্নিং স্টার ক্লাব জয় পায় ।
তিন সপ্তাহের কোয়ারেন্টিন, এক দশকেও কাটেনি বন্দিজীবন: সাফারি পার্কে দুই লেপার্ডের করুণ দশা
তিন সপ্তাহের কোয়ারেন্টিন, এক দশকেও কাটেনি বন্দিজীবন—সাফারি পার্কে দুই লেপার্ডের করুণ দশা মহিউদ্দিন আহমেদ শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা পাচারকারীদের কাছ থেকে উদ্ধারের পর নিয়ম অনুযায়ী মাত্র তিন সপ্তাহের জন্য কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল দুটি লেপার্ড শাবককে। কিন্তু সেই অস্থায়ী কোয়ারেন্টিনই এখন তাদের স্থায়ী ঠিকানা। প্রায় এক দশক ধরে ছোট দুটি কক্ষে বন্দি অবস্থায় দিন কাটছে পূর্ণবয়স্ক দুই লেপার্ডের। গাছে ওঠা, দৌড়ানো, লাফানো কিংবা স্বাভাবিকভাবে বিচরণের সুযোগও নেই তাদের। ঘটনাটি গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত গাজীপুর সাফারি পার্কের। ২০১৭ সালে যশোর থেকে পুলিশ দুটি লেপার্ড শাবক উদ্ধার করে। পরে খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার মাধ্যমে শাবক দুটিকে গাজীপুর সাফারি পার্কে পাঠানো হয়। জীবাণুমুক্তকরণ ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের জন্য তাদের রাখা হয় পার্কের বন্যপ্রাণী হাসপাতালের কোয়ারেন্টিন শেডে। নিয়ম অনুযায়ী কয়েক সপ্তাহ পর তাদের কোয়ারেন্টিন থেকে বের করে উপযুক্ত আবাসনে দেওয়ার কথা থাকলেও তা আর হয়নি। দেখতে দেখতে প্রায় এক দশক পার হলেও পূর্ণবয়স্ক লেপার্ড দুটির জন্য তৈরি হয়নি কোনো উপযুক্ত এনক্লোজার। সম্প্রতি পার্কের কোয়ারেন্টিন শেডে গিয়ে দেখা যায়, ছোট দুটি কক্ষে লোহার গ্রিলের ভেতর বন্দি রয়েছে প্রাণী দুটি। জায়গা সংকটের কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরারও সুযোগ সীমিত। মানুষ দেখলে অনেক সময় উত্তেজিত হয়ে গ্রিলে আছড়ে পড়ছে তারা। দীর্ঘদিন এমন পরিবেশে থাকায় তাদের স্বাভাবিক আচরণ ও জীবনযাপন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ মনিরুল এইচ খান বলেন, জীবাণুমুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে সাধারণত সর্বোচ্চ চার সপ্তাহ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে রাখা যুক্তিযুক্ত। সাফারি পার্কের মূল লক্ষ্য প্রাণীদের তুলনামূলক উন্মুক্ত ও প্রাকৃতিক পরিবেশে রাখা। দীর্ঘদিন ছোট ঘরে আটকে রাখা সেই উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দ্রুত লেপার্ড দুটির জন্য উপযুক্ত এনক্লোজার তৈরি করা প্রয়োজন। পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদেরও অনেকেই লেপার্ড দুটির এমন বন্দিজীবন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সাফারি পার্কে বাঘ ও সিংহের মতো লেপার্ডের জন্যও বড় পরিসরের আবাসন তৈরি করা যেতে পারে। এতে প্রাণী দুটির স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দর্শনার্থীরাও বিরল এই প্রাণী দেখার সুযোগ পাবেন। লেপার্ড দুটির আবাসন তৈরির বিষয়ে এর আগেও একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাফারি পার্ক পরিদর্শনে গিয়ে লেপার্ড দুটির জন্য আবাসন তৈরির নির্দেশনা দেন। এরপরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। গাজীপুর সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম. কে. এম. ইকবাল হোছাইন চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল লেপার্ড দুটির অবস্থান পরিদর্শন করেছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রাণী দুটির জন্য দ্রুত উপযুক্ত আবাসন তৈরি হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্দিজীবন থেকে মুক্ত করে তাদের স্বাভাবিক আচরণ ও চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়া ইঞ্জিন বিকল ট্রলারসহ ১২ জেলেকে উদ্ধার করল নৌবাহিনী
বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়া ইঞ্জিন বিকল ট্রলারসহ ১২ জেলেকে উদ্ধার করল নৌবাহিনী ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট বঙ্গোপসাগরের উত্তাল সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা মাছ ধরার ট্রলার ‘এফবি নাঈম’ থেকে ১২ জন জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।.. গত ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতি বার বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়া এবং ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেতের কবলে পড়ে ইঞ্জিন বিকল হয়ে漂মান মাছ ধরার ট্রলার ‘এফবি নাঈম’-এর ১২ জন জেলেকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। রাডার প্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহার এবং তাৎক্ষণিক অভিযানের মাধ্যমে বানৌজা পদ্মা জাহাজটি রাতের অন্ধকার ও উত্তাল সমুদ্রের সী স্টেট-৪ পরিস্থিতির মাঝেও নিখোঁজ ট্রলারটির অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে নৌবাহিনীর সদস্যরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং দৃশ্যমানতা কম থাকা সত্ত্বেও অত্যন্ত পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন, যা গভীর সাগরে নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। উদ্ধারকৃত জেলেরা গভীর সমুদ্রে চরম অনিশ্চয়তা ও জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন কাটাচ্ছিলেন বলে জানা যায়, কারণ বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাদের ট্রলারটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছিল এবং যোগাযোগের সব মাধ্যম প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এই সংকটময় মুহূর্তে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে দ্রুত সাড়া পেয়ে জেলেরা স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং উদ্ধার অভিযਾਨের পর পরই তাদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়। এছাড়াও, ট্রলারে থাকা আহত একজন জেলেকে নৌবাহিনীর মেডিক্যাল টিম কর্তৃক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের কোনো শারীরিক বিপর্যয় রোধ করতে সক্ষম হয়েছে এবং সামুদ্রিক দুর্যোগে জেলের জীবন রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার গুরুত্ব জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। উদ্ধার কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার পর বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে ট্রলারটিকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ টোয়িং করে নিরাপদে দুবলার চরের বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড আউটপোস্টের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এই সমন্বিত উদ্ধার প্রক্রিয়ায় নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের মধ্যকার পেশাদার সমন্বয় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, যা উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আন্তঃবাহিনী সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ এবং উদ্ধারকারী দলের এই তৎপরতা প্রমাণ করে যে, সাগরে নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদার থাকলে যেকোনো ধরনের আকস্মিক দুর্যোগ বা সামুদ্রিক দুর্ঘটনা মোকাবিলা করা সম্ভব, যা সামগ্রिक সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এক নতুন মাত্রায় উন্নীত করেছে। বঙ্গোপসাগরে বারবার ঘটে যাওয়া এই ধরনের সামুদ্রিক দুর্ঘটনা এবং জেলেদের ট্রলারের যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনাগুলো দেশের মৎস্য খাতের দুর্বল নিরাপত্তা কাঠামোর দিকেই আঙুল তোলে, যা থেকে উত্তরণে আধুনিক যোগাযোগ ও নেভিগেশন প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা জরুরি। দেশের সমুদ্রসীমা সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম চালিকাশক্তি মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সফল উদ্ধার অভিযান নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে সাগরে যাতায়াতকারী প্রতিটি নৌযানের ফিটনেস ও আবহাওয়া সচেতনতা বৃদ্ধি না করলে এই ধরনের ঝুঁকি রোধ করা কঠিন হবে।
সাতক্ষীরায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার
সাতক্ষীরায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার শেখ জোবায়ের আল জামান,সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি লোকমান হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মির্জাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার লোকমান হোসেন সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের মোকসেদ আলীর ছেলে। সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সমীরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নিজ এলাকা থেকে লোকমান হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। মামলার নথি ও বাদীপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার মৃত আব্দুল কাদের সরদারের ছেলে মো. আতিয়ার রহমানের কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা নেন লোকমান হোসেন। ওই টাকা পরিশোধের জন্য তিনি আতিয়ার রহমানকে একটি চেক দেন। পরে চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে তা ডিজঅনার হয়। এ ঘটনায় পাওনা টাকা আদায়ে আতিয়ার রহমান বাদী হয়ে সাতক্ষীরা আদালতে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্টে মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত লোকমান হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। মামলার বাদী মো. আতিয়ার রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ঘুরিয়েও টাকা না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছিলাম। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করায় ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করছি।’ সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার লোকমান হোসেনকে বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
স্বার্থের জন্য জামায়াত রাজনৈতিক শত্রুদের সঙ্গেও আঁতাত করতে পারে: রাশেদ খাঁন
স্বার্থের জন্য জামায়াত রাজনৈতিক শত্রুদের সঙ্গেও আঁতাত করতে পারে: রাশেদ খাঁন একরামুল ইসলাম তুষার, কালীগঞ্জ ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : আওয়ামী লীগ ও ভারতের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে জামায়াতে ইসলামী দেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, জামায়াতের একের পর এক লংমার্চ কর্মসূচির ঘোষণা বৃহত্তর একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে স্থানীয়দের সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। রাশেদ খাঁন বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট বর্তমানে দেশের একটি জাতীয় সমস্যা। এই সংকট মোকাবিলা ও সমাধানে সরকারের পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোরও গঠনমূলক ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। কিন্তু জনগণের দুর্ভোগের এই বিষয়গুলো নিয়ে গঠনমূলক সহযোগিতার পরিবর্তে লংমার্চের মতো কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, লংমার্চ করে দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কী ধরনের সমাধান হবে? জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বার্থের প্রয়োজনে জামায়াত তাদের রাজনৈতিক শত্রুদের সঙ্গেও আঁতাত করতে পারে। তার অভিযোগ, ভারতের সঙ্গে আঁতাত করে আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগের বক্তব্য ও জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের মধ্যে মিল রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভারত সফরের প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য একাধিকবার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে শেখ হাসিনা ও শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দেশে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাবেন না বলে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, “পলাতক শেখ হাসিনা ও শহীদ ওসমান হাদীর খুনিদের ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন না।” জামায়াতের আমিরকে ইঙ্গিত করে রাশেদ খাঁন আরও বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে একই ধরনের অনুরোধ যদি জামায়াতের আমিরকে করা হতো, তাহলে তিনি এতদিনে দিল্লিতে অবস্থান করতেন—এমন মন্তব্যও করেন তিনি। এ সময় দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত। কোনো কর্মসূচির মাধ্যমে যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও রাজনৈতিক দলগুলোর নজর দেওয়া প্রয়োজন। এদিকে ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন রাশেদ খাঁন। তিনি জানান, হাসপাতালগুলোতে জনবল সংকট নিরসন এবং সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করতে সরকার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবল ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে সেবার পরিবেশ উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। স্থানীয়দের সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে তিনি ঝিনাইদহের বিভিন্ন সমস্যা ও জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো শোনেন এবং এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও স্বাস্থ্যসেবাসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি না করে জাতীয় সমস্যা সমাধানে দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।পরে তিনি স্থানীয় শিশু কিশোরদের সঙ্গে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক বার্তা পৌছে দেন। এ সময় জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সমীনুজ্জামান সমীন, ইসরাইল হোসেন জীবন, বাহারুল ইসলাম কাজল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন সহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গ্রামের সরকারী সড়ক রক্ষায় প্রতিবাদ করায় গ্রামবাসীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ
গ্রামের সরকারী সড়ক রক্ষায় প্রতিবাদ করায় গ্রামবাসীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের জৈনপুর গ্রামের সরকারি সড়ক রক্ষায় প্রতিবাদ করায় মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে। এ সড়ক দিয়ে অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং স্থানীয়দের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন এলাকাবাসী। অভিযোগের সঙ্গে স্থানীয় প্রায় ৭০০ মানুষের গণস্বাক্ষরও সংযুক্ত করা হয়। লিখিত অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ‘জৈনপুর থেকে পিরোজপুর ইউপি অফিস রোড’ একটি গ্রাম্য শ্রেণির সড়ক ইজিবাইক, অটোরিকশা, সিএনজি, ছোট পিকআপ ও ব্যক্তিগত গাড়ির মতো হালকা যান চলাচলের উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে এটি নির্মাণ করা হয়নি। গ্রামবাসীর অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে ওই সড়ক দিয়ে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের একটি প্রকল্পের কাজে মাটি কাটার ভেকু, পেলোডার, ডাম্প ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের ভারী যান চলাচল করছে। ১০, ১৮ ও ২২ চাকার লরিও সড়কটি ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ তাদের। এতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক দেবে যাওয়ার অবস্থাও তৈরি হয়েছে। সড়ক রক্ষায় ভারী যান চলাচলে বাধা দেওয়ার পর স্থানীয়দের বিরুদ্ধে মামলা ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন গ্রামবাসী। তাদের দাবি, কোম্পানির লোকজন স্থানীয়দের চাঁদাবাজি, চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়েছেন। এরই মধ্যে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। জৈনপুরের স্থানীয় বাসিন্দা মো. নূরউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এলাকার পার্শ্ববর্তীতে মেঘনা গ্রুপ একটি প্রকল্প করছে। এই রাস্তা দিয়ে কোম্পানির বড় বড় গাড়ি, ১০ চাকা, ১৮ চাকা এমনকি ২২ চাকার লরিও চলাচল করছে।’ তিনি বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে আবেদন করা হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও কয়েক মাস ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে। পরে আবার বড় গাড়ি চলাচলে বাধা দেওয়া হলে পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে লোকজন এসে গ্রামের সাধারণ মানুষ ও তরুণদের ওপর হামলা করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। নূরউদ্দিন আরও বলেন, ‘আমাদের ছেলেদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা হয়রানি থেকে মুক্তি চাই। কোম্পানির নিজস্ব রাস্তা করলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কোম্পানি ব্যক্তিগতভাবে রাস্তা করে নিক। কিন্তু জনগণের রাস্তা দিয়ে চলাচল করে যেন আমাদের দুর্ভোগে না ফেলে।’ তফিরুন নেছা নামে আরেক নারী বলেন, ‘আমাদের এলাকায় একটি সাধারণ রাস্তা। যেটি দিয়ে মানুষ হাঁটাই যথেষ্ট। এই রাস্তা দিয়ে বড় বড় কোম্পানির গাড়ি নেয়। বাধা দেওয়ায় এলাকার ছেলেদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে।’ তার দাবি, প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে বিষয়টি জানানোর পরও ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়নি। আগে রাতে এসব যানবাহন চলাচল করলেও এখন দিনের বেলাতেও চলাচল করছে। এতে দীর্ঘদিন পর নির্মাণ করা সড়কটি আবারও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় দুর্ভোগের পাশাপাশি বায়ু ও শব্দদূষণ বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকারি অবকাঠামোও। স্থানীয়রা জানান, এর আগে সড়কটি রক্ষায় সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। তবে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে তাদের অভিযোগ। গ্রামবাসীর দাবি, সরকারি সড়কটি কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয়দের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে হয়রানিমূলক মামলা না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান তারা।