চলতি মৌসুমেও আলু নিয়ে কৃষক-ব্যবসায়ীরা দিশেহারা
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
জয়পুরহাট প্রতিনিধি: আব্দুল কাদের
উত্তরাঞ্চলের অন্যতম দ্বিতীয় বৃহত্তম আলু উৎপাদনকারী জেলা জয়পুরহাট। এ বছর সেই আলুতেই কপাল পুড়ছে এ জেলার প্রান্তিক কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। আলুর বাজারে দরপতনের কারণে অনেক কৃষকেরই এখন পরিবার নিয়ে পথে বসার উপক্রম। বিশেষ করে যারা অন্যের জমি বর্গা নিয়ে আলু চাষ করেছেন। ব্যবসায়ী ও মৌসুমী আলুর পাইকারি বিক্রেতারাও পরেছেন বিপাকে।
বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান ও ধারদেনা করে হিমাগারে আলু মজুত করেছিলেন বেশি দামে বিক্রির আশায়। আলুর দাম কমে যাওয়ায় পুঁজি হারানোর শঙ্কায় আছেন তারা।
শুধু কৃষক নয় শঙ্কায় আছেন হিমাগারের মালিক কর্তৃপক্ষরাও। সময়মতো হিমাগার থেকে আলু খালাস না হলে লোকসানে পরবেন তারা।
সরজমিনে তদন্তে জানা গেছে-কৃষক ও হিমাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, এ বছর আলু উৎপাদন থেকে শুরু করে হিমাগারে সংরক্ষণ, সব মিলে প্রতি বস্তা আলুতে খরচ হয়েছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত।
বর্তমানে হিমাগারের আলু বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে থেকে ৮৫০ টাকা পর্যন্ত। এতে করে প্রতি বস্তা আলুতে লোকসান গুনতে হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত।
প্রান্তিক কৃষক নয়াপাড়া গ্রামের হৃদয়ের ভাষ্য, এ বছর ৫০ শতকে প্রতি বিঘা জমিতে আলুর বীজ, সার, কীটনাশক, শ্রমিক ও সেচ দেওয়াসহ সব মিলিয়ে কৃষকের খরচ হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা।
আর প্রতি বিঘা জমিতে আলু উত্তোলনের সময় বিক্রি করেছিলেন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এতে করে ভরা মৌসুমেই আলুতে লোকসান হয়েছে কৃষকের ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।
কৃষক ও ব্যবসায়ী শামীম হোসেনের ভাষ্য, গত বছরের লোকসান কাটিয়ে এ বছর লাভের মুখ দেখব বলে আশা করেছিলাম। মৌসুমের শুরুতে লোকসান হয়েছে, তাই ভেবেছিলাম হিমাগারে রাখলে হয়ত দাম বাড়বে, তখন বিক্রি করব। কিন্তু এখন পর্যন্ত আলুতে সবাই লোকসানে আছি আমরা। সরকার যদি আমাদের দিকে একটু নজর দিত তাহলে কৃষকদের উপকার হত।
আলু ব্যবসায়ী তপন কুমার বলেন, এ বছর আলুর দরপতনের কারণে ক্ষতির মুখে পরেছেন আলু ব্যবসায়ীরাও। বাজারদর কমে যাওয়ায় মজুত করা আলু প্রত্যাশিত দামে বিক্রি করতে পারছেন না অনেক ব্যবসায়ী। ফলে হিমাগারে রাখা আলুর পেছনে বিনিয়োগ করা অর্থ আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। হিমাগার থেকে আলু বের করছেন না কৃষকরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে দাম আরও কমে গেলে লোকসানের আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী নতুন করে আলু কিনতে আগ্রহ হারাতে পারেন। এতে বাজারের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থাতেও প্রভাব পরার আশঙ্কা রয়েছে।
কালাইয়ের এম ইসরাত হিমাগারের ব্যবস্থাপক আবু রায়হান ও পাঁচবিবির কুসুম্বা আফিয়া কোল্ড স্টোরের ব্যবস্থাপক জিয়াউর রহমান বলেন, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং শ্রমিকের মজুরি কয়েক গুণ বাড়লেও তারা ভাড়া বাড়াননি। আগের ভাড়াই নিচ্ছেন।
এ বছর আলুর দরপতনের কারণে হিমাগার থেকে আলু বিক্রি করছেন না কৃষকরা। এতে করে একদিকে যেমন পাইকাররা অলস সময় পার করছেন, অন্যদিকে হিমাগার থেকে এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ আলু খালাস হওয়ার কথা তা হচ্ছে না। এতে করে সময়মতো হিমাগার থেকে আলু খালাস নিয়েও শঙ্কায় আছে হিমাগার কর্তৃপক্ষ।
জয়পুরহাট কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসানসহ কৃষি সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, জেলার ২২টি হিমাগারে এ বছর প্রায় ২ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন আলু মজুত রাখা হয়েছিল।
আলুর দরপতন ঠেকাতে আলুর বহুমুখী ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশে রপ্তানি হলে আলুর দাম বৃদ্ধি পাবে। এতে করে কৃষকরা লাভবান হবেন।