মাদকের আগ্রাসন: কেন উদগ্রীব সরকার, অপরাধ বৃদ্ধিতে ভূমিকা কতখানি ?
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
মোঃ মিলন শাহ, বিশেষ প্রতিনিধি, পত্নীতলা, নওগাঁ ।
বিশেষ প্রতিবেদন:
দেশে বর্তমান মাদক পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট সামাজিক অপরাধের হার বৃদ্ধি প্রশাসন থেকে শুরু করে সমাজবিজ্ঞানীদের গভীরভাবে চিন্তিত করে তুলেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত, যার সিংহভাগই কিশোর ও তরুণ প্রজন্ম। রাষ্ট্র ও সমাজের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কঠোর ও উদগ্রীব অবস্থান নিয়েছে।
সরকার কেন মাদক নিয়ে এতটা উদগ্রীব?
দেশের মূল চালিকাশক্তি তরুণ সমাজ। আর সেই তরুণরাই যদি মাদকে নিমজ্জিত হয় তবে জাতির ভবিষ্যৎ প্রগতি মুখ থুবড়ে পড়বে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। এতে মাদক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন ও কর্মকর্তাদের আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।
মাদক চোরাচালানের কারণে প্রতি বছর দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে।
" মাদকের কারণেই কি সমাজে অপরাধ বাড়ছে " ?
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গবেষকদের মতে, মাদকের সঙ্গে সামাজিক অপরাধের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে:
দেশে সংঘটিত মোট অপরাধের প্রায় ৮০ শতাংশের পেছনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কারণ হিসেবে রয়েছে মাদক। খুন, ছিনতাই ও পারিবারিক সহিংসতার সিংহভাগই মাদকসেবীদের মাধ্যমে ঘটে।
মাদকের টাকা জোগাড় করতে আসক্তরা প্রথমে চুরি এবং পরবর্তীতে ছিনতাই, ডাকাতি বা ভাড়ায় খাটানো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
সিনথেটিক মাদক (যেমন: ইয়াবা, আইস) গ্রহণের ফলে মানুষের হিতাহিত জ্ঞান লোপ পায়, যা তাকে অত্যন্ত নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটাতে প্ররোচিত করে।
গবেষকদের ভিন্ন মত ও পরামর্শ :
গবেষণায় দেখা গেছে, কেবল অপরাধ প্রবণতা নয়, বরং বেকারত্ব, হতাশা এবং মাদকের সহজলভ্যতার কারণে তরুণরা এই অন্ধকার পথে পা বাড়াচ্ছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে বা শাস্তির মাত্রা বাড়িয়ে এই চক্র ভাঙা সম্ভব নয়। এজন্য আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা, মানসিক স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের আধুনিকায়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য যথেষ্ট পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি।
আরও পড়ুন
সাতক্ষীরায় ডিবির অভিযানে অনলাইন জুয়া: তিন যুবক গ্রেপ্তার
স্ট্যানফোর্ড-এলসেভিয়ার তালিকায় যবিপ্রবির ১১ গবেষক: প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শীর্ষে যবিপ্রবি
তরুণ উদ্যোক্তাদের খুঁজছে বাংলাদেশ ব্যাংক, চলছে উদ্যোক্তা অনুসন্ধান কর্মসূচি