আবরার ফাহাদের ৭ম শাহাদতবার্ষিকী: রায়ের অপেক্ষায় পরিবার, পলাতক তিন আসামিকে নিয়ে ক্ষোভ
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
তানভীর আজাদ, জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া :
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৭ মিনিট ৭ অক্টোবর। ২০১৯ সালের এই দিনে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্মম নির্যাতনে প্রাণ হারান তিনি।
দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তির সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। দীর্ঘ সাত বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার চূড়ান্ত বিচার ও রায় কার্যকর না হওয়ায় চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আবরারের পরিবার।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের পাশে আবরারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। তাঁর ব্যবহৃত ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং পড়ার টেবিল এখনো ঠিক আগের মতোই সাজানো রয়েছে। ঘরের বিছানাও পরিপাটি, কেবল নেই শুধু আবরার নিজে। ছেলের স্মৃতি বুকে চেপে দিন কাটাচ্ছেন মা রোকেয়া খাতুন ও বাবা বরকত উল্লাহ বুলু। অন্যদিকে, ১০৫ বছর বয়সি দাদা আব্দুল গফুর নাতি হত্যার চূড়ান্ত বিচার দেখে যাওয়ার আকুতি নিয়ে প্রহর গুনছেন।
২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া বিচারকার্যের দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
নিয়ম অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসলে দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন।
বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার পেপারবুক প্রস্তুত হলেও মামলাটি এখনো আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য ওঠেনি।
আদালতে দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে বর্তমানে ২২ জন কারাগারে আটক থাকলেও এখনও পলাতক রয়েছেন ৩ জন আসামি। স্বজন ও স্থানীয়দের জোরালো ধারণা, এই তিনজন আসামি দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে অবস্থান করছেন।যে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন নিয়ে আবরার ফাহাদ জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন, সেই স্বপ্নের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং দ্রুততম সময়ে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারসহ আদালতের চূড়ান্ত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তার বাবা বরকত উল্লাহ বুলু ও দেশবাসী।