মাদারীপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান: ধসে পড়ার আতঙ্কে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
নাজমুল হাসান, মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের ১৪৫নং পশ্চিম শশিকর ওয়াপদারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। ছাদ ও পিলারে ফাটল এবং পলেস্তারা খসে পড়ায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় অভিভাবকেরা। শ্রেণিকক্ষের তীব্র সংকট ও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই এই বিপজ্জনক পরিবেশে কোমলমতি শিশুদের ক্লাস নিতে হচ্ছে।
পিলারে ফাটল, চুইয়ে পড়ে বৃষ্টি
২০০১ সালে প্রবহমান একটি খালের পাড়ে নির্মিত হয় বিদ্যালয়টির বর্তমান ভবনটি। নির্মাণের কয়েক বছর পর থেকেই ভবনটিতে ফাটল দেখা দিতে শুরু করে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনটির অন্তত ৩৬টি পিলারে ছোট-বড় ফাটল ধরেছে এবং পলেস্তারা খসে পড়ছে। অন্যদিকে পাশেই খালের প্রবল স্রোত থাকায় ভবনটি নদীভাঙন ও ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্ষার দিনে ছাদ ও দেয়াল চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষের মেঝে স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়, ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা। ফলে স্বাভাবিক পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
আতঙ্কে দিন কাটছে শিক্ষার্থীদের
বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী আতঙ্ক প্রকাশ করে বলে, "ক্লাস করার সময় দেয়াল আর পিলারের ফাটল দেখে খুব ভয় লাগে। বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। যে কোনো সময় ধসে পড়ার ভয়ে থাকি। আমরা নিয়মিত স্কুলে আসতে চাই, কিন্তু এই ভবনের কারণে আসতে ভয় লাগে। দ্রুত একটি নতুন ভবন তৈরি হলে আমাদের পড়াশোনা ভালো হতো।"
শিক্ষকেরাও জানান, কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকেন। কিন্তু বিকল্প কোনো কক্ষ না থাকায় ঝুঁকি জেনেও এই ভবনেই পাঠদান চালাতে হচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টির দিনে এই আতঙ্ক বহুগুণ বেড়ে যায়। অভিভাবকেরা অনতিবিলম্বে বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত অবস্থা পরিদর্শন করে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে ডাসার উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানান, বিদ্যালয়টির বিমের কংক্রিট ধসে পড়েছে এবং ভবনটি বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার চিঠি পেয়েছেন এবং নতুন ভবন পুনর্নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, "বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকার বিষয়টি আমরা অবগত আছি। আমাদের একটি টেকনিক্যাল কমিটি রয়েছে, যারা ভবনটি সরেজমিনে যাচাই করে ব্যবহারের উপযোগী কি না তা নির্ধারণ করবে। উপজেলা প্রকৌশলী ইতোমধ্যে পরিদর্শন করেছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় দ্রুতই পরবর্তী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"