Scholarly Index-এর র্যাংকিংয়ে Library and Information Science বিষয়ে বিশ্বে ৯ম স্থানে নোবিপ্রবির সহকারী অধ্যাপক আতিকুজ্জামান
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৫ পিএম
মোঃ জাহিদ হাসান, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
২০২১–২০২৫ সময়কালের গবেষণা-প্রভাবের ভিত্তিতে Scholarly Index-এর Top1000 Scholar Ranking-এ একাধিক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন সায়েন্সেসের সহকারী অধ্যাপক মোঃ আতিকুজ্জামান।
র্যাংকিংয়ে Library and Information Science বিষয়ে তিনি বিশ্বে ৯ম এবং বাংলাদেশে ১ম স্থান অর্জন করেছেন। একই সময়ে Library Science and Information Literacy বিষয়ে বিশ্বে ৮ম ও বাংলাদেশে ১ম এবং Academic Integrity and Plagiarism বিষয়ে বিশ্বে ১০৪তম ও বাংলাদেশে ১ম অবস্থান অর্জন করেন তিনি।
Scholarly Index-এর Top1000 Scholar হলো গবেষকদের গবেষণা-প্রভাব মূল্যায়নের একটি আন্তর্জাতিক র্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম। এর ২০২৬ সংস্করণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ২৩ লাখ গবেষকের প্রোফাইল, ২০টি broad discipline, ৩০৫টি subfield এবং ৪ হাজার ৫১৬টি নির্দিষ্ট research topic অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্ল্যাটফর্মটি গবেষকদের lifetime achievement-এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক গবেষণা-প্রভাবও আলাদাভাবে মূল্যায়ন করে। ২০২১–২০২৫ সময়কালকে তারা ‘Recent Influence’ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
এই র্যাংকিংয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি শুধু সামগ্রিক গবেষণা-প্রভাবের ভিত্তিতে অবস্থান নির্ধারণ করে না; বরং নির্দিষ্ট গবেষণাক্ষেত্র ও research topic অনুযায়ী গবেষকদের অবস্থান নির্ধারণ করে। ফলে কোনো গবেষক নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে বিশ্বে উচ্চ অবস্থানে থাকতে পারেন, যদিও সেটি বিশ্বের সব গবেষকের মধ্যে তাঁর সামগ্রিক অবস্থানকে নির্দেশ করে না।
Scholarly Index-এর বিভিন্ন ranking table-এ world rank-এর পাশাপাশি national rank, impact score, citations, publications, D-index, H-index এবং percentile-এর মতো সূচকও প্রদর্শিত হয়।
নিজের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রসঙ্গে মোঃ আতিকুজ্জামান বলেন, “এই স্বীকৃতি আমার জন্য অবশ্যই আনন্দ ও গর্বের। তবে একই সঙ্গে এটি আমার জন্য আরও বড় দায়িত্বের বিষয়। একজন গবেষকের প্রকৃত সাফল্য শুধু কোনো র্যাংকিংয়ে একটি অবস্থান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞান সৃষ্টি করা, সমাজ ও দেশের জন্য উপকারী সমাধান খুঁজে বের করা এবং আন্তর্জাতিক গবেষণাঙ্গনে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি বলেন, “একটি উন্নয়নশীল দেশের গবেষক হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দৃশ্যমান হওয়া আমাকে আরও উৎসাহিত করেছে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের গবেষকদের মধ্যে অসাধারণ সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন হচ্ছে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য গবেষণার পরিবেশ, সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা।”
গবেষণায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে যেতে শুধু publication-এর সংখ্যা বাড়ানোর দিকে নজর না দিয়ে গবেষণার বিষয়, প্রাসঙ্গিকতা ও নতুনত্বের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, “কোন বিষয়ে গবেষণা করা হচ্ছে, গবেষণাটি কতটা প্রাসঙ্গিক, গবেষণার ফলাফল কতটা নতুন এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা আলোচনায় সেটি কী ধরনের অবদান রাখছে—এসব বিষয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
নিজের এই অর্জনের পেছনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “সর্বোপরি, আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই আমার শিক্ষকদেরকে, যারা আমাকে গবেষণা শিখিয়েছেন; আমার পরিবারকে, যাদের সহযোগিতা আমাকে এতদূর আসতে সহায়তা করেছে; আমার সহকর্মীবৃন্দ এবং সর্বোপরি আমার শিক্ষার্থীদেরকে, যারা বিভিন্নভাবে আমার গবেষণায় অবদান রেখেছেন।”
মোঃ আতিকুজ্জামান নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন সায়েন্সেসে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর এই অর্জন গবেষণায় বাংলাদেশের পাশাপাশি নোবিপ্রবির আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।