দেবীগঞ্জে সোনাহার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ, তদন্তের দাবি
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ পিএম
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ
পঞ্চগড় | ২ অক্টোবর ২০২৬
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পের অর্থ ব্যয়, ভাউচার সংরক্ষণ এবং বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া এমএস স্যানিটারির ১১৬২ নম্বর ভাউচারটি সোনাহার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল আলমের নিজ হাতে লেখা বলে অভিযোগ রয়েছে। ভাউচারটির সত্যতা যাচাই করতে প্রতিষ্ঠানে গেলে মূল ভাউচারের কার্বন কপির স্থানে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি; সংশ্লিষ্ট পাতাটি ফাঁকা রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রকল্পটির জন্য মোট বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। জমা দেওয়া ১০টি ভাউচার পর্যালোচনায় মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ৯৪ হাজার ১৬১ টাকা। সে হিসাবে বরাদ্দের ২৫ হাজার ৮৩৯ টাকা অব্যয়িত থাকার কথা।
অন্যদিকে, প্রকল্পের বরাদ্দে ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে একটি প্রজেক্টর কেনার জন্য বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে আরও ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোনাহার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার রায় বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বরাদ্দের ঘাটতি থাকায় প্রজেক্টর কেনার জন্য বিদ্যালয় তহবিল থেকে প্রধান শিক্ষককে ১২ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়ভাবে আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজে বিদ্যালয় তহবিল থেকে নেওয়া অর্থ, বরাদ্দের অব্যয়িত টাকা এবং খোয়া না কেনার অভিযোগ—সবকিছু মিলিয়ে প্রায় ৪৭ হাজার টাকার আর্থিক অসঙ্গতি রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সোনাহার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রকল্প কমিটির সভাপতি রফিকুল আলমের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলবেন বলে জানান।
দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ওয়ালিফ মন্ডল বলেন, বরাদ্দটি আগের সময়ের হওয়ায় এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহা বলেন, প্রকল্প কিংবা বিদ্যালয় তহবিলের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, প্রকল্পের বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা এবং সরকারি ও বিদ্যালয় তহবিলের অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।