রংপুরের হারাগাছে জমি বিরোধের জেরে পলাশ হত্যাকাণ্ড, মামলার ২ নম্বর আসামি সাব্বির গ্রেপ্তার
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
রফিকুল ইসলাম সাবুল : রংপুর প্রতিনিধি
রংপুর মহানগরীর হারাগাছ থানায় দায়ের করা চাঞ্চল্যকর পলাশ হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি মো. সাব্বিরকে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার গড়াই মুক্তা প্লাজা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসআরবি-১৩, রংপুর এবং এসআরবি-১৪-এর টাঙ্গাইল ক্যাম্পের সদস্যদের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সাব্বির (২৭) রংপুরের হারাগাছ থানার আরাজী বীরচরণ গ্রামের মো. মোজাহার আলীর ছেলে। তিনি পলাশ হত্যা মামলার ২ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় সাহেবগঞ্জ বাজারে নিহত পলাশের সঙ্গে মোজাহার আলীর কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি মোজাহার তাঁর দুই ছেলে সাব্বির ও সজিবসহ স্বজনদের জানান।
এরপর রাতে পলাশ ও তাঁর মা সাহেবগঞ্জ মাছের বাজারে টাকা সংগ্রহের জন্য গেলে মোজাহারের আত্মীয় সোনা মিয়া পলাশকে মারধর করেন। সেখান থেকে দৌড়ে পলাশ তিনমাথা মোড় বাজারে গেলে আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা মোজাহার, তাঁর ছেলেরা ও কয়েকজন যুবক লোহার রড, এসএস পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁকে মারধর করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পলাশকে বাঁচাতে তাঁর মা ও মেজ ভাই আশরাফুল এগিয়ে গেলে তাঁদেরও মারধর করা হয় বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত পলাশকে উদ্ধার করে প্রথমে হারাগাছ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ আগস্ট ভোর ৫টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে ১৯ আগস্ট হারাগাছ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ১৪।
মামলা দায়েরের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় এসআরবি। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-১৩ ও এসআরবি-১৪-এর যৌথ আভিযানিক দল টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অভিযান চালিয়ে সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।