তিগ্রাইয়ে বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ, দ্রুত সংঘাত বন্ধের আহ্বান
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
বিশেষ প্রতিনিধিঃ সঞ্জয় মজুমদার, ২ অক্টোবর ২০২৬।
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় তিগ্রাইয়ে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা এবং মানবিক পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক ২৫ সেপ্টেম্বর সতর্ক করে বলেন, সাম্প্রতিক লড়াইয়ে বেসামরিক জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সব পক্ষকে অবিলম্বে উত্তেজনা কমাতে হবে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর তিগ্রাইয়ের পাঁচটি স্কুলে ইথিওপিয়ান ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের (ENDF) বিমান হামলা, যার কিছু ড্রোনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে বলে রিপোর্ট করা হয়েছে, সেখানে হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে আমহারা অঞ্চলের Kobo শহরে ২৩ সেপ্টেম্বর একটি মর্টার হামলায় বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া যায়। জাতিসংঘ এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।
Human Rights Watch-ও তিগ্রাইয়ে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি ২৫ সেপ্টেম্বর জানায়, ২০ আগস্ট Mekelle-এর Daero এলাকায় একটি আবাসিক কম্পাউন্ডে বিমান হামলায় ১৩ জন বেসামরিক মানুষ আহত হন, যাদের মধ্যে সাতজন শিশু। সংগঠনটি ঘটনাস্থলের ছবি, স্যাটেলাইট তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করে হামলাটিকে সম্ভাব্য বেআইনি নির্বিচার হামলা হিসেবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। ইথিওপিয়ার সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন পাঠানো হলেও প্রকাশিত প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
তিগ্রাইয়ে বর্তমান সংকটের পটভূমিতে রয়েছে ২০২০–২০২২ সালের ভয়াবহ যুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত শান্তি ব্যবস্থা। ২০২২ সালের নভেম্বরের African Union-mediated Permanent Cessation of Hostilities Agreement-এর মাধ্যমে বড় ধরনের যুদ্ধ বন্ধ হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আবার সংঘর্ষ, বিমান হামলা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তিগ্রাইয়ের পাশাপাশি আমহারা ও আফার অঞ্চলেও লড়াই ছড়িয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে।
মানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে যোগাযোগব্যবস্থা ও ত্রাণ সরবরাহে বাধার কারণে। Reuters জানিয়েছে, তিগ্রাইয়ে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল ও প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা এবং মানবিক বহরে হামলার যেকোনো ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছে।
জাতিসংঘের আহ্বানের মূল বিষয় এখন শুধু যুদ্ধ থামানো নয়, বেসামরিক মানুষ ও বেসামরিক অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করা। তুর্ক সব পক্ষকে উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার পথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নও African Union-এর নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছে।
তিগ্রাইয়ে নতুন করে যুদ্ধ তীব্র হলে ২০২২ সালের শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে সংঘাত তিগ্রাইয়ের বাইরে আমহারা ও আফার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এবং ইথিওপিয়া-ইরিত্রিয়া সম্পর্কও গুরুতরভাবে অবনতি হয়েছে। ফলে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক সহায়তার প্রবেশাধিকার এখন উত্তর ইথিওপিয়ার সংকটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর মধ্যে রয়েছে।