মাগুরায় পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকের এক মাসের বিদ্যুৎ বিল ৫৩০ কোটি টাকা!
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৭ এএম
আব্দুর রশিদ মোল্লা, মাগুরা প্রতিনিধি:
মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বিল পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মাগুরার এক গ্রাহক। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী গ্রাহক আলেয়া খাতুনকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
জানা গেছে, মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুৎ বিল ইস্যু করা হয়। ওই বিলে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে মোট বিল দেখানো হয়েছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।
বিলের কপি অনুযায়ী, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ মাত্র ২৩৫ ইউনিট হলেও ডিমান্ড চার্জ দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট ও ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করে বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ তা বেড়ে দাঁড়ানোর কথা ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা।
তবে প্রকৃত হিসাবে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিপরীতে আলেয়া খাতুনের বিল হওয়ার কথা মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ এর পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৬ টাকা।
গত ১০ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা বিলটির পরিশোধের শেষ তারিখ ছিল ২৯ সেপ্টেম্বর। বিলটিতে গ্রাহকের শ্রেণি উল্লেখ করা হয়েছিল ‘এলটি-এ (আবাসিক)’।
এমন অস্বাভাবিক বিল পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রাহক আলেয়া খাতুন। তিনি বলেন, এটি শুধু ভৌতিক বিল নয়, আজগুবিও। বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালিপনার কারণে গ্রাহকদের দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তি বাড়ছে। এ ধরনের ভুলের প্রতিকার হওয়া জরুরি।
এদিকে, মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের সময় মিটারের সিল নম্বরের ডিজিট ভুলবশত ডিমান্ড চার্জের ঘরে যুক্ত হয়ে যাওয়ায় অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়। পরে বিলটি সংশোধন করে গ্রাহকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্তের ভিত্তিতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামও ভুলের বিষয়টি স্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য, টাইপিংয়ের ভুলের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। পরে বিল সংশোধন করা হয়েছে এবং গ্রাহক সংশোধিত বিল পরিশোধ করেছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, অস্বাভাবিক এই বিলের ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুতের জিএমকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎমন্ত্রী নিজে গ্রাহকের সঙ্গে ফোনে কথা বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।