সাবেক কৃষক লীগ নেতার ও দলিল লেখকের বিরুদ্ধে জাল আইডি কার্ড -বিআরএসে দলিল স্কুরে নিযোগ বাণিজ্য ও একাদিক অভিযোগ

জাল আইডি-বিআরএসে দলিল তৈরির অভিযোগে দলিল লিখকের লাইসেন্স স্থগিত

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও জাল বিআরএস খতিয়ান প্রস্তুত করে একাধিক জাল দলিল তৈরির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বিতর্কিত দলিল লেখক এবং স্থানীয় কৃষক লীগ নেতা হেলাল উদ্দিন সরকারের সনদ (লাইসেন্স) বাতিল করা হয়েছে। বুধবার সাব-রেজিস্ট্রারের আদেশে তার লাইসেন্স বাতিলপূর্বক জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে স্থায়ী শাস্তির সুপারিশ পাঠোনো হয়েছে।

জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ধোবাউড়া উপজেলার ৫ নং গোয়াতলা ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতির পদ পান গোয়াতলা বরাটিয়া গ্রামের মৃত কাসম আলী মুন্সির ছেলে হেলাল উদ্দিন সরকার (৫২)। শিক্ষাগত যোগ্যতা মাত্র অষ্টম শ্রেণি হওয়া সত্ত্বেও মোটা অঙ্কের উৎকোচ ও ক্ষমতার দাপটে বাগিয়ে নেন দলিল লেখকের লাইসেন্স। পরবর্তীতে সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়কে কেন্দ্র করে গড়ে তোলেন জালিয়াত চক্র ও সিন্ডিকেট।

সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৯ মে একটি বড় ধরনের জাল দলিল তৈরির বিষয়টি জনসমক্ষে এলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সুভাষ চন্দ্র দত্ত স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ।

হাইস্কুলে নিয়োগ বাণিজ্য ও ‘প্রক্সি’ সিন্ডিকেট:

শুধু জমি জালিয়াতিই নয়, ক্ষমতার জোরে টানা দুই মেয়াদে স্থানীয় ‘গোয়াতলা উচ্চ বিদ্যালয়’-এর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়ে শিক্ষাঙ্গনেও জালিয়াতির থাবা বসান হেলাল সরকার। অভিযোগ রয়েছে, ২০১০ সালে সভাপতি হওয়ার পর লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি প্রার্থী বসিয়ে অন্তত ৭ থেকে ৮ জন শিক্ষক ও কর্মচারীকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেন তিনি।

স্কুলের সহকারী শিক্ষক লিটন মাস্টার, আকতাব উদ্দিন, মঞ্জু এবং বর্তমান প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেনের নিয়োগে কোটি টাকার লেনদেন ও বিধিবহির্ভূত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ আছে। এছাড়া স্কুল মাঠে অবৈধভাবে গরুর হাট বসানো এবং দোকানঘর তুলে সেই টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

জালিয়াতি, প্রক্সি নিয়োগ ও ঘুষ বাণিজ্যের টাকায় হেলাল সরকার গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদ। প্রতিবেশীদের জমি দখল ও সীমানা বাড়িয়ে অবৈধ সাম্রাজ্য বিস্তারের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রতিবাদ করতে গেলেই দলীয় ক্যাডার বাহিনী ও মামলার ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখা হতো বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, হেলাল সরকারের ছেলে ও ইউনিয়ন যুবলীগ সদস্য মোকামেল মিয়া (৩৪) দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। একাধিক মাদক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রভাবে ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। মোকামেলের দ্বিতীয় স্ত্রী নুরজাহানও এই মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত এবং তিনি ইতিপূর্বে মাদকসহ গ্রেফতারও হয়েছিলেন।

দলিল লিখক হেলাল উদ্দিন সরকার জানান, অনেক আগের বিষয় কীভাবে কি হয়েছে এখন আমার কিছুই মনে নাই। অষ্টম শ্রেনী পাশ হয়ে কীভাবে দলিল লিখকের লাইসেন্স পেলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ঐ সময়ে সাবরেজিস্ট্রার আমাকে সব ব্যাবস্থা করে দিয়েছে। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি থাকা অবস্থায় টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেয়ার প্রসঙ্গে তিনি জানান, তখনকার সরকারের সময় অনেক কিছু করতে হয়েছে। এখন আমাকে দোষী বানানো হচ্ছে। 

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. সালমান ওমর রুবেল বলেন, আমার কাছে অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী। সে অনুযায়ি ব্যাবস্থা নেয়া হচ্ছে। জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে দলিল লিখকের বিরুদ্ধে আইনিগত ব্যাবস্থা নেয়ার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। 

 

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com