পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার এর অব্যবস্থাপনা ও অসহোযোগিতাকে দায়ী করেছেন স্থানীয়রা

কুড়িগ্রামে তিস্তার পানি বাড়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন নিঃস্ব হচ্ছে অসংখ্য পরিবার

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

হাফিজুর রহমান হৃদয়, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ২৭.০৯.২৬

কুড়িগ্রামের উলিপুরে আবারও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বৃদ্ধর ফলে প্লাবিত হয়েছে তিস্তা চরের নি¤œাঞ্চল। পানিবন্দী হয়ে পড়ছে নি¤œাঞ্চলের বেশকিছু পরিবার। তিস্তা নদীর পানি বাড়ার সাথে সাথে দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। ভাঙনে নদীগর্ভে বিলিন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। ভাঙনের মুখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদরাসা, সড়ক, বাজারসহ নানা স্থাপনা। এতে করে স্বপ্নভঙ্গ হচ্ছে নদীপারের মানুষের। এ অবস্থায় ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে তাদের। ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো তৎপরতা না থাকায় নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের জঙ্গল, বাঁশ, কলাগাছ ও ছোট বড় গাছ দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছেন নদীপাড়ের মানুষ। এদিকে ফসলি জমি, বাড়ি-ঘর নদী গর্ভে চলে যাওয়ায় সর্বোস্ব হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নীচে কিংবা অন্যের জমিতে বসবাস করছেন ভাঙন কবলিতরা।

স্থানীয়রা জানান পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে প্রবল হবে নদী ভাঙন। বিলিন হয়ে যাবে ফসলজমিসহ স্বপ্নের বসতভিটা। তাই ভাঙন কবলিতদের পুনর্বাসন করে ভাঙনরোধে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের দাবি তাদের।

কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডর তথ্য অনুযায়ী রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) তিস্তার পানি সকাল ৬টায় বিপদসীমার ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিলো। তবে পানি করায় বিকাল ৩ টায় ৫৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

জানা গেছে, উপজেলার চাপরারপাড় হাজিপাড়া, উচ্চগ্রাম, বসনিয়াপাড়া, মুন্সিপাড়া, কর্পূরা, ঠুটাপাইকার, গোড়াইপিয়ার, শেখেরটেক, পাকার মাথা, দড়ি কিশোর পুর, বামনপাড়া, লাল মসজিদ, কুমারপাড়া, ভেন্ডারপাড়া, ফকিরপাড়া, মাঝিপাড়া, পশ্চিম বজরা, চর বজরা, বাঁধের মাথা, উত্তর সাদুয়া দামার হাট, খামার দামারহাট নদীর পশ্চিমপাড়, সাতালস্ক, চর বজরা, সন্তোষ অভিরাম, কাজিরচরসহ অন্যান্য এলাকা ভাঙন হিসাবে চিহ্নিত করে সরকারি ভাবে জিওব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর কাজ করলেও অনেক এলাকায় এখনও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এসব এলাকায় নতুন করে নদী ভাঙনে একের পর এক আবাদি জমি, বসতবাড়ি এবং বড় বড় গাছ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এছাড়া গত চার দিনে চিস্তার ভাঙনে ৭টি পরিবার নদীতে বিলীন হয়ে গেছে নালার চর লাল মসজিদ এলাকা। ফলে ভিটে হারিয়ে নির্ঘুম রাত কটছে ভাঙন কবলিতদের। এদের কেউ কেউ অন্যের জমিতে কিংবা বাঁধের পাশে এবং খোলা আকাশের নীচে পরিবার পরিজন নিয়ে অতেকষ্টে রাতযাপন করছেন।

উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের পাকারমাথা শেখেরটেক এলাকার মফিল উদ্দিন জানান তিনি এক একর জমিতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ করে আমন চাষ করেছেন। কয়েকদিন পরেই ঘরে তুলবেন কষ্টের সোনালি ফসল। কিন্তু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভাঙন শুরু হওয়ায় নদীগভে বিলিনের পথে সেই স্বপ্ন। দলদলিয়া ইউনিয়নের তিস্তা নদী বেষ্টিত নালারচর লাল জুম্মাপাড় এলাকার ছকিনা বেগম (৬২) জানান, গত এক সপ্তাহে তাদের এলাকার ৭টি পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে এখন নিঃস্ব।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, বৃষ্টি ও উজানি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ইতোমধ্যে পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে বেশকিছু পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিস্তার ভাঙন কবলিত এলাকা গুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলকায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা হবে।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com