এনজিও ঋণের জামিনদার বানিয়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকার প্রতারণার অভিযোগ
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এনজিও ঋণের জামিনদার করে প্রায় ৩ লাখ টাকা নেওয়া এবং পরে আরও ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়ে বাসাবাড়ির মালামাল ও অটোরিকশা সরিয়ে গা-ঢাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আনোয়ারা আক্তার (৩৪) গত ২২ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্তরা হলেন সোলায়মান (৩৭) ও তার স্ত্রী রুমি আক্তার (৩৬)। তারা দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ারার বাসার পাশে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত দম্পতি এলাকায় জায়গা কেনার কথা বলে পল্লী বিকাশ এনজিও, সিএসি এনজিও ও টিএমএস এনজিও থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য আনোয়ারাকে জামিনদার হতে অনুরোধ করেন। সরল বিশ্বাসে তিনি জামিনদার হয়ে তাদের প্রায় ৩ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার সুযোগ করে দেন বলে অভিযোগ করেন।
এরপর গত ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযুক্তরা আনোয়ারার কাছ থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা নগদ ধার নেন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে তা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ১৭ সেপ্টেম্বর আনোয়ারা অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে ঢাকার পিজি হাসপাতালে গেলে সেই সুযোগে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাসার মালামাল সরিয়ে ফেলেন। পরদিন সকালে ফিরে তিনি দেখতে পান, অভিযুক্ত দম্পতি বাসায় নেই। গ্যারেজে গিয়ে অভিযুক্ত সোলায়মানের ব্যবহৃত চারটি অটোরিকশাও দেখতে পাননি।
পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন, অটোরিকশাগুলো অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও অভিযুক্তদের সন্ধান না পেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
আনোয়ারার দাবি, অভিযুক্তদের কাছে তার মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। একইভাবে আরও কয়েকজন ব্যক্তি তাদের মাধ্যমে প্রতারিত হয়েছেন বলেও তিনি জানতে পেরেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন। এলাকায় খবর নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত সোলায়মান বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছ থেকে এরকম প্রায় বিশ লাখ টাকা ধার নিয়ে পালিয়েছেন।
ভুক্তভোগী তার পাওনা টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সোনারগাঁ থানার কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত সোলায়মান ও রুমি আক্তারের মোবাইল নাম্বারে কল করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সোনারগাঁ থানার ওসি মো. আব্দুল বারিক বলেন,
“অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”