চাঁদপুরের নিজ গাছতলায় ময়দান-মসজিদ নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০০ পিএম

চাঁদপুর প্রতিনিধি:

চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের নিজগাছতলা আলহাজ্ব মাওলানা মো. সালামত উল্যাহ খান (রহ.) ঈদগাহ ময়দানসংলগ্ন একটি জায়গার মালিকানা, মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণ এবং চলমান উন্নয়নকাজকে ঘিরে এলাকায় নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে একটি পক্ষ অপপ্রচার চালিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে বাগাদী দরবারের পীরসাহেব পরিবার ও ঈদগাহ ময়দান সংশ্লিষ্টদের সম্মানহানি করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পীরজাদা মাওলানা মাহফুজ উল্যাহ খান দাবি করেন, ঈদগাহ ময়দানের পাশে কথিত জায়গাটির মূল মালিক সফিকুর রহমান শেখের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে জায়গাটি তিনি পেয়েছেন। ২০২০ সালে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে সেখানে নামাজের ঘর ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সে সময় একটি পক্ষ বিভিন্নভাবে বাধা দেয় এবং পরবর্তীতে মসজিদ ও মাদরাসা উচ্ছেদ করা হয় বলে তার অভিযোগ।

তিনি আরও দাবি করেন, ওই সময় ময়দানের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তার বাবা একেএম নেয়ামত উল্যাহ খানকে লাঞ্ছিত করে ময়দান থেকে অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি নামাজের ঘরের মাইক, টিউবওয়েল ও ইমামের সাইকেল চুরির ঘটনাও ঘটে। 

বর্তমানে তিনি ঈদগাহ ময়দানের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঈদগাহ ময়দান কারও ব্যক্তিগত জায়গা দখল করে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। তাই ময়দানের জমির প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে বিষয়টির চূড়ান্ত ফয়সালা করা প্রয়োজন।

ঈদগাহ ময়দানের নামে প্রায় এক একর ৮৭ শতাংশ জমি থাকার কথা বলা হলেও এত বছরেও ওই জমির সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করা হয়নি কেন? অতীতে যারা ময়দানের কমিটির দায়িত্বে ছিলেন, তারা জমি, আয়-ব্যয় ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কী করেছেন—তা প্রকাশ্যে আনারও দাবি জানান তিনি।ময়দানের মিম্বার-মেহরাব ও নামাজের কাতারের অবকাঠামো ভেঙে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

 বর্তমানে ঈদগাহ ময়দানের সংস্কার ও উন্নয়নকাজ চলছে। জায়গা ভরাট, সীমানা দেয়াল নির্মাণ এবং দিঘীর অংশে গাইড ওয়াল নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে এসব চলমান উন্নয়নকাজে কারা বাধা দিচ্ছে এবং দিঘী নিয়ে কেন নানা টালবাহানা করা হচ্ছে।

 চলমান উন্নয়ন ও জমির প্রকৃত মালিকানা-সীমানা নিয়ে প্রশ্ন সামনে আসায় একটি কুচক্রী মহল ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে ঈদগাহ ময়দান ও বাগাদী দরবারের পীরসাহেব পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে এলাকাবাসীর একাংশ এ ধরনের অপপ্রচারের নিয়ে বলেন, ঈদগাহ ময়দানের জমির সঠিক পরিমাপ, সীমানা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে আল্লামা মাহফুজ উল্যাহ ইউসূফী তার ফেসবুক ভেরিফাইড পেইজে বলেন-

ময়দানের চিত্র যা ছিল তার মধ্যে দক্ষিণ এবং পশ্চিম পাশে অবস্থা পরিবর্তন হয়েছে। কারণ ইতোমধ্যে দক্ষিণ পাশে প্রায় ১৩ শতাংশ জায়গা ভরাট ও সীমানা করে নামাজের উপযোগী করা হচ্ছে যা ইতোপূর্বে ছিল না। পশ্চিমে ভেঙে যাওয়া কাতার ও মিম্বার মেহেরাব নির্মাণের জন্য দিঘীর পাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। যা সম্পন্ন হলে সেখানেও প্রায় ১০শতাংশ জায়গা ভরাট ও নামাজের উপযোগী হবে, ইনশাআল্লাহ। 

পূর্ব দিকে রাস্তা এবং উত্তরে প্লট আকারে কথিত মসজিদ পূর্বের মতই আছে(২০১৮তে যেমন ছিল), কিছু ভাংগা বা নির্মাণ করা হয় নাই। টয়লেট ও মুলি বেড়া ঝরে গেছে। সেখানে নামাজ বা অন্য কোন ধর্মীয় কাজ হয় না।(২০২০-২১সালে যেমন হতো)

ইদানিং যেটা করা হচ্ছে সেটা জায়গার সীমানা নির্ধারণ এবং ঈদগাহ এর সাথে ব্যক্তিগত জায়গার মধ্যে সমন্বয় করে ঈদগাহ মাঠের সৌন্দর্য এবং কাজের পরিধি নির্ধারণের চেস্টা। 

অতএব এখানে মসজিদ হবে কিনা? এই প্রশ্নের কোন জবাব নেই। কারণ এ জায়গায় মসজিদ মাদরাসা করার উদ্যোগ শুরুতেই বাধার সম্মুক্ষিন হওয়ার কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। এখন বাস্তবায়ন করতে অর্ধ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে শুধু জমির সমস্যার সমাধানে। অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণে ব্যয় হবে আরো কোটি টাকা। যেটা আমার পক্ষে আদৌ করা সম্ভব নয়। যদি কোন ধনাঢ্য ব্যক্তি বা দাতারা মসজিদ মাদরাসার জন্য ক্রয় করে অথবা ঈদগাহের জন্য ক্রয় করে একিভূত করতে পারে তাহলে সেটা সম্ভব হতে পারে। এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়ার সুযোগ অব্যাহত আছে।

যেহেতু এই জায়গাটিতে একসময় স' মিল ছিল, মুরগির ফার্ম ছিল, সেই ভিটি এখনো আছে।

আমি যে উদ্যোগ নিয়েছিলাম সেখানেও জমির মূল্য অনাদায়ি রেখেই কার্যক্রম শুরু করেছিলাম। ফলে এ ব্যাপারে জমির মূল মালিক সফিক শেখেরও দায়বদ্ধতা বিদ্যমান। ফলে এ নিয়ে অহেতুক বিভ্রান্তি মূলক কথা ছড়ানো ময়দানের উন্নয়ন কাজের চলমান প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করবে বলে আমি মনে করি। 

সেজন্য আমার অনুরোধ থাকবে, ময়দানের স্বার্থে যদি কারো কোন উদ্যোগ থাকে সেটা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে এবং সাত গ্রামের ঈদগাহ কে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যই যদি কেউ ময়দান ছেড়ে গিয়ে থাকে কিংবা ময়দানে উন্নয়ন কাজ না করে অর্থ আত্নসাত করে থাকে তার দায়ভার সংশ্লিষ্টদেরকেই নিতে হবে। 

পীর আলহাজ্ব মাওলানা মো. সালামত উল্যাহ খান রহমাতুল্লাহ আলাইহির যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে আমরা আমাদের খেদমত অব্যাহত রাখবো, ইনশাল্লাহ।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com