জয়পুরহাটে সাজেদা হত্যায় দুই আসামির যাবজ্জীবন
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৬ পিএম
জয়পুরহাট প্রতিনিধি: আব্দুল কাদের
জয়পুরহাট শহরের জানিয়ার বাগান এলাকায় চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ সাজেদা ইসলাম সাজু (৩৭) হত্যা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদন্ডের আদেশ দেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জয়পুরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক হাসিবুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, জয়পুরহাট সদর উপজেলার খঞ্জনপুর এলাকার আনিছুর রহমানের ছেলে আবু সাঈদ (২৭) ও একই এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে রাব্বী হোসেন (২৭)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের (২৭ সেপ্টেম্বর) জয়পুরহাট শহরের জানিয়ার বাগান এলাকায় ডা.পারভীনের পাঁচতলা বাড়ির একটি ভাড়া বাসায় গৃহবধূ সাজেদা ইসলাম সাজুকে হত্যা করা হয়। পরে তার হাত বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সাজেদা ইসলাম সাজু ওই বাসায় ছোট মেয়ে আরিফাকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন। তাঁর স্বামী হাফিজুল ইসলাম জেলার বাইরে চাকরি করতেন। সাজেদার মেয়ে যে স্কুলে পড়াশোনা করত, ওই স্কুলে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি করতেন আবু সাঈদ। স্কুলে যাওয়া-আসার সুবাদে সাজেদার সঙ্গে সাঈদের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সাথে দীর্ঘদিনের ওই সম্পর্কের জের ধরে আবু সাঈদ ও রাব্বী হোসেন সাজেদাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে মুখে কসটেপ লাগিয়ে এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
ওই ঘটনায় নিহতের স্বামী হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ঘটনার দুই দিন পর (২৯ সেপ্টেম্বর) জয়পুরহাট সদর থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে পুলিশ আবু সাঈদ ও রাব্বী হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তারা আদালতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানায়।
এর আগে জয়পুরহাট পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) তরিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের এসব তথ্য জানিয়েছেন।
পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই জিয়াউর রহমান ২০২৩ সালের (১৮ ফেব্রুয়ারী) আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে আজ সোমবার দুপুরে জয়পুরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারি সরকারি কৌশলি নূর-ই-আলম সিদ্দিক এবং আসামি পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোােট রফিকুল ইসলাম তালুকদার তরুণ ও মামুনুর রশীদ মামলা পরিচালনা করেন।