নওগাঁর বলিহার রাজবাড়ী ও পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার পরিদর্শনে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
মোঃ রমজান হোসেন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলোর ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে এবং সংরক্ষণে সহযোগিতার আশ্বাস দিতে জেলার বলিহার রাজবাড়ী ও পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার পরিদর্শন করেছেন রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তিনি পৃথকভাবে ঐতিহাসিক এ দুটি স্থাপনা ঘুরে দেখেন।
এদিন দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলাধীন বলিহার এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক বলিহার রাজবাড়ীতে যান ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার।
এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সংসদ সদস্য ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু। রাজবাড়ী প্রাঙ্গণে পৌঁছালে স্থানীয়রা তাঁদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
পরিদর্শনকালে মনোজ কুমার ও সংসদ সদস্য রাজবাড়ীর বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। তাঁরা রাজ-রাজেশ্বরী মন্দিরসহ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসময় স্থানীয়রা বলিহার রাজবাড়ী ও মন্দিরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবি জানান।
বলিহার রাজবাড়ির রাজেশ্বরী দুর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র প্রামানিক বলেন, ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার ও সংসদ সদস্য একসঙ্গে রাজবাড়ীতে এসে বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন। তাঁদের কাছে মন্দির ও রাজবাড়ির উন্নয়ন ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। সহকারী হাইকমিশনার প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
সংসদ সদস্য ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু বলেন, ‘বলিহার রাজবাড়ী কেবল একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান নয়, এটি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক। এই প্রত্নসম্পদ রক্ষা ও চত্বরের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
এরপর ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ও জাদুঘর পরিদর্শনে যান। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। এসময় তিনি বৌদ্ধবিহারের বিভিন্ন অংশ, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও জাদুঘর ঘুরে দেখেন। পরিদর্শন শেষে তিনি দর্শনার্থী বহিতে নিজের মন্তব্যও লিখে যান।
পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের সহকারী পরিচালক (কাস্টোডিয়ান) মোহাম্মদ ফজলুল করিম আরজু বলেন, ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার দীর্ঘ সময় ধরে বৌদ্ধবিহার ও জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন। স্থানটি তাঁর ভালো লেগেছে। তিনি ভবিষ্যতে পরিবার নিয়ে আবারও পাহাড়পুরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের আদি নাম সোমপুর মহাবিহার। পাল আমলে এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র। বর্তমানে দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও দর্শনার্থী ঐতিহাসিক এ স্থাপনাটি দেখতে আসেন।
ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, বলিহার রাজবাড়ির ইতিহাস দীর্ঘদিনের। বলিহার জমিদার পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নৃসিংহ চক্রবর্তীর নাম উল্লেখ করা হয়। ১৮২৩ সালে জমিদার রাজেন্দ্রনাথ রাজ-রাজেশ্বরী দেবীর মন্দির নির্মাণ করেন। রাজবাড়ি চত্বরে নাটমন্দির, রাজ-রাজেশ্বরী মন্দির, জোড়া শিবমন্দির ও বিশাল জমিদারবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে এসব স্থাপনার অনেক কারুকাজ ও মূল্যবান নিদর্শন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার প্রায় ৭০ দশমিক ৩১ একর জমির ওপর অবস্থিত। ১৮৭৯ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক আলেকজান্ডার কানিংহাম এ স্থাপনাটি পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।
বলিহার রাজবাড়ী ও পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে জেলার প্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষণ, প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলোর উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বিষয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁরা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও জোরদার করতে পারে।