পঞ্চগড়ের বোদায় নগরকুমারী পশুর হাটে বাড়তি হাসিল আদায়, ইজারাদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ
পঞ্চগড় | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার নগরকুমারী পশুর হাটে সরকারি নির্ধারিত হাসিলের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে ইজারাদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে হাটে পশু কেনাবেচার সময় অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং রশিদে হাসিলের পরিমাণ উল্লেখ না করার বিষয়টি উঠে আসে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরকুমারী পশুর হাটে অভিযান পরিচালনা করেন বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল ইসলাম।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, হাটে গরু ও ছাগল কেনাবেচার ক্ষেত্রে নির্ধারিত হাসিলের চেয়ে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ক্রেতা-বিক্রেতাদের দেওয়া রশিদ যাচাই করা হয়। অভিযানে দেখা যায়, রশিদে হাসিলের পরিমাণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হচ্ছিল না।
অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি নিয়মে প্রতি গরুর জন্য হাসিল ৪০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছিল ৫০০ টাকা করে। অর্থাৎ প্রতিটি গরুর বিপরীতে অতিরিক্ত ১০০ টাকা আদায় করা হচ্ছিল। অন্যদিকে ছাগলের জন্য নির্ধারিত হাসিল ১৫০ টাকা হলেও নেওয়া হচ্ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।
হাটে গরু বিক্রি করতে আসা স্থানীয় খামারি করিমুল হক বলেন, গরু নিয়ে হাটে গেলে ইজারাদারের লোকজন নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি হাসিল দাবি করতেন। রশিদে টাকার অঙ্ক উল্লেখ না করে ৪০০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
পঞ্চগড় থেকে ছাগল কিনতে আসা সোহেল রানা জানান, তিনি দুটি ছাগল কিনে প্রতিটির জন্য ২০০ টাকা করে মোট ৪০০ টাকা হাসিল দিয়েছেন। তবে রশিদে আদায় করা টাকার পরিমাণ লেখা হয়নি। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, ছাগলের নির্ধারিত হাসিল ১৫০ টাকা।
দিনাজপুর থেকে গরু কিনতে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বলেন, প্রতিটি গরুতে অতিরিক্ত ১০০ টাকা নেওয়া হলে ব্যবসায়ীদের বাড়তি লোকসানের মুখে পড়তে হয়। হাটে হাসিল আদায়ের বিষয়টি নিয়মিত তদারকির দাবি জানান তিনি।
অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও সংশ্লিষ্ট ধারায় ইজারাদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, সরকারি নির্ধারিত হাসিলের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। রশিদে আদায়ের পরিমাণ উল্লেখ না করেও টাকা নেওয়া নিয়মবহির্ভূত। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনের এ অভিযানের পর হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও নির্ধারিত হাসিল কার্যকর রাখা এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।