শার্শায় পাটের বাম্পার ফলন, দামে হতাশ কৃষক

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

মহিউদ্দীন বাপ্পী (শার্শা)প্রতিনিধি:

মাঠজুড়ে সোনালী আঁশের ঝলমলে সমারোহ আর বাম্পার ফলন সব মিলিয়ে এবার মুখে চওড়া হাসি ফোটার কথা ছিল যশোরের শার্শার পাটচাষিদের। কিন্তু ক্ষেতের সেই আনন্দ হাটে এসে পরিণত হয়েছে গভীর হতাশায়। ফলন মনমতো হলেও পাটের কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে।

উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করলেও উপযুক্ত মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চাষিরা। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বাজারের গুটি কতক অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ও সমঝোতার কারণেই পার্শ্ববর্তী অন্যান্য এলাকার তুলনায় শার্শায় পাটের দাম কম রাখা হচ্ছে।

​বর্তমানে শার্শার ঐতিহ্যবাহী বাগআঁচড়া, গোগা ও রুদ্রপুরসহ প্রধান প্রধান হাটে ভালো মানের পাট প্রতি মণ সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ যশোরের উত্তরাঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য বাজারে একই মানের পাট বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার টাকা মণ দরে। ফলে মণপ্রতি ৫০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে শার্শার চাষিদের।

শার্শা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর উপজেলায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হলেও চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫০৩ হেক্টরে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বীজ রোপণ, পাট কাটা ও সঠিকভাবে জাগ দেওয়ার সুবিধার কারণে এবার আঁশের গুণগত মান ও ফলন দুটিই হয়েছে দুর্দান্ত।উৎপাদন ভালো হলেও গণনার সমীকরণ মিলছে না কৃষকের খাতায়। 

রুদ্রপুর গ্রামের কৃষক ইনছান আলী বলেন, ৯ কাঠা জমিতে ৮ মণ ১০ কেজি পাট পেয়েছি। ফলন ভালো, কিন্তু মজুরি থেকে শুরু করে জ্বালানি ও সার-কীটনাশকের দাম বাড়ায় এবার উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। গত বছরের চেয়ে মণপ্রতি প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। ৪ হাজার টাকা দর পেলে দুটো পয়সা লাভ দেখা যেত, কিন্তু বর্তমান দামে আসল তোলাই কঠিন।

​তবে সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করে বাগআঁচড়া বাজারের পাট ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম জানান, স্থানীয় হাট থেকে পাট কিনে ফরিদপুর, খুলনা, বগুড়া ও কুষ্টিয়ার বড় বড় মোকামে পাঠানো হয়। মোকামের বর্তমান চাহিদা, পাটের মান এবং পরিবহন খরচের ওপর ভিত্তি করেই স্থানীয় দর নির্ধারিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ ও বীজ সহায়তার কারণে উপজেলায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে।

মাঠের কষ্ট হাটে গিয়ে যাতে চোখের জলে না রূপ নেয়, সেজন্য বাজারে দ্রুত প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি ও সিন্ডিকেট ভাঙার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। তাদের মতে, পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে বাম্পার ফলনের আসল সুফল কৃষকের ঘরে পৌঁছাবে না।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com