নওগাঁর রাইসমিল ব্যবসায়ী ওসমান গনিকে দেউলিয়া ঘোষণা আদালতের, ঋণ ২৫২ কোটি টাকা
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
মোঃ রমজান হোসেন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর মহাদেবপুরের অটোমেটিক রাইস মিল ব্যবসায়ী মোঃ ওসমান গনিকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছেন আদালত। পাওনাদারদের আর্থিক দাবি পরিশোধ বা নিষ্পত্তির কোনো কার্যকর সমাধান না পাওয়ার কথা জানিয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন তিনি। মামলার নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের মোট ২৫২ কোটি ২৪ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দেউলিয়াবিষয়ক আদালতের বিচারক মো. শহীদুল ইসলাম এ রায় দেন। ওসমান গনির করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে দেউলিয়া ঘোষণা করেন।
মামলায় মোট ২৬৭ জনকে বিবাদী করা হয়। তাদের মধ্যে ৭২ জনের পক্ষে আইনজীবী মো. রুহুল আমিন জানান, ওসমান গনি বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঋণ এবং ব্যক্তিগত বিনিয়োগের জন্য অর্থ নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়িক লোকসানের কারণে এসব অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে তিনি দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন করেন।
আইনজীবী মো. রুহুল আমিন বলেন, আদালতের এ রায়ের ফলে বিবাদীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তারা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার আশঙ্কা, এ ধরনের রায় ভবিষ্যতে অন্যান্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানকেও দেউলিয়া ঘোষণার সুযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করতে পারে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দেউলিয়াবিষয়ক আইনের ১০ ধারায় আদালতে আবেদন করেন ওসমান গনি। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, পাওনাদারদের সঙ্গে সমঝোতা কিংবা আর্থিক দাবি নিষ্পত্তির অন্য কোনো কার্যকর পথ না পেয়ে বাধ্য হয়ে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন করেছেন।
মামলায় ১ থেকে ৭ নম্বর বিবাদী হিসেবে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ৮ থেকে ২৬৭ নম্বর বিবাদী হিসেবে ব্যক্তি ও প্রোপ্রাইটরশিপ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের রাখা হয়। তাদের সঙ্গে ওসমান গনির দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ ও বিনিয়োগ সুবিধা নিয়ে ওসমান গনি তার মালিকানাধীন তিনটি অটোমেটিক রাইস মিল স্থাপন ও পরিচালনা করেন। ব্যবসার শুরুর দিকে তিনি নিয়মিত ঋণের কিস্তি ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করলেও পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
একই এলাকায় একাধিক নতুন অটোমেটিক রাইস মিল গড়ে ওঠায় প্রতিযোগিতা বেড়ে যায়। পাশাপাশি চাল উৎপাদনের ব্যয় বিক্রয়মূল্যের তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় পুরো শিল্পে সংকট তৈরি হয়। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন ওসমান গনি।
পরিস্থিতির কারণে তিনি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করতে পারেননি বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের এ রায়ের পর ওসমান গনি দেশের প্রথম দেউলিয়া ব্যবসায়ী হিসেবে ঘোষিত হয়েছেন—এমন দাবি করা হলেও বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি বা সরকারি সূত্রের যাচাই প্রয়োজন।