তিস্তার ভাঙনে সর্বস্ব হারানোর শঙ্কা, ঘর সরাচ্ছেন কয়েক পরিবার

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম

‎মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল, গঙ্গাচড়া, (রংপুর) প্রতিনিধি:

‎একদিকে তিস্তার তীব্র স্রোত, অন্যদিকে ভাঙনের হুংকার—আতঙ্কে রাত কাটছে রংপুরের গঙ্গাচড়ার তিস্তাপাড়ের মানুষের। লক্ষ্মিটারী ইউনিয়নের জয়রাম ওঝা চল্লিশ সাল চরে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। চোখের সামনে ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে, আর বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় কয়েকটি পরিবার ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নিচ্ছে নিরাপদ স্থানে। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে আরও বহু পরিবার সর্বস্ব হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে।

‎মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তার পানি প্রবাহের সঙ্গে চর ও তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ভাঙন চলছে। কোথাও কোথাও নদীর পাড় ধসে পড়ছে। ভাঙন থেকে বসতভিটা রক্ষায় স্থানীয়রা নিজেরাই ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। পাশাপাশি নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে আবাদি জমি।

‎স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ভাঙনের গতি অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই আরও বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।

‎স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, ‘নদী যেভাবে ভাঙছে, তাতে কখন বাড়িঘর নদীতে চলে যায় বলা যায় না। বাধ্য হয়ে ঘরসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছি। এরই মধ্যে ফসলি জমিও ভাঙনের মুখে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।’

‎লক্ষ্মিটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লা আল হাদী বলেন, ‘জয়রাম ওঝা চল্লিশ সাল এলাকায় তিস্তার ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। কয়েকটি পরিবার ইতোমধ্যে বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা ও পাইলিংয়ের কাজ শুরু করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

‎গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জেসমিন আক্তার বলেন, ‘তিস্তার ভাঙনের বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেছি। ভাঙনকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’‎

‎স্থানীয়রা বলছেন, তিস্তার ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা ও পাইলিংয়ের কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com