কুয়াকাটার গঙ্গামতি ধোলাই মার্কেটে বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে স্থাপনা ও বন বিভাগের গাছ কাটার অভিযোগ
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
তানজিল জামান জয়, কলাপাড়া:
কুয়াকাটা-গঙ্গামতি পর্যটন এলাকায় ফের বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে স্থাপনা নির্মাণের জন্য বন বিভাগের সৃজিত গাছপালা কেটে ফেলারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে একদিকে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ে পুনরাকৃতিকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধন করা বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য হুমকির মুখে পড়েছে, অন্যদিকে পর্যটন এলাকার পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৮ নম্বর পোল্ডারের প্রায় ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ কুয়াকাটা-গঙ্গামতি পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য রক্ষা, সাগরের ভাঙন প্রতিরোধ এবং স্থানীয় মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় পুনরাকৃতিকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১৯ সালে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধের মেরামত, পুনরাকৃতিকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়।
কুয়াকাটা সৈকতসংলগ্ন এলাকায় সাগরের ভাঙন রোধে কংক্রিটের ব্লক স্থাপন করা হয়। বাঁধের রিভার ও কান্ট্রি সাইটে বনায়ন করা হয় এবং বিভিন্ন অংশে ঘাসের আবরণ তৈরি করা হয়। পাশাপাশি পোল্ডারের নয়টি স্লুইসগেটও মেরামত ও নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে।
এর আগে শুধু বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে নির্মাণ করা ৬৭৩টি স্থাপনা অপসারণে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল **৭ কোটি ৩১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৭ টাকা**। বিপুল অর্থ ব্যয় করে দখলমুক্ত ও সংস্কার করা সেই বাঁধেই আবার নতুন করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে বুধবার কুয়াকাটা সৈকতের মিরাবাড়ি থেকে ঝাউবাগান পর্যন্ত এলাকায় দেখা যায়, বেড়িবাঁধের রিভার সাইটে ছোট-বড় অসংখ্য স্থাপনা গড়ে উঠেছে। সেখান থেকে গঙ্গামতি সেতু এলাকা হয়ে ধোলাই মার্কেট পর্যন্তও বিভিন্ন স্থানে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ধোলাই মার্কেটের দুই পাশে এখনও নির্মাণকাজ চলতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধের স্লোপের গাছপালা কেটে সেই জায়গাতেই দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ওই এলাকায় দুই শতাধিক ছোট-বড় স্থাপনা গড়ে উঠেছে বলেও স্থানীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে।
এভাবে বাঁধের স্লোপ দখল এবং গাছপালা কেটে স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত থাকলে বাঁধের স্থায়িত্ব ও বন্যা-জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে কুয়াকাটা-গঙ্গামতি পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য ও পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, একটি মধ্যস্বত্বভোগী চক্র এসব স্থাপনা নির্মাণে ভূমিকা রাখছে এবং স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের চিহ্নিত একটি অংশ দখলদারদের সহযোগিতা করছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ দ্রুত বন্ধ করে ইতোমধ্যে নির্মিত স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করতে হবে। পাশাপাশি বাঁধের গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই বাঁধ ও পর্যটন এলাকার পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী **মো. শাহআলম** জানান, কুয়াকাটা সৈকতের পাশে যেসব স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলো অপসারণে মাইকিং করা হয়েছে। ধোলাই মার্কেট এলাকায় নির্মিত স্থাপনা অপসারণেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কুয়াকাটা সি-বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ও কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) **মো. ইয়াসীন সাদেক** জানান, এসব স্থাপনা অপসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, গঙ্গামতি বিটের বন বিভাগের কর্মকর্তার কাছে বাঁধের সৃজিত গাছপালা কেটে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি দেখছেন বলে জানান। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—সরকারি অর্থে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে যে বাঁধ পুনর্নির্মাণ, সৌন্দর্যবর্ধন ও দখলমুক্ত করা হয়েছিল, সেই বাঁধে নতুন করে দখল ও স্থাপনা নির্মাণ কীভাবে বাধাহীনভাবে চলছে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে এর সমাধান চান তারা।