এনটিআরসিএ এর শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব: প্রাসঙ্গিক ভাবনা

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৫ এএম

 বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ্য শিক্ষক নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে NTRCA প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৫ সালে।

১ম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা: NTRCA প্রতিষ্ঠার পর ২০০৫ সালে প্রথম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন নিবন্ধন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে থাকে এবং শিক্ষকতার জন্য নিবন্ধন সনদ গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

সময়ের সঙ্গে পরীক্ষার কাঠামোতে পরিবর্তন আসে। বর্তমানে সাধারণত প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক—এই ধাপগুলো রয়েছে।

পরবর্তীতে শুধু সনদ দেওয়া নয়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিবন্ধনধারীদের সুপারিশ করার ব্যবস্থাও চালু হয়।

১৮তম নিবন্ধন পরীক্ষা ২০২৩ সালের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শুরু হয়ে এর লিখিত ও মৌখিক ধাপ ২০২৪–২০২৫ সময়ে সম্পন্ন হয়।

১৯তম নিবন্ধন নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা/প্রক্রিয়া হয়েছে; তবে বর্তমান পর্যন্ত কোন পরীক্ষাকে সর্বশেষ হিসেবে গণনা করা হচ্ছে

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মৌখিক ২০ নম্বর থাকলেও তা বাড়িয়ে ৩০ নম্বর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতিকে আরও মানসম্মত ও কার্যকর করার অংশ হিসেবে এ পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

 গত ১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার নম্বর কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২০ থেকে বাড়িয়ে ৩০ করার প্রস্তাব উঠে আসে। তবে প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার নম্বরে কোনো পরিবর্তন আনার বিষয়ে কোন প্রস্তাব করা হয়নি।

প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রার্থীদের মোট নম্বর হবে ২৩০। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ১০০, +লিখিত পরীক্ষায় ১০০ +এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৩০ নম্বর থাকবে।অর্থাৎ, প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার নম্বর অপরিবর্তিত রেখে শুধু মাত্র ভাইভা পরীক্ষার নম্বর ১০ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এনটিআরসিএর শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক—এই তিন ধাপে মূল্যায়ন করা হয়। নতুন প্রস্তাবের ফলে মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, উপস্থাপনক্ষমতা ও শিক্ষকতা পেশার উপযোগিতা মূল্যায়নে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তবে ভাইভার নম্বর ৩০ করার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে কার্যকর হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী প্রজ্ঞাপন বা বিজ্ঞপ্তির পরই বিষয়টি নিশ্চিতভাবে কার্যকর হবে।

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর না বাড়িয়ে পূর্বেটা বহাল রাখা উচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে মনে করেন মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধি করলেএতে দলীয়করণে প্রভাব পড়বে।  

তবে অন্যদিকে, ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও অভিন্ন মূল্যায়ন পদ্ধতি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন পরীক্ষার্থীরা। তাঁদের মতে, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হলে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট মানদণ্ড ও জবাবদিহি থাকা জরুরি।

এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যাশীরা।

 লেখক: একরামুল ইসলাম তুষার, কলামিস্ট, সহকারী অধ্যাপক আবুবকর বিশ্বাস মকছেদ আলী কলেজ, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com