শেকড় থেকে প্রবাস, বাংলা একাডেমিতে আহমেদ সৈয়দ শাহনুর
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৪ এএম
রফিকুল ইসলাম সাবুল :রংপুর প্রতিনিধি
শেকড় বাংলাদেশের সুনামগঞ্জে। ঠিকানা এখন বহু দূরের লিডস। কিন্তু ভূগোলের দূরত্ব বাংলা ভাষার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটিকে কখনও মলিন করেনি। বরং প্রবাসের জীবন, স্মৃতি, শেকড় ও সমকালকে সঙ্গে নিয়ে অব্যাহত থেকেছে তাঁর সাহিত্যচর্চা। সেই দীর্ঘ পথচলার স্বীকৃতি হিসেবে বাংলা একাডেমির সদস্য হলেন কবি ও কথাসাহিত্যিক আহমেদ সৈয়দ শাহনুর।
বাংলা কবিতা, কথাসাহিত্য, প্রবন্ধ ও গবেষণাধর্মী লেখায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই সাহিত্যিকের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৯। তাঁর লেখার পরতে পরতে উঠে এসেছে মানুষের জীবন, প্রেম, সমাজবাস্তবতা, ইতিহাস-ঐতিহ্য, জীবনসংগ্রাম এবং প্রবাসের বিচিত্র অভিজ্ঞতা। কাব্যগ্রন্থ ‘ক্ষণিকের সুখ’ পাঠকমহলে বিশেষভাবে পরিচিতি পেয়েছে।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুর (বুধরাইল) গ্রামের সন্তান আহমেদ সৈয়দ শাহনুর বর্তমানে যুক্তরাজ্যের লিডসে বসবাস করছেন। দীর্ঘ প্রবাসজীবন তাঁকে বাংলা সাহিত্য থেকে দূরে সরিয়ে নেয়নি। বরং প্রবাসের অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের শেকড়কে পাশাপাশি রেখে তিনি তৈরি করেছেন তাঁর নিজস্ব সাহিত্যভুবন। দেশের বিভিন্ন সাহিত্য সাময়িকী ও সংবাদপত্রের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরেও নিয়মিত তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়ে আসছে।
সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় তিনি। জাতীয় কবিতা পরিষদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলা সাহিত্যকে পরিচিত করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখে চলেছেন।
বাংলা একাডেমির সদস্যপদ পাওয়ার খবর প্রকাশের পর দেশ-বিদেশের লেখক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বার্তা।
নিজের এই অর্জনকে কী ভাবে দেখছেন আহমেদ সৈয়দ শাহনুর? তাঁর কথায়, “বাংলা একাডেমির সদস্য পদ লাভ আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। আমি এই স্বীকৃতিকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দেওয়ার প্রেরণা হিসেবে দেখছি।”
স্বীকৃতির সঙ্গে দায়িত্বও যে বাড়ে, তাঁর কথাতেই তার ইঙ্গিত। বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে ভবিষ্যতেও কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন তিনি।
একজন সাহিত্যিকের কাছে পুরস্কার কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি কখনও শেষ কথা নয়; বরং তা নতুন করে লেখার দায় তৈরি করে। আহমেদ সৈয়দ শাহনুরের ক্ষেত্রেও বাংলা একাডেমির সদস্যপদ তেমনই একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে মনে করছেন তাঁর শুভানুধ্যায়ীরা। বিশেষ করে প্রবাসে বাংলা সাহিত্যচর্চার পরিসরে তাঁর এই স্বীকৃতি আলাদা তাৎপর্য বহন করে।
দেশ থেকে দূরে থেকেও যে ভাষা একজন মানুষের স্মৃতি, অনুভব ও সৃষ্টির প্রধান আশ্রয় হয়ে থাকতে পারে, আহমেদ সৈয়দ শাহনুরের সাহিত্যযাত্রা তারই একটি উদাহরণ। সুনামগঞ্জের গ্রাম থেকে যুক্তরাজ্যের লিডস—দীর্ঘ এই পথ পেরিয়ে বাংলা একাডেমির সদস্যপদ তাঁর সাহিত্যজীবনে নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।