প্রশ্নবিদ্ধ আইন!

গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু কেন_ কে দেবে এর জবাব?

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম

আহা ! কোন দেশে বাস করছি আমরা ? সাম্প্রতিক সময়ে সমাজে ঘটে যাওয়া কিছু নৃশংস ঘটনা দেখে প্রতিটি বিবেকবান মানুষের মনে আজ এই প্রশ্নটাই বারবার উঁকি দিচ্ছে।

চোর বা অপরাধী সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করে কক্সবাজার মহেশখালীর মোহাম্মদ ফয়সাল নামে একটি ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ছেলেটির হাত- পা পিছনে বেধে পিঠের উপরে ইট দিয়ে কয়েকজন সজোরে কিল, ঘুসি মারছে। এভাবেই এক সময় মৃত্যু হয় ছেলেটির। 

মৃত্যুর আগে এই যুবকের অসহায় চাহনি বলে দেয়, হয়তো সে একটু বাঁচতে চেয়েছিল ! হয়তো বলার চেষ্টা করেছিল, আমি চুরি করিনি ! আমাকে বাঁচাও ! হয়তো মৃত্যুর আগেও ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর কথা, চার বছরের ছেলের কথা মনে করেছিল ফয়সাল।

বিচারহীনতার সংস্কৃতি, পরমতসহিষ্ণুতার অভাব এবং আইনের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা সমাজকে এক অন্ধকার গহ্বরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যখন সাধারণ মানুষ নিজেই বিচারক সেজে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, তখন সেখানে আর মানবতা বা সুশাসন বলতে কিছু অবশিষ্ট থাকে না।

একটি সভ্য সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার প্রধান শর্ত হলো আইন। আইন তৈরি হয়েছে সমাজের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তার নিশ্চিত করার জন্য। সমাজের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য। অপরাধীকে সনাক্ত করা, তার অপরাধের মাত্রা নির্ধারণ করা এবং সেই অনুযায়ী সঠিক শাস্তি নিশ্চিত করার একটি সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া রয়েছে।

আইনের মূল লক্ষ্যই হলো, যাতে কোন নিরপরাধ ব্যক্তি অন্যায় ভাবে শাস্তির মুখোমুখি না হয়। রাষ্ট্র ও সংবিধান দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবন রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে। কিন্তু মানুষ যখন নিজেই আইন নিজেই হাতে তুলে নেয়, তখন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মূল ভিত্তিটাই ভেঙে পড়ে।

যদি দেশের সাধারণ নাগরিকরাই আইন নিজের হাতে তুলে নেয় তবে আদালত, পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থার মত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অস্তিত্বের কোন যৌক্তিকতা থাকে না। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে যখন কেউ নিজের মনগড়া বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তখন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও শাসনব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ে।

আইন কোন ব্যক্তির একক সম্পত্তি নয় বরং এটি রাষ্ট্রের একটি সার্বজনীন ব্যবস্থা। তাই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অর্থ হল, রাষ্ট্রীয় আইন এবং সংবিধানকে সরাসরি অস্বীকার করা। যদি এই প্রবণতা চলতে থাকে, তবে দেশ একসময় এক আদিম ও বর্বর সমাজে পরিণত হবে।

লেখক - মোঃ ইলিয়াস হোসেন মাঝি, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। 

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com