দক্ষিণ আফ্রিকা–লেসোথো যৌথ অভিযানে ধ্বংস ১,৭৮৭টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
বিশেষ প্রতিনিধি সঞ্জয় মজুমদার
দক্ষিণ আফ্রিকা ও লেসোথোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথ উদ্যোগে গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে লেসোথোর বিভিন্ন অপরাধবিরোধী অভিযানে জব্দ করা ১,৭৮৭টি আগ্নেয়াস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট অস্ত্রাংশ ধ্বংস করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার গাউতেংয়ে অনুষ্ঠিত এ কার্যক্রমে দক্ষিণ আফ্রিকান পুলিশ সার্ভিস (SAPS) ও লেসোথো মাউন্টেড পুলিশ সার্ভিস (LMPS) যৌথভাবে অংশ নেয়।
লেসোথোর বিভিন্ন লক্ষ্যভিত্তিক আইনশৃঙ্খলা অভিযানে অস্ত্রগুলো জব্দ করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রের হেফাজতে নেওয়া হয়। লেসোথোতে এ ধরনের অস্ত্র ধ্বংসের সক্ষমতা সীমিত থাকায় সেগুলো নিরাপদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকায় স্থানান্তর করা হয়। দুই দেশের INTERPOL National Central Bureau অস্ত্রগুলোর আন্তঃদেশীয় পরিবহন সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ভারপ্রাপ্ত জাতীয় পুলিশ কমিশনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল পুলেং ডিমপানে এবং লেসোথো মাউন্টেড পুলিশ সার্ভিসের প্রধান কমিশনার বোরোথো মাতসোসো যৌথভাবে অস্ত্র ধ্বংস কার্যক্রমের তদারকি করেন। লেসোথোর পুলিশ প্রধান বলেন, দুই দেশের ধারাবাহিক সহযোগিতা মানবপাচার, গবাদিপশু চুরি, গাড়ি চুরি ও ট্রাক-সংক্রান্ত অপরাধের মতো সীমান্তপারের অপরাধ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ।
এই উদ্যোগকে শুধু জব্দ করা অস্ত্র ধ্বংসের একটি কার্যক্রম হিসেবে দেখছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ; বরং এটিকে সীমান্তপারের সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ তদন্ত ও সমন্বিত আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। SAPS জানিয়েছে, জব্দ করা অস্ত্র স্থায়ীভাবে ধ্বংস করার লক্ষ্য হলো সেগুলো যেন পুনরায় অপরাধী নেটওয়ার্কের হাতে ফিরে যেতে না পারে।
কার্যক্রমটি African Amnesty Month এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের ‘Silencing the Guns’ উদ্যোগের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। আফ্রিকান ইউনিয়নের Agenda 2063-এর বৃহত্তর লক্ষ্যগুলোর মধ্যে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার কমানো এবং শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদার করা অন্যতম।
দক্ষিণ আফ্রিকার জন্যও এটি একটি বৃহত্তর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অংশ। SAPS-এর তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরে সংস্থাটি ৩ লাখের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র ধ্বংস করেছে। এর মাত্র দুই মাস আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় আরও ১১,৮৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৪,০৮৯টি blank gun ও airgun ধ্বংস করা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের মূল্যায়নের পরিবর্তে সরকারি সংস্থাগুলোর বক্তব্যে যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠছে তা হলো—দক্ষিণ আফ্রিকা ও লেসোথো এখন সীমান্তপারের অপরাধকে পৃথক দেশের সমস্যা হিসেবে না দেখে সমন্বিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে মোকাবিলার দিকে এগোচ্ছে। অস্ত্র জব্দের পাশাপাশি তথ্য বিনিময়, আন্তঃদেশীয় তদন্ত ও INTERPOL-এর সমন্বয় অব্যাহত থাকলে দুই দেশের যৌথ অপরাধ দমন কাঠামো আরও বিস্তৃত হতে পারে।