পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ, আয়া পদে নিয়োগ অন্যজনকে

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২২ পিএম

মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি:

‎রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বিদ্যালয়ে আয়া পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে এক নারীর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিনবিনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাজিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘদিনেও চাকরি দেওয়া হয়নি; বরং ওই পদে অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। টাকা ফেরত চাইতে গেলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী।

‎এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সামছুনাহার বেগম (৪৮)। অভিযোগটি তদন্তের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও।

‎অভিযোগপত্র, ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে সামছুনাহারের মেয়ে মোছা. করিনা বেগমকে বিনবিনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়া পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলেন প্রধান শিক্ষক নাজিমুল ইসলাম। এ জন্য আট লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন সামছুনাহার। পরে ২০১৯ সালে তিন লাখ এবং ২০২২ সালে আরও দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার পরও তাঁর মেয়ের চাকরি হয়নি। পরে ওই পদে অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।

‎সামছুনাহার বেগম বলেন, ‘আমাদের বাড়ি স্কুলের পাশে। মেয়েকে আয়া পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আট লাখ টাকা দাবি করা হয়। প্রথমে তিন লাখ, পরে আরও দুই লাখ টাকা দিয়েছি। পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার পরও মেয়ের চাকরি হয়নি। অন্য একজনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এখন টাকা ফেরত চাইলে আমাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’

‎একই ধরনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, আয়া, নাইটগার্ড ও পিয়ন পদে স্থানীয়দের চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। এসব পদে চাকরির জন্য সাত থেকে আট লাখ টাকা এবং বাইরের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে আরও বেশি টাকা লাগবে বলে জানানো হয়েছিল।

‎রফিকুল ইসলামের ভাষ্য, তাঁর বোনের কাছ থেকে প্রথমে দুই লাখ এবং পরে আরও তিন লাখ টাকা নেওয়া হয়। টাকা দেওয়ার সময় প্রমাণপত্র চাইলে প্রধান শিক্ষক লিখিত কোনো কাগজ দিতে রাজি হননি। পরে চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

‎স্থানীয় এরশাদও একই অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, আয়া পদে চাকরির জন্য আট লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০১৯ সালে তিন লাখ ও ২০২২ সালে দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়। পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার পরও চাকরি হয়নি। পরে ওই পদে অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পারেন তাঁরা।

‎এরশাদ বলেন, ‘টাকা দেওয়ার সময় প্রমাণ চাইলে কোনো কাগজ দেওয়া হয়নি। পরে চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।’

‎আরেক স্থানীয় শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নাজিমুল মাস্টার চাকরি দেওয়ার কথা বলে পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছেন—এটা সত্য।’

‎অভিযোগকারীদের দাবি, টাকা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও চাকরি কিংবা টাকা—কোনোটিই পাননি তাঁরা। গত ২৭ আগস্ট বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে সামছুনাহারের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

‎এদিকে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের কেরানি আজিজুল বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে হেড স্যারকে অফিসে আসতে দেখিনি। তিনি শিক্ষা অফিসে কাজ আছে বলে বাসায় থাকেন। একবার তাঁর বাসায় গিয়ে তাঁকে সেখানে পেয়েছি। খোকন স্যারের মাধ্যমে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন বলেও জানি।’

‎বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীও প্রধান শিক্ষকের অনিয়মিত উপস্থিতির কথা জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, প্রধান শিক্ষক মাঝেমধ্যে বিদ্যালয়ে এলেও নিয়মিত তাঁকে দেখা যায় না।

‎তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক মো. নাজিমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সামছুনাহার যে অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভুয়া। আমার সম্মানহানি করার জন্যই তিনি এসব করেছেন।’

‎বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থাকার অভিযোগের বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. আরিফ মাহফুজ বলেন, তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি বিনবিনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে প্রধান শিক্ষককে আমার সামনে দুজন লোক আটক করেছিলেন। তাঁদের বাড়ি বিদ্যালয়ের পাশে। আমি প্রধান শিক্ষককে সাত দিনের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করতে বলেছি।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘তিনি তিন বছর ধরে বিদ্যালয়ে আসেন না—এ কথা ঠিক নয়। তিনি বিদ্যালয়ে আসেন, তবে কম আসেন।’

‎অভিযোগের বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘সামছুনাহারের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

‎ভুক্তভোগী সামছুনাহারের দাবি, অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে পাঁচ লাখ টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com