পঞ্চগড়ে প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষায় নতুন উদ্যোগ, শুরু ‘সিলেবাস থিয়েটার’
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ
পঞ্চগড় | ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় প্রান্তিক এলাকার শিশুদের পাঠ্যক্রমভিত্তিক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে নতুন উদ্যোগ হিসেবে শুরু হয়েছে ‘সিলেবাস থিয়েটার’ কার্যক্রম। পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন বিষয় নাট্যরূপ দিয়ে উপস্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখার পাশাপাশি অভিনয় ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) তেঁতুলিয়া উপজেলার সারিয়ালজোত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রাণ-প্রকৃতি, পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নবিষয়ক সংগঠন ‘কারিগর’ এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রত্যন্ত ও সাংস্কৃতিক সুবিধাবঞ্চিত এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে থিয়েটার চর্চার সংযোগ ঘটানোই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এরই অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের সাত দিনব্যাপী থিয়েটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাঁচটি শ্রেণির ২৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে একটি থিয়েটার ক্লাব।
প্রশিক্ষণে শুধু অভিনয় নয়, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব ও সৃজনশীলতা বিকাশে বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মেডিটেশন, ব্যায়াম, শুদ্ধ উচ্চারণ, সাবলীলভাবে কথা বলা, গল্পপাঠ, সংগীত, খাদ্যাভ্যাস, প্রকৃতি ও পরিবেশ এবং ইতিবাচক আচরণ। পাঠ্যক্রমের গল্প ও নাটকের পাশাপাশি এসব বিষয়েও শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভাবনা ও সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে নাটক তৈরি করছে এবং নিজেরাই তাতে অভিনয় করছে। এতে পাঠ্যবিষয়কে আনন্দের সঙ্গে শেখার পাশাপাশি তাদের আত্মবিশ্বাস ও প্রকাশভঙ্গি বিকাশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সারিয়ালজোত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের থিয়েটার ক্লাব ‘সারিয়াল থিয়েটার’-এর পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হয় ‘বাঁশিওয়ালা’ নাটক। নাটকটির নির্দেশনা দেন কারিগরের নির্বাহী পরিচালক সরকার হায়দার।
নাটকটিতে অভিনয় করে আরুশা, সারা, আশরাফি, রোমিও, মেহেদী, সাদিকুল, জেসিকা, রিমি, জান্নাতি, মনি, রাতুল, ইমরান, সোহান, বাইজিদ, নিহাদ, হ্যাপি, সামিয়া, ইতি, ফয়সাল, সৌরভ ও মাহিম।
নাটকটির ব্যবস্থাপনায় ছিলেন হাবিবুর রহমান (হাবিব), প্রযোজনায় রেজাউল ইসলাম। পোশাক ও প্রপস পরিকল্পনায় ফাহিম আহমেদ এবং সংগীত পরিকল্পনায় ছিলেন রইসউদ্দিন।
কারিগরের নির্বাহী পরিচালক সরকার হায়দার বলেন, প্রান্তিক এলাকার অনেক শিক্ষার্থী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও বৈচিত্র্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকে। পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়কে থিয়েটারের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলে তারা একই সঙ্গে শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি অভিভাবক ও স্থানীয় সুধীজনদেরও এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, পাইলট প্রকল্প হিসেবে তেঁতুলিয়া উপজেলার ১০টি বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ওই বিদ্যালয়গুলোতে প্রস্তুত করা ১০টি নাটক নিয়ে একটি নাট্য উৎসব আয়োজন করা হবে।
জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন বলেন, থিয়েটার শুধু অভিনয় শেখার বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানুষের কথা বলা, আচরণ, পোশাক, খাদ্যাভ্যাসসহ নানা ধরনের শিল্পচর্চা জড়িত। এ কারণে থিয়েটার প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দক্ষতা বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, পাঠ্যক্রমের বিষয়গুলোকে থিয়েটারের মাধ্যমে শিশুদের কাছে সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা হলে তাদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমাম রাজী টুলু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সীমা শারমিন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধি মকবুলার রহমানসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।