বোদায় মাদ্রাসার জমি নিয়ে বিরোধ, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দখলচেষ্টার অভিযোগ
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৬ এএম
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ
পঞ্চগড় | ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় একটি দাখিল মাদ্রাসার জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মাদ্রাসার জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ময়জউদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা মানববন্ধন করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ময়জউদ্দিন দাবি করেছেন, জমিটি তাঁদের বলে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা অভিযোগ জানিয়ে আসছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বোদা উপজেলার ফুলতলা পানিডুবি দারুচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় ৪৩ বছর ধরে জমিটি তাদের দখলে রয়েছে। নিয়মিতভাবে জমিটির খাজনাও পরিশোধ করে আসছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, ১৯৮৩ সালে ময়জউদ্দিনের বাবা মহিরউদ্দিন ওই জমি মাদ্রাসার নামে দান করেন।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গত শনিবার ময়জউদ্দিন ওই জমিতে বালু ফেলতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাদ্রাসার সামনে প্রতিষ্ঠানটির তৈরি কয়েকটি দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জমি রক্ষা ও দখলচেষ্টা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
মানববন্ধনে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার লাভলী বেগম বলেন, ‘গত শনিবার ময়জউদ্দিন মাদ্রাসার জমিতে বালু ফেলে দখলের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে মাদ্রাসার সামনে প্রতিষ্ঠানটির তৈরি দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসার জমি রক্ষা ও দখলের চেষ্টা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।’
মাদ্রাসার সভাপতি ফরহাদ হোসেন বলেন, মাদ্রাসার জমি অবৈধভাবে দখলের প্রতিবাদে তাঁরা মানববন্ধন করেছেন। জমি উদ্ধার, বন্ধ করে দেওয়া দোকানগুলো খুলে দেওয়া এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
ফরহাদ হোসেনের অভিযোগ, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ময়জউদ্দিন, তাঁর ছেলেসহ কয়েকজন মিলে মাদ্রাসার দোকানগুলো দখল করে সেখানে বালু ফেলেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ময়জউদ্দিন। তিনি বলেন, দলের প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা জমিটি নিজেদের বলে দাবি করে আসছেন। এ বিষয়ে কোনো সুরাহা না হওয়ায় গত শনিবার জমিটি তাঁরা দখলে নেন।
এ বিষয়ে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসার পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁকে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা পরিষ্কার হবে।
এদিকে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যে প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।