নামে ‘সততা স্টোর’, কার্যক্রমে যেন পুরোনো সেই দোকান
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
মোঃ তাইফুর রহমান, কালাই ( জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: ২৩.০৯.২০২৬
বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের সততা ও নৈতিকতার শিক্ষা দিতে চালু করা হয়েছিল ‘সততা স্টোর’ যেখানে পণ্য ক্রয়ের পর বাক্সে টাকা রেখে দেওয়ার কথা ছিল সম্পূর্ণ সততার ভিত্তিতে, কোনো বিক্রেতা বা ক্যাশিয়ার ছাড়াই। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে একদম ভিন্ন চিত্র। সদিচ্ছার অভাব, ব্যবস্থাপনার ত্রুটি কিংবা অবিশ্বাসের কারণে অনেক স্কুলেই এখন পাহারা বসিয়ে, বিক্রেতা ও ক্যাশিয়ার রেখে পরিচালিত হচ্ছে সততা স্টোরগুলো। ফলে সততার চর্চা তো দূরে থাক, উল্টো উদ্যোগটির মূল ভাবনাকেই বন্দি করা হয়েছে অনাস্থার বেড়াজালে।
গত মঙ্গলবার সরজমিনে কালাই উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট একটি কক্ষের টেবিলে সাজিয়ে রাখা হয়েছে চকলেট, খাতা,কলম,রাবার,শিঙাড়াসহ অন্যান্য । এক পাশে ঝুলছে চিপস ও চানাচুরের প্যাকেট। সেসবের পাশে দেয়ালে টানানো হয়েছে জিনিসপত্রের মূল্যতালিকা। তালিকার ওপর বড় হরফে লেখা সততা স্টোর। সেই সততা স্টোরের ভেতরে বসে আছেন নিজ প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক অথবা একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। শিক্ষার্থীরা তাদের কাছ থেকে খাতা-কলম, রাবার,স্কেল,বিস্কুট,চিপস তাদের হাতেই কিনছেন এবং সেই পণ্যের দাম নিচ্ছেন এবং বাকি টাকা তারা ফেরতও দিচ্ছেন। প্রশ্ন উঠছে, পাহারায় যদি বিক্রেতাই থাকেন, তবে শিক্ষার্থীদের ‘সততা চর্চা’ হবে কীভাবে?
পুনট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সৌমিক,রহিত,মুহিন,তাসকিয়া,সুমাইয়াসহ অনেকে জানান, পাহারা দেয়ার জন্য যদি মানুষই রাখা হয়,তবে শিক্ষার্থীরা নিজের বিবেকের কাছে সত থাকার শিক্ষাটা কীভাবে পাবে ? দুই একদিন হয়তো কেউ ভুলবশত টাকা না দিয়ে পণ্য নিতে পারে, কিন্তু বুঝিয়ে বললে তা ঠিক হয়ে যেত।
মোলামগাড়ি হাট দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিফ হোসেন,সোহরাব,হায়দার আলী,রিয়াদ হাসানসহ অনেকে জানান, তাদের বিদ্যালয়ের সততা স্টোর চালু হওয়ার পর প্রথম প্রথম খুব ভালো লেগেছিল। কোন দোকানবার ছাড়া কেনাকাটার তারা করেন নাই। কিন্তু তাদের মত কিছু ছাত্ররা ‘সততা স্টোর’ অনিয়ম করার কারণে তারা আগের মত আনন্দ আর পাননা।
মোলামগাড়ি হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.হায়দার আলী মন্ডল বলেন, “সততার স্টোরে” শুধু ছেলে-মেয়েরা যায়না, ওখানে আমাদের শিক্ষকরা যায় ওইজন্য ওই বিলগুলো নেয়ার জন্য। এর আগে আমি যেভাবে চালাই ছিলাম ছেলে মেয়েরা খেয়ে চলে আসে টাকা না দিয়ে। বাধ্য হয়ে আমি একজন স্কুলের নৈশ প্রহরিকে দায়িত্ব দিয়েছি।
পুনট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি সনাতনী হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষক সুধ্যন্য কুমার দাস জানান, সততা স্টোর শিক্ষার্থীদের মনে সততা ও দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলার একটি দারুণ সুযোগ ছিল। শিক্ষার্থীরা টাকা না দিয়ে পণ্য নিয়ে যাওয়ায় ক্যাশিয়ার হিসেবে থাকতে হচ্ছে। আমাদের আশা করতে হবে যে তারা তাদের ভুল থেকে শিখবে এবং শেষ পযর্ন্ত সততার মূল্য বুঝবে তারা।
বেগুনগ্রাম চশমায়ে উলুম দ্বি-মুখী ফাজিল মাদ্রাসার নাম না দেয়ার শর্তে এক শিক্ষক জানান, মাদ্রাসার সভাপতি “সততার স্টোর” নাম করে ক্যান্টিন চালু করেছেন। সেখানে “সততার স্টোর” নামে কোন দোকান নেই। এজন্য একজন চতুর্থ শ্রেণী লোক রাখা হয়েছে।
কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফয়সাল আহম্মেদ বলেন “সততা স্টোর”এভাবে চলার কথা না। আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।