পঞ্চগড়ে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগ, মাদ্রাসাছাত্রদের মানববন্ধন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ
পঞ্চগড় | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও স্থানীয় এক বিএনপি নেতার সম্মানহানির উদ্দেশ্যে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে মানববন্ধন করানোর অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার পানিডুবি বাজারে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ময়জউদ্দিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে ময়জউদ্দিন অভিযোগ করেন, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। তাঁর দাবি, পানিডুবি দারুচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে তাঁকে সালিশি বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। সেখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে জমি ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
ময়জউদ্দিনের অভিযোগ, পরবর্তীতে বিএনপি ও তাঁর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে সোমবার পানিডুবি বাজারে মানববন্ধন করানো হয়। এ ঘটনায় তিনি মাদ্রাসার সভাপতি ফরহাদ হোসেন ও ভারপ্রাপ্ত সুপার লাভলী বেগমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ানোর অভিযোগ এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ময়জউদ্দিনের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা করার অভিযোগ করা হয়েছে। এর আগে সোমবার মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা জমি রক্ষা এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন করেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি হিসেবে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে জমিটি প্রতিষ্ঠানটির দখলে রয়েছে এবং ১৯৮৩ সালে ময়জউদ্দিনের বাবা মহিরউদ্দিন জমিটি মাদ্রাসার নামে দান করেছিলেন।
মাদ্রাসার সভাপতি ফরহাদ হোসেন দাবি করেন, ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দাতাদের জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা ছিল। কিন্তু ময়জউদ্দিনের নেতৃত্বে ওই জমিতে মাটি ফেলে ঘরে তালা লাগিয়ে দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার লাভলী বেগমের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে, আগের দিনের অভিযোগের বিষয়ে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানিয়েছিলেন, মাদ্রাসার পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত প্রকৃত বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।