জামালপুরে সাংবাদিককে হেনস্তা, হুমকি ও মারধরের অভিযোগ

অবৈধ ওষুধ বিক্রির তথ্য চাওয়াতে সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেওয়া ও হেনস্তার অভিযোগ

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৭ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জামালপুরে সাংবাদিককে হেনস্তা, হুমকি ও মারধরের অভিযোগ; সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও তদন্তের দাবি

জামালপুর পৌরসভার দয়াময়ী মোড় সংলগ্ন এলাকায় যৌনপল্লীর ঠিক সম্মুখে অবস্থিত একটি ওষুধের দোকানে কথিত অবৈধ যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এক নাগরিক সাংবাদিককে হেনস্তা, হুমকি, মারধর এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ওষুধ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের অভিযোগ, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে জামালপুর পৌরসভার দয়াময়ী মোড় সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত লোহানী মেডিকেলে কথিত অবৈধ যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে যান তিনি। এ সময় দোকানের স্বত্বাধিকারী রাসেল লোহানী তার তথ্য সংগ্রহে বাধা দেন এবং একপর্যায়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক এস এম সায়েম হোসেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার পর মোবাইল উদ্ধারের সময় মারধর ও সাংবাদিককে জোরপূর্বক দোকানের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কথিত অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তাকে হুমকি, হেনস্তা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় তিনি নিজেকে নিরাপত্তাহীন বলেও অভিযোগ করেছেন।

ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রতিকার চেয়ে জামালপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সাংবাদিক এস এম সায়েম হোসেন। তার করা জিডির নম্বর ১২০৪, তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। জিডিতে ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সংশ্লিষ্ট দোকানে কথিত ওষুধ ব্যবসার নামে অবৈধ যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি হয়ে আসছে। বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তবে তথ্য সংগ্রহের সময় তার সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের কাজে বাধা এবং একজন সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে উদ্বেগ

ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকার কথা উল্লেখ করে ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানিয়েছেন, ঘটনার সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ফুটেজ সেখানে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঘটনার পর ওই ফুটেজ সরিয়ে ফেলা, মেমোরি কার্ড পরিবর্তন, সিসিটিভি ডিভাইস পরিবর্তন অথবা সংরক্ষিত ভিডিওতে কোনো ধরনের কারসাজি করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে এমনও জানা গেছে ঘটনার পরে উক্ত ব্যবসায়ী তার দোকানের সিসিটিভি সরিয়ে ফেলেছেন।

তার দাবি, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের স্বার্থে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাতের সংশ্লিষ্ট সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ দ্রুত সংরক্ষণ ও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দোকানের সিসিটিভি সিস্টেম, রেকর্ডিং ডিভাইস ও মেমোরি সংক্রান্ত তথ্য তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সাংবাদিকের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

সাংবাদিক এস এম সায়েম হোসেনের অভিযোগ, কোনো ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিককে হুমকি, হেনস্তা কিংবা শারীরিকভাবে বাধা দেওয়ার ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।

প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি

এদিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। একই সঙ্গে অবৈধ যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির অভিযোগের বিষয়টিও যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্তের দাবি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দোকানের বৈধ কাগজপত্র, বিক্রি করা ওষুধের ধরন, ওষুধের অনুমোদন, বিক্রির বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সিসিটিভি ফুটেজ দ্রুত সংরক্ষণের আহ্বান

ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে সম্ভাব্য সিসিটিভি ফুটেজ দ্রুত সংরক্ষণ করা জরুরি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। তার আশঙ্কা, সময় অতিবাহিত হলে সিসিটিভি সিস্টেমের পুরোনো ফুটেজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যেতে পারে অথবা কোনো কারণে তা আর পাওয়া নাও যেতে পারে।

তাই ঘটনার দিন ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টার সময়কে কেন্দ্র করে** সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, দোকানের ক্যামেরার রেকর্ড এবং আশপাশের প্রতিষ্ঠানের ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একজন সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলা, হুমকি কিংবা হেনস্তার শিকার হয়ে থাকলে সেটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে লোহানী মেডিকেলের স্বত্বাধিকারী রাসেল লোহানীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক এস এম সায়েম হোসেন জামালপুর থানায় করা জিডির ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত, ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে কথিত অবৈধ ওষুধ বিক্রির অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com