ইউপি নির্বাচন নিয়ে বড় পরিবর্তন: জানুয়ারি থেকে ভোট শুরু, ৬ জুন শেষ করার চিন্তা ইসির
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
মো: ছাব্বির হাসান,বিশেষ প্রতিনিধি,নওগাঁ
দেশের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রাথমিক পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসছে। আগে আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনার কথা জানানো হলেও এখন নভেম্বর-ডিসেম্বরের পরিবর্তে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে ভোট আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করছে কমিশন। তবে নতুন সময়সূচি, ধাপের সংখ্যা কিংবা প্রথম ভোটের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ ২০ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বর সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা থাকায় ভোটকেন্দ্র হিসেবে বিদ্যালয় ব্যবহার এবং শিক্ষকদের নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আগের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে কমিশন।
এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর ইসি জানিয়েছিল, দেশের নির্বাচনযোগ্য ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে সাত ধাপে ভোট আয়োজনের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনায় প্রথম ধাপে ১২ নভেম্বর প্রায় ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদে ভোট নেওয়ার কথা ছিল। পরবর্তী ধাপগুলোর সম্ভাব্য তারিখ ছিল ১৩ ডিসেম্বর, ৩০ ডিসেম্বর, ১৭ জানুয়ারি, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২২ এপ্রিল ও ২৭ মে। তবে এগুলোকে তখনই চূড়ান্ত তফসিল নয়, বরং প্রাথমিক সময়সূচি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে দেশের প্রায় ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদকে অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা করা হয়েছিল। চট্টগ্রাম ও কুমিল্লার তিনটি করে উপজেলা প্রথম ধাপে রাখার কথা বলা হয়েছিল। পাশাপাশি যেসব জেলায় ১০ বা তার বেশি উপজেলা রয়েছে, সেসব জেলার কয়েকটি উপজেলাকেও প্রথম ধাপে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল।
তবে প্রথম ধাপে কোন কোন ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হবে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, ইউনিয়নগুলোর মেয়াদ, প্রশাসনিক সুবিধা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচন পরিচালনার বাস্তবতা বিবেচনা করে ধাপভিত্তিক তালিকা প্রস্তুত করা হবে। ঠাকুরগাঁওকে প্রথম ধাপ থেকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় ধাপে রাখার প্রাথমিক পরিকল্পনাও ছিল, কারণ সেখানে উপনির্বাচনের বিষয় ছিল।
তবে প্রথম ধাপে কোন কোন ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হবে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, ইউনিয়নগুলোর মেয়াদ, প্রশাসনিক সুবিধা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচন পরিচালনার বাস্তবতা বিবেচনা করে ধাপভিত্তিক তালিকা প্রস্তুত করা হবে। ঠাকুরগাঁওকে প্রথম ধাপ থেকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় ধাপে রাখার প্রাথমিক পরিকল্পনাও ছিল, কারণ সেখানে উপনির্বাচনের বিষয় ছিল।
ইসি জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে আইন অনুযায়ী প্রায় ৪ হাজার ২৭২টি ইউনিয়ন পরিষদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের আওতায় আসার কথা। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী, পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে।
কমিশনের পরিকল্পনায় নির্বাচনকে একসঙ্গে না করে কয়েকটি ধাপে আয়োজনের কারণ হিসেবে বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা, রমজান, ঈদসহ বিভিন্ন সময়সূচির বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। প্রথম কয়েকটি ধাপে অধিকাংশ নির্বাচনযোগ্য ইউনিয়নের ভোট শেষ করার চিন্তা ছিল। আর শেষের ধাপগুলোতে আইনি জটিলতা বা অন্য কোনো কারণে আটকে থাকা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
বর্তমানে প্রায় ৫৬টি ইউনিয়ন পরিষদ আইনি জটিলতার মধ্যে রয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। এসব ইউনিয়নের নির্বাচন পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী ধাপে নেওয়া হতে পারে।
কেন সময়সূচিতে পরিবর্তন আসছে
নভেম্বর-ডিসেম্বরে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকায় ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হওয়ায় পরীক্ষা ও ভোট একই সময়ে পরিচালনা করা কঠিন হতে পারে। এ কারণে কমিশন এখন জানুয়ারি থেকে নির্বাচন শুরু করার সম্ভাবনা পর্যালোচনা করছে।
তবে কমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হচ্ছে ২০২৭ সালের ৬ জুনের মধ্যে ইউপি নির্বাচন শেষ করা। এই সময়সীমা মাথায় রেখেই নতুন ধাপ ও তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
এখনো যে বিষয়গুলো চূড়ান্ত হয়নি
বর্তমান পরিস্থিতিতে—
– প্রথম ভোটের তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়;
– জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ভোট শুরু হবে কি না, সেটিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়;
– মোট কত ধাপে নির্বাচন হবে, তা পুনর্নির্ধারণ হতে পারে;
– কোন উপজেলার কোন ইউনিয়নে কোন ধাপে ভোট হবে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ হয়নি;
– আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী তফসিলও ঘোষণা করা হয়নি।