দক্ষিণবঙ্গের বৃহত্তম মন্দির মঠবাড়িয়ার রাজমন্দিরে ১৬০ প্রতিমায় দুর্গাপূজা
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
সালমান আহসান বাবু, মঠবাড়িয়া :
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় চলছে জাঁকজমকপূর্ণ প্রস্তুতি। উপজেলার গুলিসাখালী ইউনিয়নের কবুতরখালী গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘রাজমন্দির’ প্রাঙ্গণে চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা ও প্রতিমা রূপায়ণের ব্যস্ততা। আয়োজকদের দাবি, বৈচিত্র্যময় থিম ও বিশাল পরিসরের কারণে এটি হতে যাচ্ছে এবারের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বড় পূজায়োজন। প্যান্ডেল নির্মাণ, রঙ-তুলির কাজ আর আলপনায় রূপ নিচ্ছে গোটা মন্দির আঙিনা।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৫ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। বিগত বছরগুলোতে প্রতিমার সংখ্যা আরও বেশি থাকলেও, এবার প্রতিমা কিছুটা কমিয়ে থিমেটিক বৈচিত্র্য ও সার্বিক গুণমানের ওপর বাড়তি জোর দেওয়া হয়েছে। বিশাল আঙিনাজুড়ে স্থান পাচ্ছে দেব-দেবীর মোট ১৬০টি সুদৃশ্য প্রতিমা।
ব্যতিক্রমী এই পূজার মূল উদ্যোক্তা অর্থোপেডিকস বিশেষজ্ঞ ডা. সুদীপ কুমার হালদার ও তাঁর স্ত্রী গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. স্নিগ্ধা চক্রবর্তী। স্থানীয় একঝাঁক উদ্যমী তরুণ-তরুণীকে সাথে নিয়ে হালদার বাড়িতে এই মহাযজ্ঞের আয়োজন করছেন তাঁরা। ২০১৬ সালে মাত্র ৪০টি প্রতিমা নিয়ে এই যাত্রার সূচনা হয়েছিল, যা সময়ের সাথে পরিধি বেড়ে আজ এই বিশাল রূপ নিয়েছে।
কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতাই নয়, এই আয়োজনটি রূপ নিয়েছে মানবিক ও সামাজিক সচেতনতার এক অনন্য মিলনমেলায়। অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে মন্দির এলাকায় টাঙানো হয়েছে দেশের গুণীজনদের ছবি ও নীতিবাক্য সংবলিত ব্যানার। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে ও সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে এবার যুক্ত করা হয়েছে ব্যতিক্রমী সব সেবা।
আয়োজক ডা. সুদীপ কুমার হালদার জানান, "আমাদের লক্ষ্য শুধু পূজা উদযাপন নয়; সব ধর্মের মানুষের একটি মেলবন্ধন তৈরি করা এবং সমাজের ইতিবাচক বার্তাগুলো সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া।"
ডা. স্নিগ্ধা চক্রবর্তী জানান, পূজামণ্ডপে আসা মায়েদের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ 'ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার', যেখান থেকে স্যানিটারি প্যাডও বিতরণ করা হবে। এছাড়া ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুরে রয়েছে হাজারো মানুষের জন্য গণভোজের ব্যবস্থা। থাকবে দুস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা।
প্রতিমা শিল্পী উজ্জ্বল বিশ্বাস জানান, দীর্ঘ চার-পাঁচ মাসের নিবিড় শ্রমে এসব শৈল্পিক প্রতিমা রূপ পেয়েছেন। এত বড় পরিসরের কাজ করার অভিজ্ঞতা সত্যিই আনন্দদায়ক।
মঠবাড়িয়া থানা অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম জানান, বিশাল এই আয়োজন ও ভক্তদের আগমনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইতিমধ্যে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনসার ও আয়োজকদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবে।